পরীক্ষামূলক প্রচার...
Mohajog-Logo
,
সংবাদ শিরোনাম :

নারীর ওপর যৌন হামলা ঠেকাতে অভিনব জ্যাকেট উদ্ভাবন

যৌন হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে মেক্সিকোর চারজন শিক্ষার্থী মিলে একটি জ্যাকেট উদ্ভাবন করেছেন। বলা হচ্ছে, এই জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় থাকলে কেউ যখন তার উপর হামলা চালাতে আসবে তখন জ্যাকেটের হাতা থেকে হামলাকারীর গায়ে বৈদ্যুতিক শক লাগবে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা যে শহরে আছেন, সেখানে ধর্ষণের মতো যৌন হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণে তারা এরকম একটি জ্যাকেট তৈরি করতে উৎসাহিত হয়েছেন। খবর বিবিসির।

তারা বলছেন, এই বৈদ্যুতিক শকের তীব্রতা এতোটাই কম যে এর ফলে জ্যাকেটটিকে কোন ধরনের অস্ত্র হিসেবে গণ্য করা যাবে না। তবে এর মাধ্যমে যে কোন ধরনের যৌন হামলা ঠেকানো সম্ভব হবে।

পরীক্ষামূলকভাবে তৈরি এই জ্যাকেটের নাম দেওয়া হয়েছে ওমেন ওয়েরাবেল। প্রকৌশল, আইন ও রোবটিক্স বিভাগের চারজন শিক্ষার্থী মিলে এই জামাটি তৈরি করেছেন।

তারা সবাই পুয়েবলা শহরে মন্টেরি ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি এন্ড হায়ার এডুকেশনে পড়াশোনা করেন। নতুন নতুন পণ্যের বানিজ্য নিয়ে ক্লাসে পরীক্ষামূলক কাজের অংশ হিসেবেই তারা এটি উদ্ভাবন করেছেন।

‘আমাদের অনেক বান্ধবী ও পরিচিতদের কাছে শুনেছি যে তাদের উপর নানা ধরনের যৌন হামলা চালানো হয়েছে। এধরনের সহিংসতার ওপর কিছু গবেষণার পর আমরা এই জ্যাকেটের ধারণাটি নিয়ে এসেছি,’ বলেছেন শিক্ষার্থীদের একজন পারা কুইরোজ। সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, পুয়েবলা শহরে প্রতিদিন প্রায় তিনটি করে যৌন হামলার ঘটনা ঘটছে।

কীভাবে কাজ করে এই জ্যাকেট?

শিক্ষার্থীরা প্রথমে সুতার তৈরি একটি ট্র্যাক সুট কিনে আনেন। তারপর তার লাইানিং-এর ভেতরে ৯ ভোল্টের একটি ব্যাটারি, একটি ট্রান্সফরমার এবং কিছু তার ঢুকিয়ে দেন। এগুলো এমনভাবে পেঁচানো অবস্থায় থাকে যে যিনি এই জ্যাকেট পরবেন তার গায়ে বিদ্যুতের শক লাগবে না।

বিদ্যুৎ চালু ও বন্ধ করার জন্যে সেখানে একটি সুইচ বা বোতাম লাগানো আছে। আছে একটি এলইডি বাতিও। রোবটিক্সের শিক্ষার্থী গিওয়ান পার্ক সার্কিটের নকশা তৈরি করেছেন।

তিনি বলেছেন, জ্যাকেটের একটি বোতামের মাধ্যমে এর ভেতরে বিদ্যুৎ চালু করা হয়। লাইট জ্বলে উঠতে বুঝতে হবে যে নিজেকে রক্ষা করার জন্যে জামাটি তৈরি হয়ে গেছে।

এরকম অবস্থায় যখন কেউ জ্যাকেটের হাতার ইলেকট্রোডকে স্পর্শ করবে তখন সার্কিটটি বন্ধ হয়ে যাবে এবং যিনি স্পর্শ করবেন তার গায়ে বিদ্যুতের শক লাগবে।

তখন হামলাকারী হতভম্ব হয়ে যাবেন এবং তখনই নির্যাতিত নারী দৌড়ে পালাতে পারবেন এবং তিনি যে হামলার শিকার হয়েছেন সেটা তিনি আশেপাশের লোকজনকে জানানোর সুযোগ পাবেন।

এটা কি বৈধ?

আইনের শিক্ষার্থী গুয়াদালোপ মার্তিনেজ বলেছেন, এর ফলে আইনের লঙ্ঘন হবে না। কারণ এটি ‘আত্মরক্ষার একটি হাতিয়ার’।

তিনি বলেন, এখানে বৈদ্যুতিক শকের মাত্রা খুব কম। এর ফলে কারো জীবনের উপর হুমকি তৈরি হবে না। আর একারণে এই জ্যাকেটটি কোন ধরনের অস্ত্র হিসেবেও বিবেচিত হবে না।

দাম কতো হতে পারে?

পরীক্ষামূলকভাবে এই জ্যাকেটটি তৈরি করতে সময় লেগেছে তিন মাসের মতো। উদ্ভাবক শিক্ষার্থীরা বলেছেন, তারা এটিকে আরো কিছুটা উন্নত করতে চান। এতে সেন্সর লাগাতে চান। চান জ্যাকেটের হাতা ছাড়াও অন্যান্য জায়গাতেও ইলেকট্রোড বসাতে।

তারা বলছেন, এই প্রযুক্তি হয়তো পরে ব্লাউজ, স্কার্ট এবং ট্রাউজারের মতো পোশাকেও লাগানো যেতে পারে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা প্রায় ৫০ ডলার দামে তাদের তৈরি এই জ্যাকেট বিক্রি করবেন।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *