পরীক্ষামূলক প্রচার...
Mohajog-Logo
,
সংবাদ শিরোনাম :

পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, রণক্ষেত্র চবি

চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। রোববার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। পুলিশের লাঠিচার্জে ২ ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ছাত্রলীগের ছোড়া ইট-পাটকেলে ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে ডিবি পুলিশের গাড়ি।

সূত্র মতে, ধর্মঘটের শুরুতেই তারা শাটল ট্রেন আটকে দেয়া হয়। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে শাটল ট্রেনের কয়েকটি বগির হোস পাইপ কেটে দেয়ার ঘটনা ঘটে। সকাল পৌনে ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় জিরো পয়েন্টে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ সময় তারা প্রধান ফটক আটকে দিয়ে অস্ত্র মামলায় কারাগারে থাকা ৪ ছাত্রলীগ কর্মীকে মুক্তিসহ ৪ দফা দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা জিরো পয়েন্টে আসেন। তারা দফায় দফায় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে কর্মীদের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করতে অনুরোধ করেন এবং উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে যেতে বলেন। কিন্তু তাতে আশ্বস্ত না হয়ে কর্মীরা তাদের অবস্থানে অটল থাকে। এ সময় তারা উপাচার্যকে তাদের এখানে আসতে স্লোগান দিতে থাকেন।

বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে জিরো পয়েন্টের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয় পুলিশের জলকামান। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দোলা রেজা হ্যান্ডমাইকে ছাত্রলীগ কর্মীদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করে বলেন, মামলা ও মুক্তির বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন সহযোগিতা করবে। তাতেও রাজি হয়নি ছাত্রলীগ কর্মীরা। পরে পুলিশের জলকামানের গাড়ি ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় পুলিশ সামনে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা ফটক লাগিয়ে পুলিশকে ধাক্কা দেয়। এতে উভয় পক্ষ বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে শুরু হয় পুলিশের লাঠিচার্জ। ছত্রভঙ্গ হয়ে যান ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ সময় পুলিশ জিরো পয়েন্টে এবং ছাত্রলীগ কর্মীরা কাটা পাহাড়ের রাস্তায় ও শাহ জালাল হলের সামনে অবস্থান নিয়ে পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।

এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হলে চলে যায়।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউদ্দোলা রেজা বলছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আটকের বিষয়ে পরে জানানো হবে।

এদিকে অস্ত্র মামলায় আটক ছাত্রলীগ কর্মীদের মুক্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরীর পদত্যাগসহ ৪ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামে ছাত্রলীগ। দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানায় তারা।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *