1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন

নকল বা মুখস্থ নয় দরকার সৃজনশীল এবং সুশিক্ষার

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৭৫ বার

রহমান মৃধা

স্কুলে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হচ্ছে দেখে ভালো লেগেছে। আমাদের সময় এমনটি সম্ভব হয়নি যা এখন হচ্ছে। এখন দরকার প্রশিক্ষণ এবং পরীক্ষারধরণ পাল্টানো যাতে করে দেশে ভালো, সৃজনশীল এবং সুশিক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়। কারণ শিক্ষা এমন একটি বিষয় যা বিক্রি করতে না পারলে হতাশা গুদামজাত হয় এবং পরে তা অকেজো হয়ে সমাজে অশান্তির সৃষ্টি করে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে নকল দিয়ে আসলে আমরা কি শিখাচ্ছি? এমন প্রশ্নের উত্তর দেশে রয়েছে।

পরীক্ষার হলে নকল দিয়ে বাচ্চাদের ভালো প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে নকলের ওপর তাতে কোনো সন্দেহ নেই। শিক্ষা প্রশিক্ষণে নকল শেখানো হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা তা শিখছে যার কারণে ভোটচুরি, নকল, দুর্নীতি এবং ভেজালের ওপর দেশে বেস্ট প্রাক্টিস চলছে।

সার্টিফিকেট থাকবে হাতে অথচ তাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যাবে না, তা তো হতে পারে না। বাংলাদেশে ভুরি ভুরি সার্টিফিকেটধারী শিক্ষার্থী হয়েছে তুলনা করলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে। একইসঙ্গে বেকারত্বের হারও অনেকগুণ বেশি তুলনা করলে অন্য দেশের সঙ্গে।

হয়ত বলা হবে লোক সংখ্যার তুলনায় কর্মের হার কম যার কারণে বেকারের সংখ্যা বেশি। আমাদের দেশ কৃষি কাজে ভালো বিধায় অধিক ফলনের কারণে দেখা যায় কৃষক ন্যায্য মূল্য পায় না।

সেক্ষেত্রে অনেক সময় রাগ করে উৎপাদিত ফসল পুড়িয়ে ফেলে। আবার দেখা যায় চাহিদার তুলনায় ফসলের উৎপাদন কম হলে দেশে সঙ্কট দেখা দেয়, সিল্ডিকেট করা হয়, সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য।

এমন দুষ্টু লোকেরও অভাব নেই দেশে। এ ধরণের সমস্যার সমাধানের জন্য নানা ধরনের পরিকাঠামো রয়েছে, যাদের কাজ দেশের অবকাঠামোর ধ্রুব উন্নতি (constant improvement) সাধন করা। এসব কর্তৃপক্ষ যখন তা করতে ব্যর্থ হয় তখন দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ দেখা দেয়। সব সময় সমস্যা, সমস্যা আর সমস্যা। একটার সমাধান করতেই আরেকটি এসে হাজির হয়। যেমন শিক্ষার ওপর নানা ধরনের রদবদল করা হচ্ছে, ভালো মন্দ দুটোই হচ্ছে স্বত্বেও স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে না। যেহেতু জনবহুল দেশ, সীমিত সুযোগ সুবিধা আমাদের তাই সব সময় সৃজনশীল উপায়ে (creative way) সমাধান খুঁজতে হবে।

‘surround yourself with those on the same mission as you.’ সে ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যে যেমন জার্মানিতে প্রাইমারি স্তরের তৃতীয় শ্রেণী থেকেই শিক্ষার্থীর যাচাই বাছাই করা হয়, কোন শিক্ষার্থী কি পড়বে বা কার পক্ষে কি হওয়া সম্ভব। অনেকটা আমাদের দেশের কৃষকদের মত। যেমন তারা জ্যৈষ্ঠ মাসে পাট নিড়ানী ও বাছাই কাজ সম্পন্ন করে, কোন পাটগাছ ভালো হবে এবং কোন গাছটি হবে না তার ওপর যাচাই বাছাই করে, ভালো পাট উৎপাদনের জন্য।

জার্মান শিক্ষা প্রশিক্ষণ পদ্ধতির মত স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে নবম শ্রেণীর পর সিদ্ধান্তে উপনিত হয়, শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষা হবে নাকি কর্ম জীবন বেছে নিবে। তবে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানদের প্রশিক্ষণের দরজা খোলা থাকে যদি কেউ পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষা নিতে চায়, যা জার্মানিতে সম্ভব নয়। কারণ এদের বেলা বাছাই পর্ব শেষ হলে নতুন কোন সুযোগ নেই উচ্চ শিক্ষার জন্য। পাশ্চাত্যের শিক্ষা মডেলকে বিবেচনা করে বাংলাদেশের প্রশিক্ষণের কিছুটা রদবদল করতে পারলে দেশের শিক্ষার মান বাড়বে বই কমবে না।

সে ক্ষেত্রে যেমন যারা অষ্ঠম শ্রেণী শেষ করেছে, পড়ার প্রতি আগ্রহ কম বা কর্মে জড়িত হতে চায়, তাদেরকে সেভাবে সুযোগ করে দেয়া যেতে পারে যেমন কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা (one the job training)। জোর করে যেহেতু ভালো কিছু করানো সম্ভব নয় তখন শিক্ষার্থীর চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ধরণ তৈরি করে নাগরিকের হাতে দেশের দায়ভার তুলে দেয়া হতে পারে সাফল্যের এক চমৎকার পরিকল্পনা ( plan for success)। মনে রাখতে হবে শিক্ষার্থীর সাফল্য মানেই দেশের সাফল্য।

একজন শিক্ষার্থী যদি অর্ধশিক্ষা গ্রহণ করে এবং বেকার হয়ে জীবন শুরুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যয় করে এবং পরে যদি সে কোন কর্ম জোগাড় করতে সক্ষম হয়, তার থেকে তেমন আশানুপাত ফলাফল পাওয়া সম্ভব হয় না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় “they are just good for nothing” কথাটি অপ্রিয় হলেও সত্য। সৃজনশীলতা এবং সহনশীলতা দুটো ভিন্ন জিনিস, একথা মনে রেখে দেশের শিক্ষা প্রশিক্ষণ পরিকাঠামোর ওপর কাজ করা আশু প্রয়োজন। আসুন নিজ এবং দেশের স্বার্থে- surround ourselves with people that inspire and encourage positive change in our life, be with them.

 

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog