1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha : Sardar Dhaka
  2. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
  3. rafiqul@mohajog.com : Rafiqul Islam : Rafiqul Islam
  4. sardar@mohajog.com : Shahjahan Sardar : Shahjahan Sardar
সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন

দুর্ঘটনাস্থলে এখনো গ্যাসের ঝাঁজাল গন্ধ

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৬
  • ৩৩০ বার

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সার কারখানার ট্যাংক ফেটে ছড়িয়ে পড়া অ্যামোনিয়া গ্যাস দুর্ঘটনাস্থলে এখনো রয়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ফায়ার সার্ভিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ১০ শতাংশ গ্যাস এখনো সেখানে রয়ে গেছে। দুর্ঘটনাস্থলের চারপাশে গ্যাসের ঝাঁজাল গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের ২০টি গাড়ি পানি ছিটিয়ে গ্যাস নিষ্ক্রিয় করার কাজ অব্যাহত রেখেছে।

গতকাল সোমবার রাতে আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়া গ্রামে ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট সার কারখানার তরল অ্যামোনিয়া গ্যাসের ট্যাংক বিকট শব্দে ফেটে অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৫০০ টন ধারণক্ষমতার ট্যাংকটিতে দুর্ঘটনার সময় প্রায় ২৫০ টন অ্যামোনিয়া গ্যাস ছিল। ছড়িয়ে পড়া গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ ৫২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুর্ঘটনাস্থলের পাশের সড়ক ঘুরে দেখা যায়, কারখানার ট্যাংক যেখানে ফেটে গেছে, সেখানের সীমানা দেয়ালের পাশের সড়কে এখনো অ্যামোনিয়া গ্যাসের তীব্র ঝাঁজাল গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন পথচারীদের ওই সড়ক এড়িয়ে চলার জন্য ফিতা টেনে দিয়েছে। পাশের পুকুর থেকে পানি নিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে ছিটিয়ে দিচ্ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে ঘটনাস্থলের ৩০০-৪০০ মিটার দূরে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে বেলা তিনটায় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক জসীম উদ্দিন বলেন, বেলা ১১টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে এখনো ১০ শতাংশ গ্যাস রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ২০টি গাড়ি পানি ছিটিয়ে এসব গ্যাস নিষ্ক্রিয় করার কাজ অব্যাহত রেখেছে।
ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, কারখানার সীমানা দেয়ালের পাশের সড়কের সঙ্গে লম্বা পুকুরে মরা মাছ ভেসে উঠেছে। পুকুরটির মাঝখানে বাঁধ দেওয়া। তবে বাঁধ দেওয়া পুকুরের আরেক পাশে মরা মাছ দেখা যায়নি। মরে যাওয়া মাছ পুকুর থেকে তুলতে দেখা গেছে স্থানীয় লোকজনকে।
দুপুরে সিইউএফএলের বিশ্রামাগারে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমল বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনার সময় বাতাস ছিল পশ্চিমমুখী। বাতাসে অ্যামোনিয়া গ্যাস নদীর ওপারে পতেঙ্গা ও বন্দর এলাকা হয়ে হালিশহরের দিকে চলে যায়। দুইটার পর বাতাস দক্ষিণমুখী ছিল। তখন দক্ষিণ দিকে গেছে অ্যামোনিয়া গ্যাস। পুকুরের পানি অ্যামোনিয়া গ্যাস শুষে নেওয়ায় হয়তো মাছ মরে গেছে।
আজ সকালে ঘটনাস্থলে আসেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল, জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিসিআইসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, রাত তিনটায় গ্যাস শনাক্তকরণ যন্ত্র দিয়ে পরিমাপ করে দেখা গেছে দুর্ঘটনাস্থলের ২০০ মিটার দূরে গ্যাসের ক্ষতিকর প্রভাব ছিল না।
এদিকে বিসিআইসি ট্যাংক ফেটে যাওয়ার কারণ, ক্ষয়ক্ষতি ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণে ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিসিআইসির পরিচালক আলী আক্কাসকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন এবং দুটি সার কারখানা কাফকো ও সিইউএফএলের প্রতিনিধি রয়েছেন।
আজ সকালে বিসিআইসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, কমিটি তিন দিনের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন দেবে। কারখানার অন্য ট্যাংকগুলোতে ঝুঁকি আছে কি না এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সুপারিশ করার জন্যও বলা হয়েছে কমিটিকে।
ঘটনার রাতে জেলা প্রশাসনের তিন সদস্যের একটি কমিটি কাজ শুরু করেছে বলে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2023 Mohajog