1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

জয়ললিতা আর নেই

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬
  • ৬০ বার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা আর নেই। সোমবার চেন্নাইয়ের অ‌্যাপোলো হাসপাতালে তার মৃত‌্যু হয়। গত তিন মাস ধরে এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি

স্থানীয় সময় সোমবার দিবাগত রাত ১১টা ৩০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর জয়ললিতা হাসপাতালে ভর্তি হলে প্রথমে জানানো হয়েছিল, তার জ্বর ও পানিশূন‌্যতা হয়েছে। পরে চিকিৎসকরা তার ফুসফুসে সংক্রমণ ও শ্বাস নিতে সমস‌্যা হওয়ার কথা জানান।

এদিকে, জয়ললিতাকে হারিয়ে তামিলনাড়ুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তুমুল জনপ্রিয় এ নেতার জন্য মাতম করছে রাজ্যের মানুষ।

তার মৃত‌্যুর পর চেন্নাই শহর থমকে পড়েছে। সেখানে এক রকম হরতালের অবস্থা বিরাজ করছে বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।  নেত্রীর অসুস্থতার খবরে লোকসভায় এআইডিএমকের ৩৭ সদস্যের অধিকাংশই নয়া দিল্লি থেকে চেন্নাইয়ে হাজির হয়েছিলেন।

সোমবার রাতে রাজ্য মুখ্যসচিব পি রামা মোহনা রাও এক প্রজ্ঞাপনে সাত দিনের এ শোক ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার থেকে এ শোক পালন শুরু হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শোক চলাকালে রাজ্যের সব সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও রাজ্য সরকার তামিলনাড়ুর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে।

জয়ললিতা জয়রামের মৃত্যুর পর পরই অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগামের (এআইএডিএমকে) নতুন নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে পনিরসেলভামকে। এরপর সোমবার রাতেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ নেন।

তামিলনাড়ুবাসী, যাদের কাছে তিনি ‘আম্মা’ হিসেবেই পরিচিত। ৫৪৫ আসনের লোকসভায় তামিলনাড়ুর এই আঞ্চলিক দলটির আসন সংখ‌্যা  কম হলেও গত দুই দশক ধরে কেন্দ্রে সরকার গঠনে নির্ণায়ক হিসেবে কাজ করছেন জয়ললিতা। ভারতের রাজনীতিতে অন‌্যতম শক্তিশালী নারী হিসেবেও পরিচিত তিনি। গত শতকের ৮০ এর দশকে রাজনীতিতে পা রাখার পর নানা উত্থান-পতন আর আলোচনা-সমালোচনার মধ‌্য দিয়ে চলছিলেন তিনি।

একবার মুখ‌্যমন্ত্রিত্ব করার পরের বার গো-হারা হেরে যাওয়ার পরও তা থেকেই পুনরায় উঠে আসার নজির রেখেছেন তিনি। দুর্নীতির অভিযোগে দণ্ড মাথায় নিয়ে কারাগারে গেলেও লড়াই ছাড়েননি তিনি।

কখনও কংগ্রেসের সঙ্গে, কখনও বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে, কখনওবা তৃতীয় মোর্চা গড়ে দিল্লির মসনদধারী নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে দেখা গিয়েছিল তাকে।

অভিনেতা থেকে ভারতের সমৃদ্ধ রাজ‌্য তামিলনাড়ুর মুখ‌্যমন্ত্রী হওয়া এম জি রামাচন্দ্রনের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন শতাধিক চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী জয়ললিতা।তার পর তাকে বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়। ১৯৮৭ সালে রামাচন্দ্রন মারা যাওয়ার পর দলের কর্তৃত্ব নেন তিনি। তবে বাধা আসে রামাচন্দ্রনের স্ত্রী জানকি রামাচন্দ্রনের কাছ থেকে। তবে শেষমেষ জয় জয়ললিতারই হয়, দলের প্রতীক ‘জোড়া পাতা’ দখলে রাখতে পারেন তিনি।

এরপর নির্বাচনে নামিলনাড়ুর রাজ‌্য বিধান সভায় প্রথম নারী হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন জয়ললিতা।

তখন ১৯৮৯ সালে একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা তাকে মুখ‌্যমন্ত্রী হতে অনমনীয় করে তোলে বলে বিশ্লেষকরা বলেন।

ওই বছরের ২৫ মার্চ বিধান সভায় ক্ষমতাসীন ডিএমকে এবং বিরোধী এআইডিএমকের সদস‌্যদের মধ‌্যে তুমুল হট্টগোল হয়, তখন হেনস্তার স্বীকার হন বিরোধীদলীয় নেতা জয়ললিতা।

ছেড়া শাড়ি, উশকোখুশকো চুল আর রক্তাভ মুখ নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে এসে তিনি তখন বলেছিলেন, মুখ‌্যমন্ত্রী হয়ে না আসতে পারলে তিনি আর বিধান সভায়ই ঢুকবেন না।

তার দুই বছরের মধ‌্যে প্রথম মুখ‌্যমন্ত্রী হন জয়ললিতা এবং সেটাই শেষ নয়, এরপর একাধিকবার শপথ নিয়ে এই চেয়ারে ছিলেন তিনি।

২২ সেপ্টেম্বর থেকে একটানা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সন্ধ্যায় হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন তামিলদের ‘আম্মা’ জয়ললিতা। তার শারীরিক অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন।

চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন তিনি। সোমবার সকাল থেকে তার অবস্থার অবনতি হয়।

জয়ললিতার আরোগ্য কামনা করে ভারতজুড়ে প্রার্থনা হয়। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ দেশের সর্বস্তরের নেতারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

জ্বর ও পানিশূন্যতা নিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন জয়ললিতা। এরপর জীবাণুর সংক্রমণ হতে থাকে তার শরীরে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা জয়ললিতা তামিলনাড়ুর মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। একসময় অভিনয় দিয়েও মানুষের মন জয় করেছেন তিনি। এ রাজ্যের ‘আম্মা’ বলা হয় তাকে।

আম্মার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাস্তায় মানুষের ঢল নামে। চেন্নাইয়ে অ্যাপোলো হাসপাতালের সামনে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ।

সোমবার দিবাগত রাতে জয়ললিতার মৃত্যু নিয়ে হাসপাতাল ও তার দল এআইএডিএমকের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়। দলের নেতাকর্মীরা তার মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলেন না।

অবশেষে দলটি তাদের টুইটার পেজে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে লেখে, ‘আমাদের প্রিয় নেত্রী, ভারতের লৌহমানবী জয়ললিতা আর নেই।’

জয়ললিতা সিনেমা জগতে জয়া নামেই পরিচিত ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে রাজনীতিতে আসার আগে শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। নাটকীয়তায় ভরা তার জীবন।

মুখ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় দুবার কারাবন্দি হন তিনি। সর্বশেষ ২০১৪ সালে অর্থ আত্মসাতের মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন। তবে শেষ পর্যন্ত মামলা থেকে অব্যাহতি পান তিনি।

ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে তামিলনাড়ুকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যান জয়া। তার নেতৃত্বে তামিলনাড়ু সব দিক থেকেই এগিয়ে গেছে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog