1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন

নতুন ক্লাসে ভর্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১১০ বার

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাসহ নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষ পার করলেও আগামী বছরের শুরুতেই স্কুলের নতুন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। বিভিন্ন মহলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার টিউশন ফি বাদে অন্য সাতটি খাতে ফি আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার নির্দেশনা অভিভাবকদের জন্য কিছুটা সহায়ক হলেও নতুন ক্লাসে ভর্তি ফি নিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তারা বর্তমানে নির্ধারিত মোটা অঙ্কের ভর্তি ফি অন্তত অর্ধেক করাসহ করোনাকালীন মাসিক টিউশন ফি কমানোর জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু গতকাল রোববার আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের দাবি ছিল করোনাকালে টিউশন ফি অন্তত অর্ধেক কমানো। কিন্তু সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। টিউশিন ফি‘র বাইরে সাতটি খাতে কোনো ফি না আদায়ের জন্য মাউশির পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও তাতে খুব বেশি লাভ হয়নি অভিভাবকদের। কারণ, ভর্তির সময় বছরের শুরুতেই এসব খাতে টাকা নিয়ে নেয় বেসরকারি স্কুলগুলো। আর মূল টিউশন ফি মোটেও কমেনি। তিনি বলেন, অভিভাবকদের সামনে নতুন উদ্বেগের বিষয় রয়েছে নতুন ক্লাসে শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে। সরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তি ফি কম হলেও বেসরকারি স্কুলে সর্বশেষ ভর্তি ফি ছিল ৫ হাজার ও ৮ হাজার টাকা। এ বছর এ ফি কত হবে, তা

এখনও জানানো হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিগগিরই জানানোর কথা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ভর্তির সময় উন্নয়ন ফি বাদ দিয়ে শুধু ভর্তি ফি নেওয়া, পুনঃভর্তি ও ভর্তি ফি নির্ধারণ, করোনাকালীন টিউশন ফি কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করার দাবি জানান এ অভিভাবক নেতা।

সূত্র মতে, গত ২৫ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, এ বছর স্কুলের সব শ্রেণিতে ভর্তি হবে লটারির মাধ্যমে। লটারির বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছিলেন। ৭ ডিসেম্বরে মধ্যে এ সংবাদ সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হলেও তা এখনও ঠিক হয়নি বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের রোববার আলোকিত বাংলাদেশকে জানিয়েছেন।

এদিকে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি আদায় নিয়ে নানা জটিলতা এবং অভিভাবকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পক্ষ থেকে টিউশন ফি আদায়ের বিষয়ে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয় মাউশির আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি ছাড়া অন্য কোনো খাতে টাকা নিতে পারবে না। যেমন অ্যাসাইনমেন্ট, টিটিন, পুনঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন ও উন্নয়ন বাবদ কোনো ফি গ্রহণ করা যাবে না বা গ্রহণ করা হলে তা ফেরত অথবা টিউশন ফি’র সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

অন্যদিকে কোনো অভিভাবক চরম আর্থিক সংকটে থাকলে তার সন্তানের টিউশন ফি’র ব্যাপারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে বিশেষ বিবেচনা করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে যতশীল হতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের শুরুতে যদি কোভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এমন কোনো ফি যেমন টিফিন, পুনঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন, উন্নয়ন ফি নেবে না, যা ওই নির্দিষ্ট খাতে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় করতে পারবে না। তবে নির্দেশনাও এও বলা হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় আগের মতো সব ধরনের যৌক্তিক ফি নেওয়া যাবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুব বেশি খুশি না হলেও কিছুটা ছাড় পেয়ে এরই মধ্যে এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ফি পরিশোধে স্কুলগুলোয় ভিড় করছেন। কারণ অনেকেই ফি পরিশোধে ছাড়ের এ অপেক্ষায় ছিলেন। এখন বছরের শেষ প্রান্তে এসে যেটুকু ছাড় পেয়েছেন, তাতেই সন্তষ্ট থেকে ফি পরিশোধ করছেন সবাই। ক্ষতিগ্রস্ত অভিভাবকদের কেউ কেউ আবার বিশেষ সুবিধা নিতে আবেদন করছেন। সব মিলিয়ে বকেয়া বেতন পরিশোধ আর নতুন শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে অভিভাবকদের অর্থনৈতিকভাবে বেশ চাপে পড়তে হচ্ছে।

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী মনিপুর স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর একজন অভিভাবক জানান, তাদের মাসিক ১ হাজার ৪০০ টাকা ফি পরিশোধ করতে হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ২৫০ টাকা টিউশন ফি, ১০০ টাকা আইসিটি বাবদ এবং ৫০ টাকা মেইনটেনেন্স বাবদ নেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক টিউশন ফি বাদে ১৫০ টাকা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত অভিভাবকদের জন্য কিছু ছাড়ের ব্যবস্থা রেখেছে স্কুলটি।

মোহাম্মদপুর ফাউন্ডেশন স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, তার সন্তানের জন্য মাসিক ৫ হাজার ৫৫০ টাকা বেতন দিতে হয়। সরকারি নির্দেশনার পর স্কুলটি ১২ মাসের বেতনে সর্বমোট ৮ হাজার ৮২০ টাকা ছাড় দিয়েছে।

এই দুই স্কুল ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক তাদের সন্তানের নতুন শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। কারণ, জানুয়ারির শুরুতেই মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তাদের ভর্তি করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ছাড় দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে লটারির মাধ্যমে নতুন ভর্তির ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

করোনা পরিস্থিতিতে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির এক পর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে সংসদ টিভিতে ক্লাস সম্প্রচার এবং অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে ব্যাপকসংখ্যক শিক্ষার্থী বিশেষ করে গ্রামের শিক্ষার্থীরা এসব সুবিধা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। এরই মধ্যে গত মাস থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এ নিয়েও কিছুটা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্কুলগুলোতে বার্ষিকসহ অন্যান্য পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। তবে কিছু কিছু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ক্লাসের পাশাপাশি পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে করোনার কারণে এ বছর প্রাথমিক সমাপনী ও অষ্টমের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষাও। আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাও পেছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি ১৯ ডিসেম্বরের পর আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি আগামী বছরেও কবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলবে, তা এখনও অনিশ্চিত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog