1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপন

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৬
  • ১৯৯ বার

প্রতিবেদক : আজ সোমবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস। ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। এর পর থেকে প্রতিবছর ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে।
সকালে সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । এরপর সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

ফুল দেওয়ার পর শেখ হাসিনা মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর চৌকস দল এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেয়। বিউগলে করুণ সুর বেজে উঠে। এরপর শেখ হাসিনা শিখা অনির্বাণ প্রাঙ্গণে রাখা দর্শনার্থী বইয়ে সই করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে পৌঁছালে সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল এম নিজামউদ্দিন আহমদ, বিমানবাহিনীপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।

পুষ্পস্তবক অর্পণের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে (এএফডি) যান। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানেরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এএফডির ডাইরেক্টরস জেনারেল এবং পিএসও প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।
দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণী দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেশের সব সেনানিবাস, নৌঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনী ঘাঁটির মসজিদে দেশের কল্যাণ, সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রাষ্ট্রপতির বাণী
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নেতৃত্বের প্রতি পরিপূর্ণ অনুগত থেকে কঠোর অনুশীলন, পেশাগত দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে তাদের গৌরব সমুন্নত রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এ বাহিনী জাতির অহঙ্কার। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেই জাতিকে এগিয়ে যেতে হবে। সশস্ত্র বাহিনী একটি উঁচু পেশাদার, দক্ষ ও সুশৃঙ্খল বাহিনী। কেবল দেশেই নয়, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জাতিসংঘ শান্তি মিশনে দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাণী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব এবং উন্নত নৈতিকতার আদর্শে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। আওয়ামী লীগ সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী দুর্যোগ মোকাবেলা, অবকাঠামো নির্মাণ, আর্তমানবতার সেবা, বেসরকারি প্রশাসনকে সহায়তা ও জাতি গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছে।

সেনানিবাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আজ ঢাকা সেনানিবাসের রাস্তা (শহীদ জাহাঙ্গীর গেট থেকে স্টাফ রোড পর্যন্ত প্রধান সড়ক) যানজট মুক্ত রাখার লক্ষ্যে সেনানিবাসে অবস্থানকারী ব্যক্তিবর্গ এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের বহনকারী যানবাহন ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চালকদের সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এবং দুপুর ১২ টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সেনানিবাস এলাকাদিয়ে চলাচল না করতে অনুরোধ জানানো হয়েছিলো।
 
সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা
বিকালে সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে সাবেক রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও ছিলেন।

সশস্ত্র দিবসের এবারের অনুষ্ঠানেও যাননি বিএনপি চেয়ারপসন খালেদা জিয়া। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনুষ্ঠানে দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।

গত চার বছর ধরে অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, “শারীরিক অসুস্থতার জন্য সেনাবাহিনীর এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উনি উপস্থিত থাকতে পারেননি।”

বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী সেনাকুঞ্জে যাওয়া আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, নৌ পরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, মসিউর রহমান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান, সাম্যবাদী দলের (এমএল) সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংস্কৃতিক ব‌্যক্তিত্ব ও কূটনীতিকরা ছিলেন অনুষ্ঠানে।

প্রধানমন্ত্রী সেনাকুঞ্জে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান তিন বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ ও এয়ার মার্শাল আবু এসরার। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিকও উপস্থিত ছিলেন।

বিউগলে সুরের মধ‌্যে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান মঞ্চে গিয়ে দাঁড়ানোর পর জাতীয় সংগীত বেজে ওঠে। জাতীয় সঙ্গীত শেষে বক্তব্য রাখেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, ‘একাধিকবারে সেনা শাসনে পড়া বাংলাদেশের বর্তমান সরকার প্রধান সোমবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা (আওয়ামী লীগ) গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। সশস্ত্র বাহিনীকে আমরা কখনও ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করিনি বা ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে..বারবার ক্যু করে সশস্ত্র বাহিনীর শত শত অফিসার বা সৈনিকের হত্যাকাণ্ড আমরা ঘটাইনি।”

শেখ হাসিনা বক্তব‌্যে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান স্মরণ করে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর খ‌্যাতি অর্জনে সরকারের নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

“আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যেন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, সেজন্য আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন একটি সশস্ত্র বাহিনী, আধুনিক সমরাস্ত্রে সুসজ্জিত পারদর্শী সশস্ত্র বাহিনী হিসাবে গড়ে তুলতে চাই।” সেনাবাহিনী আধুনিকায়নের সঙ্গে বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তনের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

‘অতি শিগগিরই’ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পটুয়াখালীর লেবুখালীতে একটি পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা লাভ করতে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। সিলেটে পদাতিক ডিভিশন ও নয়টি ইউনিট আগামী ২৩ ডিসেম্বর উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিগেড পর্যায়ে স্পেশাল ফোর্স গঠনের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।” নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে দুটি সাবমেরিন সংযোজনের কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা, যা চীন থেকে অচিরেই আসছে।

নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নৌবাহিনী যেন আকাশেও চলতে পারে, সাগরেও চলতে পারে এবং সাগরের তলদেশেও চলতে পারে, সেই সুরক্ষা আমরা করে দিয়েছি।”

সাম্প্রতিককালে বিমান বাহিনীতে এফ-৭ বিজি যুদ্ধবিমানসহ হেলিকপ্টার ও অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা জেনে খুশি হবেন যে, সশস্ত্র বাহিনী সদস্যদের আবাসন সমস্যা দূরীকরণে ইতোমধ্যে অফিসার, জেসিও ও অন্যান্য পদবির সৈনিকদের জন্য বাসস্থান, মেস ও ব্যারাক নির্মাণ করা হয়েছে।”

জাতিসংঘ শান্তি মিশনে কাজের মাধ‌্যমে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করেন সরকার প্রধান।

“মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সশস্ত্র বাহিনী আমাদের জাতির অহংকার। আপনারা যেন শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতায় সর্বত্র প্রশংসিত হতে পারেন, দেশের প্রতিরক্ষায় এবং দেশ গড়ার কাজে অবদান রেখে আপনাদের গৌরব সমুন্নত রাখতে পারবেন- এই বিশ্বাস আমার আছে,” বলেন তিনি।

বক্তব‌্যের পর প্রধানমন্ত্রী ঘুরে ঘুরে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী গঠিত হয়। এরপর এই বাহিনী দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করে এবং মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করা পর্যন্ত এ লড়াই অব্যাহত রাখে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই ঐতিহাসিক দিনকে প্রতিবছর সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog