1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:০২ অপরাহ্ন

কী হয়েছে, সালমা!

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৬
  • ২০৭ বার

বিনোদন ডেস্ক : তারাগুনিয়া গঙ্গারামপুর গাঁয়ের সহজ–সরল মেয়ে সালমা। গাঁয়ের পাখিটির সঙ্গে তিনি গাইতেন গান। সেখান থেকে এক গানের প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়ে বদলে গেল তাঁর জীবন। নাম হলো, খ্যাতি হলো, ঘুচল অর্থকষ্ট, মিলল বহু ভক্ত–অনুরাগী। এরই মধ্যে বিয়েও করেছিলেন। সম্প্রতি ভেঙে গেছে বিয়ে। মন ভেঙেছে সালমা ও তাঁর ভক্তদের। কেন এমন হলো!

‘আমার মনের ছোট্ট ঘরে বৃষ্টি ভাইঙ্গা পড়ে/ পথের পানে উদাস হইয়া আমি চাইয়া থাকি বন্ধু আমার ঘরে/ তুমি আসবা নাকি…’ মুঠোফোনে বেজে যায় গানটি। করুণ সুর। বাজতেই থাকে। একটা সময় ওপাশ থেকে সাড়া মিলল। কণ্ঠস্বরেই রাজ্যের ক্লান্তি। হতাশাও। দেখা করার তাগিদ নিয়ে পৌঁছে যাই মোহাম্মদপুরে। আদাবরের এ বাসাতে বাবা-মাকে নিয়ে কয়েক মাস ধরে ভাড়া আছেন সালমারা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সালমাকে দেখে কড়া নড়ল ঠিক ১০ বছরের আগের স্মৃতিতে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বর। বাবার হাত ধরে যে ঢাকায় এসেছিল। এসেছিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের তারাগুনিয়া গঙ্গারামপুর গ্রাম থেকে। এই গ্রামের হিসনা নদীর ধারে টিন, বেড়া আর মাটি দিয়ে তৈরি দুটো ঘরের একটা জীর্ণ বাড়িতে ছিল সালমাদের বসতি। পানচাষি বাবা ফজলুল হক আর গৃহিণী মা মালেকা খাতুনের অভাবী সংসারে সালমার জন্ম।
সালমাকে প্রথম দেখার দিনটি খুব মনে পড়ে। গুলশানের একটি ক্লাবে ওদের প্রতিযোগিতাকালীন প্রশিক্ষণ চলছিল। মায়াভরা মলিন একটা মুখ। কথায় বলে, কন্যাসন্তানেরা বাবার চেহারা পেলে নাকি ভাগ্যবতী হয়। ভাগ্য ঠিকই মেয়েটার অনুকূলে ছিল।
২০০৬ সালে সালমা আর সালমার গান জাদুমন্ত্রের মতো অগণিত মানুষের মনে ছড়িয়ে দিল মায়ার আবেশ। অগণিত কণ্ঠ যেন একযোগে গেয়ে উঠল—‘বানিয়া বন্ধু রে/ একটা তাবিজ বানাইয়া দে…’।
এরপর খুব ছোট্ট হাতেই বিশ্বকে ধরেছিলেন সালমা। ওই সময় থেকে টানা ছয় বছর দেশ-বিদেশ গান করেছেন। কথা প্রসঙ্গে সালমা বলেন, গান নিয়ে সারা দুনিয়া ঘুরেছি। দেশের এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে আমি যাইনি গান করতে। হাটে, মাঠে, ঘাটে, অডিওতে, সিনেমায় নিজের মতো করে গান করেছেন।
এই গল্পগুলোই হচ্ছিল। স্বপ্নের মতো দ্রুত কেটে যাওয়া সময়গুলোর গল্প। সালমার আয়ে ওদের মাটির ঘরের জায়গায় ইটের দালান হওয়ার গল্প। বলতে বলতে কথা জড়িয়ে আসে চার বছরের শিশু স্নেহার মা সালমার। ‘পত্রিকায় দেখলাম, আমাকে নাকি বাড়ি করে দিয়েছে আমার স্বামী, আমার নাকি ঢাকায় দুইটা ফ্ল্যাট!’

প্রসঙ্গটা আসতেই ঝরঝর কান্নায় ভিজে গেল গানের তারকা সালমার গাল। এবারের গল্পটা বিগত পাঁচ বছরের। যখন সালমা দিনাজপুরের সাংসদ শিবলী সাদিকের স্ত্রী, স্নেহার মা। বললেন, যে আমি গান নিয়ে পৃথিবীর এতগুলো দেশে গেলাম, সেই আমি শুধু সংসারের জন্য বিগত পাঁচ বছর গান থেকে দূরে ছিলাম। এর মাঝে গান করতে মরিসাস গিয়েছিলাম, সঙ্গে স্বামীও ছিলেন।
সালমা বলেন, না চাইতে আমি এ জীবনে অনেক বেশি পেয়েছি। কোনো কিছুর অভাব আমি অনুভব করিনি। শুধু চেয়েছিলাম একটু সময়, ভালোবাসা। চেয়েছিলাম স্বামী-সন্তান নিয়ে একটু সময় কাটাতে। কিন্তু এ ‘সময়টা’ও পাইনি আমি।
২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি সালমা ও শিবলী সাদিক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পুরো বিষয়টা ছিল দুই পরিবারের সম্মতিতে। মেয়েটা এখন বাবার কাছে। ঠিক হয়েছে সপ্তাহের তিন দিন থাকবে বাবার কাছে, চার দিন থাকবে মায়ের কাছে। সালমা বলেন, আমি চাই আমার বাচ্চাটা মা-বাবা দুজনেরই আদর পেয়ে বড় হোক। কারও অভাব যেন ও বুঝতে না পারে।
আপাতত নতুন কোনো গানের কাজের পরিকল্পনা নেই। কয়েকটা দিন পুরোপুরি মা-বাবার সঙ্গে থাকার ইচ্ছা। তবে দুটি একক অ্যালবাম তৈরি আছে। বুধবার সিলেটে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে, মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে।
স্বপ্নের মতো জীবন ছিল সালমার। গানপাগল বাবার কণ্ঠে লালনের সুর শুনে ছোটবেলাতেই গান ঢুকে যায় সালমার ছোট্ট মনের আঙিনায়। সালমা গান গায়, জয় করে অসংখ্য মানুষের মন। গাড়িতে চড়েন, বড় বাড়িতেও থাকার সুযোগ হয়। সন্তানের মা হন। তারপর আবার একসময় ঝড় আসে। সময় যেন উল্টো ঘুরতে শুরু করে। আবারও সালমা সুন্দর দিন ফিরে আসবে এই শুভকামনা জানিয়ে বের হতে হতে জানতে চাই ডিসেম্বর তো চলে এল, মনে আছে? এবার স্মিত হাসি। বলেন, আমার স্মরণীয় দিন, ২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর। এবার ১০ বছর হতে চলল।
ফিরতে ফিরতে ভাবি, এই ১০ বছরে কত-কী ঘটে গেল মেয়েটার জীবনে!

 

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog