পরীক্ষামূলক প্রচার...
Mohajog-Logo
,
সংবাদ শিরোনাম :

‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছি, প্যারোলের কথা বলিনি’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চেয়েছি, প্যারোলের কথা বলিনি।রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক গণঅনশনে তিনি এ কথা বলেন।

এদিন সকাল সাড়ে ১০ টায় অনশন শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৪ টা ৩৭ মিনিটো। অনশনে সভাপতিত্ব করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে’ এ গণঅনশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ফখরুল বলেন, আমরা বলেছি, খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। তবে আমরা কোন প্যারোলের কথা বলিনি। আর যেকোন মূল্যে বেগম জিয়াকে মুক্তি করতে হবে। আর সেই জন্য মুক্তির আন্দোলন আমাদেরকে শুরু করতে হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বেগম জিয়ার কোন চিকিৎসা হচ্ছে না। এজন্য আমরা বিশেষায়িত হাসপাতালে চেয়েছি। কিন্তু সেটার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আর ঐক্যবদ্ধের মধ্যে দিয়ে বেগম জিয়াকে মুক্ত করি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, অবৈধ সরকারের কাছে মুক্তি দাবি করে লাভ নেই। কারণ গণতন্ত্রও বেগম জিয়ার মতই সরকারের বাক্সে বন্দি। গণতন্ত্রও কারাগারে। তাই আমাদেরকে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। আর গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে আগে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, আর বেশীদিন সরকার বেগম জিয়াকে কারাগারে রাখতে পারবে না। এজন্য দলকে সুসংগঠিত করে জনগণের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই আমাদের বিজয় হবে।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমি আইনজীবী হিসেবে বলবো, আইনী প্রক্রিয়ায় বেগম জিয়াকে দ্রুত মুক্ত করা যাবে না। আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, এই প্রক্রিয়ায় বেগম জিয়ার মুক্তি হবে না। তাহলে প্রক্রিয়াটা কি? যারা মুক্তি চান তাদেরকেই প্রক্রিয়াটা বের করতে হবে। কারণ দয়া ও মায়া দিয়ে বেগম জিয়াকে মুক্তি করা যাবে না।

এদেশে নেতৃত্ব শুন্য করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা আব্বাস।

দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, প্যারোলে বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি আবেদন করলে সরকার ভেবে দেখবে। আমি বলবো, আপনাদের বেশি দিন নাই। আর আপনাদের প্রধানমন্ত্রী প্যারোলে মুক্তি নিয়েছেন। আমাদের নেত্রী বেগম জিয়া প্যারোল চেনে না। আর কখনো নেননি। আর সময় আসবে কবরে যেতেও আপনাদেরকে প্যারোল নিতে হবে। সুতরাং গণতান্ত্রিক নেত্রীর গণতান্ত্রিকভাবে মুক্তি পাবে। আর প্যারোলে মুক্তি দিলে তাহলে আপনারা আদালতে গেয়ে কেনো বাধা দেন? আমরা কারো দয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই না। আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা বেগম জিয়াকে মুক্তি করবো।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা আন্দোলন নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক করতে চাই। কারণ নেত্রী এটাই বলে গিয়েছেন। এটা সম্ভব যদি আমরা রাজপথে নামি। আর হয় আমরা বেগম জিয়াকে মুক্ত করে আনবো, না হয় তার কাছে চলে যাবো। অনশনে বিএনপিন সিনিয়র নেতারা মিলনায়তনের মঞ্চে কার্পেটের ওপরে বসে অনশন করেন। অপরদিকে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীর দর্শক সারির চেয়ারে বসে অনশনে করতে দেখা গেছে।

গণঅনশনে মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই-খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে, জেলের তালা ভাঙবো খালেদা জিয়াকে আনবোসহ বিভিন্ন স্লোগানে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মিলনায়তনে মুখরিত করেন তুলেন নেতাকর্মীরা।

কেন্দ্রীয় ঘোষিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল ৯ টা থেকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে জড়ো হোনন।

অপরদিকে বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদেরকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন ও আশ-পাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার বলয় গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরকেও মোতায়েন করা হয়েছে।

অনশনে বিএনপি নেতা ড. মঈন খান, আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুল আউয়াল মিন্টু, বেগম সেলিমা রহমাস, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, শামসুজ্জামান দুদু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমদ আযম খান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, মুজিবর রহমান সারোয়ার, এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, আব্দুস সালাম আজাদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শামীমুর রহমান শামীমসহ দলটি অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও. কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনশনে সংহতি প্রকাশ করে ২০ দলীয় জোট নেতা সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, সাইফুদ্দিন মনিসহ প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ সবাইকে পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *