1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. suzan36076@gmail.com : azad azad : azad azad
  3. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  4. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন

ভবিষ্যতের স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রাম

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৬
  • ১৬৪ বার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জার্মানির পরিত্যক্ত একটি সেনানিবাস পরিণত হতে যাচ্ছে বিশেষ ধরনের একটি আধুনিক গ্রামে। এটি হবে প্রাচীনকালের সম্প্রদায়ভিত্তিক গ্রামের (কমিউন) মতো। কিন্তু থাকবে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার। অনেকটা নৈরাজ্যবাদী কাঠামোয় প্রতিষ্ঠিত হবে গ্রামটি। বলা যায়, একুশ শতকের হিপ্পিদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী!

হাইডেলবার্গ শহরের পাশে প্যাট্রিক হ্যানরি গ্রামটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন সেনাবাহিনীর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পঞ্চাশের দশকে ইউরোপে আগত মার্কিনদের বসবাসের একটি কেন্দ্র ছিল এই গ্রাম। ২০১৩ সালে জার্মান সরকার গ্রাম পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। তখন থেকেই এটি কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে ভাবনা চলছিল।

নতুন করে গ্রামটির জন্য একটি রূপকল্প নির্ধারণ করা হয়েছে। অধ্যাপক কার্লো রেট্টি একে ব্যাখ্যা করেন ‘ভবিষ্যৎ আবাসের পরীক্ষণ’ হিসেবে। বর্তমানে ‘কার্লো রেট্টি অ্যাসোসিয়েট’ নামের একটি ডিজাইন কোম্পানি পরিচালনা করেন তিনি। এছাড়া দায়িত্ব পালন করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) সেনসিবল সিটির ল্যাবপ্রধান হিসেবে।থাকার এবং কাজের জায়গা শেয়ার করবেন সবাইএই গবেষক বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন ধরনের জিনিস উদ্ভাবন করা দরকার। এটা স্থপতি এবং প্রকৌশলীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটা মানব সমাজ কতখানি এগিয়ে যাচ্ছে তার সঙ্গে সম্পর্কিত।’

রেট্টি জানান, ডিজিটাল শেয়ারিং-ভিত্তিক একটি গ্রাম কেমন হতে পারে- এই প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করেই তারা প্রকল্পটি শুরু করেছেন। এছাড়া ইউরোপে একটি আমেরিকান গ্রাম পরীক্ষণের জন্য খুবই ভালো জায়গা বলে মনে করছেন তারা।মেকার প্যালেসে শিল্পীরা কাজ করবেনএই ভিশনটি যদি বাস্তবে রূপ দেয়া যায় তবে গ্রামের বাসিন্দারা তাদের আবাসস্থল ও কর্মক্ষেত্র নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য জিনিস নিজেরাই উৎপাদন করতে পারবে। এক বর্গকিলোমিটার জায়গায় ৪ হাজার লোকের আবাসনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে এর আওতায়।

অধ্যাপক রেট্টির ভাষায়, ‘এই গ্রামে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন থাকবে। যেমন: শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা এবং হাইডেলবার্গে আরো যেসব পেশার লোক আছে।’

তবে এটা অন্য সবার জন্যই উন্মুক্ত থাকবে। এখানে বসবাসের জন্য অনলাইনে আবেদনের আহ্বান জানানো হবে। ভোটের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে- কাকে বসবাসের সুযোগ দেয়া হবে। গ্রামটির কেন্দ্রে থাকবে একটি ‘প্রস্তুতকারক চত্বর’ (মেকার স্কয়ার)। পরিত্যক্ত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং অন্যান্য কাঁচমাল দিয়ে এখান থেকে তৈরি করা যাবে বিভিন্ন জিনিস। ধীরে ধীরে এখানে থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হবে, যা দিয়ে প্রস্তুত করা যাবে কুটির শিল্পের সামগ্রী।এরকম একটি উন্মুক্ত ল্যাব থাকবে যেখানে পছন্দমতো জিনিস বানানো যাবেএ ধরনের সম্প্রদায়ভিত্তিক গ্রাম টেকসই না হলেও অনেক বেশি সামাজিক হবে বলে মনে করেন রেট্টি। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি একটি বড় শহরে বাস করেন, তাহলে একই মানসিকতার অসংখ্য মানুষ পাবেন। তবে ছোট্ট এই সম্প্রদায়ে থেকে আপনি হয়তো কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গে মিশতে পারবেন।’

সম্প্রতি জার্মানির একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে নিজের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন গবেষক রেট্টি।

সারা পৃথিবীতে এরকম পরীক্ষামূলক আরো কিছু গ্রাম আছে। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ফার্ম, ডেনমার্কের ক্রিশ্চিয়ানা, ভারতের অরোভিল এবং স্কটল্যান্ডের ফিনডর্ন ইকো-ভিলেজ অন্যতম। গ্রামগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:

দ্য ফার্ম: যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের লুইস কাইন্টিতে এর অবস্থান। সান ফ্রান্সিসকোর ‘ফ্লাওয়ার চিলড্রেন’ নামে তিনশ জনের একটি সম্প্রদায় এটি প্রতিষ্ঠিত করে। আমেরিকার সর্বপ্রাচীন কমিউন তারা। এখন প্রায় ২০০ জনের বাস। অহিংস এবং পরিবেশের মর্যাদা রক্ষার প্রাচীন মূল্যবোধ ধারণ করেন তারা।

ক্রিশ্চিয়ানা: ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে নির্মিত। ২০১১ সালে এটি বিরান হয়। এখন আবার উন্মুক্ত করেছে সরকার। তবে ১৯৭১ সালে প্রথম উন্মুক্ত করার পর গাঁজা ব্যবসার কারণে ব্যাপক বিতর্কিত।

আর্কোসান্টি: পরীক্ষামূলক এ শহর নির্মাণ করা হয় ১৯৭০ এর দশকে। পরিবেশ ও প্রতিবেশের সাথে সঙ্গতি রেখে এর স্থাপত্য নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সোলার প্যানেল ব্যবহার করা হয়। শীতকালে প্রচুল আলো প্রবেশ করে কিন্তু গ্রীষ্মকালে সূর্যালোক সরাসরি প্রবেশ করতে পারে খুব কমই।

অরোভিল: ১৯৬০ এর দশকে দক্ষিণ ভারতে নির্মিত শহর। মানুষের ঐক্য এবং সচেতনতা জাগিয়ে তুলতে বিশ্বশান্তির প্রত্যাশায় এটি নির্মাণ করা হয়। ৪০টি জাতির দুই হাজার লোকের বাস এখানে।

ফিনডর্ন ইকোভিলেজ: এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬০ এর দশকে। স্কটল্যান্ডের এ শহরটিকে আশির দশকে পরিবেশ বান্ধব করার দিকে নজর দেয়া হয়। বলা হয়, আধুনিক বিশ্বে এটিই এখন একমাত্র এবং সবচেয়ে ছোট সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব একটি গ্রাম। এখানে ভবনগুলো তৈরি করা হয় হাতের নাগালে পাওয়া বিভিন্ন বস্তু যেমন, হুইস্কির ব্যারেল ইত্যাদি দিয়ে। একটি বায়ুকল বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। আর একমাত্র পানি শোধনাগারটিতে পানি শোধন করে শেওলা (অ্যালগি), শামুক এবং বিভিন্ন উদ্ভিদ।

সূত্র: বিবিসি

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog