1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০৬:০২ পূর্বাহ্ন

জেলা পরিষদ নির্বাচন : আ.লীগ ১৪টিতে, বিদ্রোহী ৫টিতে জয়ী

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৬
  • ১০৩ বার

প্রতিবেদক : দেশে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল নয়টায় শুরু হয়ে বেলা দুইটা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ করা হয়। সর্বশেষ পাওয়া খবরে ১৪টিতে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া ৬১টি জেলায় সকাল নয়টা থেকে শুরু হয়ে বেলা দুইটা পর্যন্ত এ ভোটে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ভোট দেন। ৬১টি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদের মধ্যে ২১ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

নড়াইলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফকীর আবদুল জব্বার, চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মঈনুদ্দীন মণ্ডল, লালমনিরহাটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মতিয়ার রহমান, গাইবান্ধায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার, দিনাজপুরে আওয়ামী লীগের আজিজুল ইমাম চৌধুরী, চুয়াডাঙ্গায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ শামসুল আবেদীন, চাঁদপুরে আওয়ামী লীগ নেতা ওচমান গনি পাটোয়ারী, লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের মো. শামছুল ইসলাম, পাবনায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল রহিম, পটুয়াখালীতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান মোশাররফ হোসেন, পিরোজপুরে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, মেহেরপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম রসুল, সিলেটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. লুৎফুর রহমান, মানিকগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম মহীউদ্দিন, নীলফামারীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নাল আবেদীন, নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ বি এম জাফর উল্যাহ্, কুমিল্লায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু তাহের, গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রার্থী চৌধুরী ইমদাদুল হক, মাগুরায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী পঙ্কজ কুন্ডু ও সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল হুদা মুকুট বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

এর আগে সকাল নয়টা থেকে শুরু হয়ে বেলা দুইটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। ভোট গ্রহণের জন্য প্রতিটি সংশ্লিষ্ট জেলা ও তার উপজেলায় ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ভোট দেন।

স্থানীয় সরকারের অন্যান্য স্তরে দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হলেও জেলা পরিষদ নির্বাচন নির্দলীয়।

এ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন কেবল ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। তাদের ভোটেই প্রতিটি জেলায় একজন করে চেয়ারম্যান এবং ২০ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন।

ভোটের আগের দিন আদালতের আদেশে বগুড়া জেলার চেয়ারম‌্যান পদসহ ২১ জেলার ৩৪টি ওয়ার্ডের ভোট স্থগিত করা হয়েছিল। বুধবার সকালে ভোট শুরুর আগে মাদারীপুরের একটি কেন্দ্রে মারামারি এবং ময়মনসিংহে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার অভিযোগ এনে দুই সদস্য পদপ্রার্থী বর্জনের ঘটনা ছাড়া সারা দেশে ভোট শেষ হয় শান্তিপূর্ণভাবে।

বেলা ১২টায় ঢাকার আগারগাঁও তালতলা সরকারি কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরে আজিমপুর গার্লস স্কুল কেন্দ্র ঘুরে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।

ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনের উপ সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান বলেন, “আদালতের আদেশে স্থগিত কেন্দ্রগুলো ছাড়া বাকি সব কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য আমাদের কাছে এখনো আসেনি।”

তালতলা সরকারি কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. মঈনুল হোসেন জানান, বেলা ২টায় তারা ভোট শেষ করে গণনার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ওই কেন্দ্রের ৩২ জন ভোটারের মধ্যে ২৮ জন সদস‌্য পদে ভোট দিয়েছেন। ঢাকার চেয়ারম‌্যান পদের একমাত্র প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ অধিকাংশ দল এ নির্বাচন বর্জন করায় ঢাকাসহ ২১ জেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন ভোটের আগেই। বাকি অধিকাংশ জেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতারাই।

তারপরও নির্দলীয় এ নির্বাচনে প্রভাব খাটানো, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোট কেনাবেচা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে। ভোটের আগের দিনও সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে আড়াই লাখ টাকাসহ এক সদস্য প্রার্থীর সমর্থককে আটক করে পুলিশ।

ভোট প্রভাবমুক্ত রাখতে ইসির পক্ষ থেকে স্পিকারকে চিঠি দিয়ে সাংসদদের এলাকা ছাড়তে বলা হয়। জামালপুরের পুলিশ সুপারকে করা হয় প্রত্যাহার। ভোটার সংখ‌্যা কম হলেও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নেওয়া হয় বড় আয়োজন।

প্রতিটি কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী হাকিম রাখা হয়। কোনো ভোটার মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না বলেও নিয়ম করা হয়।

নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেয়নি। ফলে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ও বিদ্রোহীদের মধ্যেই মূলত লড়াই হয়। তবে গাইবান্ধা, জামালপুর ও কুষ্টিয়ায় তিনজন চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থীকে সমর্থন দেয় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)।

জাতীয় সংসদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন হলেও কেবল জেলা পরিষদ আইনে প্রত্যক্ষ ভোটের বিধান নেই। অবশ্য এই বিধান নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন বিচারাধীন আছে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog