1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

গণভোটে পরাজয় ছদ্মবেশী আশীর্বাদের মতো

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ জানুয়ারী, ২০১৭
  • ১৩২ বার

হুয়ান মানুয়েল সান্তোস : স্বাগত ২০১৭, বিদায় ২০১৬। এই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরটা কেমন গেল এবং নতুন বছরে আমাদের কী করণীয়, সে নিয়ে বিশ্বের পুরোধা ভাবুক ও নেতারা নিজেদের মত দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের লেখা ও একজনের সাক্ষাৎকার পাঠকদের জন্য অনুবাদ করে ছাপা হচ্ছে, প্রতিদিন দুটি করে। আজ শেষ কিস্তিতে ছাপা হলো হুয়ান মানুয়েল সান্তোসের সাক্ষাৎকার ও ডোনাল্ড টাস্কের লেখা।
সম্প্রতি কলম্বিয়ার সরকার ফার্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে। কিন্তু পরবর্তীকালে গণভোটে দেশটির জনগণ শান্তিচুক্তির বিরুদ্ধে রায় দেয়, যদিও ভোটের ব্যবধান ছিল খুবই কম। এই পরিপ্রেক্ষিতে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান মানুয়েল সান্তোসের সাক্ষাৎকার নেন সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিক, রাজনীিতক ও ইতিহাসবিদ শ্লোমো বেন-অ্যামি, যার নির্বাচিত অংশপ্রথমআলোর পাঠকদের জন্য অনুবাদ করে ছাপা হলো।
শ্লোমো বেন-অ্যামি: প্রেসিডেন্ট আলভারো উরিবের অধীনে যখন আপনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন, তখন বেশ যুদ্ধংদেহী ছিলেন। সত্য হচ্ছে, কলম্বিয়া তখন ভেনেজুয়েলা ও ইকুয়েডরের সঙ্গে যুদ্ধ করার মতো পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। কারণ, তারা ফার্ক বিদ্রোহীদের আদর্শিক ও উপকরণগত সহায়তা দিত। সেখান থেকে আপনি শান্তিচুক্তি করলেন। তো, আপনার এই পরিবর্তনে কিন্তু মানুষ বেশ বিস্মিত হয়েছে!
হুয়ান মানুয়েল সান্তোস: পরিবর্তন নয়, আগেও ফার্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতি উপযুক্ত ছিল না বলে তা সম্ভব হয়নি। উপযুক্ত পরিস্থিতির দুটি শর্ত হচ্ছে, সামরিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থান ও আঞ্চলিক সমর্থন। আমি এই দুটি ব্যাপার নিিশ্চত করার চেষ্টা করেছি, প্রথমটি সামরিক কার্যকারিতার মাধ্যমে, আর দ্বিতীয়টি বাস্তবসম্মত কূটনীতির মাধ্যমে।
শ্লোমো : এই প্রক্রিয়ায় ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ ও কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর ভূমিকা কী ছিল?
হুয়ান : আমাকে অবশ্যই বলতে হবে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় চাভেজ ও কাস্ত্রোর ভূমিকা খুবই সহায়ক ছিল। ফার্কের ওপর তাঁদের যে প্রভাব ছিল, সেটা ফার্ক বিদ্রোহীদের সঠিক পথে রাখতে সহায়তা করেছে।
শ্লোমো : গেরিলা সংগঠনের সঙ্গে চার বছর ধরে শান্তি আলোচনা চালানো, যার মধ্যে আবার যুদ্ধ ও দলত্যাগও ঘটেছে, এই কালটা তো অনেক লম্বা। ব্যাপারটা কি এত জটিল ছিল?
হুয়ান : শান্তি স্থাপন সত্যিই একটা জটিল ব্যাপার, বিশেষ করে যদি ৫০ বছর ধরে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে। বিরোধীদের সঙ্গে ঐকমত্যে আসা ও তাদের বোঝানো সত্যিই কঠিন, যারা এত বছর ধরে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতা করে আসছে। দীর্ঘ আলোচনা খারাপ জিনিস নয়। কৌতূহলোদ্দীপক ব্যাপার হচ্ছে, নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রোক ইনস্টিটিউট ১৯৮৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত স্বাক্ষরিত ৩৪টি সমন্বিত শান্তিচুক্তি পাঠ করে যে পিস অ্যাকর্ড ম্যাট্রিক্স প্রজেক্ট প্রণয়ন করেছে, তাতে দেখা যায়, দীর্ঘ আলোচনা থেকে ভালো ফল পাওয়া যায়।
শ্লোমো : এই আলোচনার প্রধান অর্জন কী, আপনি কী বলবেন? আপনি কি এ ব্যাপারে একমত হবেন যে অ্যাজেন্ডায় ফার্কের বিপ্লবী আকাক্সক্ষার একটিও না থাকাটা অর্জন?
হুয়ান : একদম শুরু থেকেই আমি সীমা ও লক্ষ্য ঠিক করে রেখেছিলাম, তার প্রধান লক্ষ্য ছিল দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো, ডিক্রি জারি করে বিপ্লব করা নয়।
শ্লোমো : আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই ল অব ভিকিটমস অ্যান্ড ল্যান্ড রেস্টিটিউশন কার্যকর করা হয়। এটা কি টোপ দিয়ে গেরিলাদের আলোচনার টেবিলে আনার কৌশল, নাকি এই আইন আপনি কোনো না কোনোভাবে সমর্থন করেন? কলম্বিয়ার ক্ষেত্রে এই আইনের অর্থ ও গুরুত্ব কী?
হুয়ান : শুরু থেকেই আমি এ ব্যাপারে পরিষ্কার ছিলাম যে এই দ্বন্দ্ব নিরসনের প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী ও তাদের অধিকারকে কেন্দ্রে রাখতে হবে। ক্ষত প্রশমনের লক্ষ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। কারণ, আমাদের ভুক্তভোগীর সংখ্যা কম নয়। আমি মনে করি, এটা এই প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিয়েছে, একদম চূড়ান্ত পর্যায়ের। আমরা ইতিমধ্যে ৭০ হাজার ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দিয়েছি। আর যে কৃষকেরা সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে দুই লাখ হেক্টর জমি ফেরত দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীতে দ্বন্দ্ব-সংঘাত শেষ হওয়ার আগে এত কিছু আর কখনো অর্জিত হয়নি, আর কোনো দেশে এত ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।
শ্লোমো : শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় আমলাতন্ত্রকে নেতৃত্বের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা। আপনি কি সত্যিই এটা পেরেছেন? আপনার বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো কি সেনাবাহিনীর মধ্যে বিরোধী শক্তিদের উসকে দিয়ে এই প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করেছে? যদি তা-ই হয়, তাহলে আপনি কীভাবে তা সামাল দিয়েছেন?
হুয়ান : এই প্রক্রিয়ার সফলতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে, শুরু থেকেই আমি সেনাবাহিনী ও পুলিশকে শুধু অবহিত করিনি, তাদের এতে যুক্ত করেছি, যাতে তারা এটা নস্যাৎ না করে সমর্থন করে। আমি তাদের বলেছি, একজন সৈনিকের কাছে শান্তি স্থাপন বিজয়ের শামিল। হ্যাঁ, এটা ঠিক, অনেকেই সেনাবাহিনীকে দিয়ে এই প্রক্রিয়া নস্যাৎ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেনাবাহিনীকে আমি বোঝানোর চেষ্টা করেছি, আর তারা নিজেরাও শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে, ফলে তারা ঠিক পথেই চলেছে।
শ্লোমো : সাবেক প্রেসিডেন্ট উরিব কেন এই শান্তিপ্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন? ব্যাপারটা কি এমন যে তিনি সত্যিই বিশ্বাস করতেন, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াই ভালো, নাকি তিনি শুধু এটা মনে করতেন যে তিনি এর চেয়ে ভালো চুক্তি করতে পারতেন?
হুয়ান : আমরা যা করছি উরিবও তা-ই করতে চেয়েছিলেন। রেকর্ড আছে, তিনি আজ চুক্তির যে ধারাগুলোর সমালোচনা করছেন, তিনি একসময় নিজেই সেগুলো প্রস্তাব করেছিলেন।
শ্লোমো : কলম্বিয়ার নাগরিকেরা তো গণভোটে চুক্তির বিপক্ষে রায় দিল, যদিও ব্যবধান ছিল খুবই সামান্য। এতে তো উরিবপন্থীদের জয় হলো। তো, আপনি এখন কীভাবে এই চুক্তি পুনর্বিন্যাস করবেন? এটা কি আদৌ সম্ভব?
হুয়ান : আমি গণভোটের রায়কে ছদ্মবেশী আশীর্বাদ মনে করি। কারণ, এর ফলে আমরা অধিকতর সমর্থন ও বৈধতা নিয়ে চুক্তিটি বদলাতে ও সমৃদ্ধ করতে পারব। আমি না-ভোটপন্থীদের সঙ্গে জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছি। আমি তাদের কথা শুনতে চাই, তাদের উদ্বেগ ও প্রস্তাব আমলে নিতে চাই। আমি নিশ্চিত, খুব শিগগির আমরা নতুন একটি চুক্তি করতে পারব। আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি, যাতে উরিবও এতে শামিল হন। আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি, তিনি যদি আপস করার ব্যাপারে আন্তরিক থাকেন, তাহলে আমরা দ্রুতই এটা করতে পারি।
শ্লোমো : চার বছর ধরে যে আলোচনা চলল, তার কোনো পর্যায়ে কি আপনার মনে হয়েছে, এটা হবে না, ছেড়ে দিই? এতে কাজ হবে না?
হুয়ান : হ্যাঁ, অবশ্যই, এই পথপরিক্রমাটা ছিল দীর্ঘ ও কঠিন। অনেক সময়ই মনে হয়েছে, সব ছেড়ে দিই। কিন্তু আমি এক সুপরিচিত হার্ভার্ডের অধ্যাপকের কথা শুনেছি, তিনি বলেছেন, ভুক্তভোগীদের কথা শুনুন। তাঁরাই আপনাকে শক্তি জোগাবে। মনোযোগ ধরে রাখার জন্য এই চিন্তা ও তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করাটা জরুরি।
শ্লোমো : আপনার বিরোধীরা প্রায়ই অভিযোগ করেন, আপনি শুধু একটি বিষয়ের প্রেসিডেন্ট, অন্য অনেক বিষয়ে আপনার মনোযোগ নেই। ব্যাপারটা কি তা–ই?
হুয়ান : আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনা হয়েছে, আমি নাকি কমিউনিস্টদের দালাল, কেজিবির সদস্য, যে নিজের শ্রেণির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে উল্লিখিত অভিযোগ তো নস্যি। কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক এর উল্টো। আমাদের অর্থনীতি লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে গতিশীল অর্থনীতিগুলোর একটি, সামাজিক সূচকে আমরা এই অঞ্চলের অন্যতম সেরা। আমাদের ১২ শতাংশ দারিদ্র্য কমেছে। আমার জমানায় চরম দরিদ্রদের সংখ্যা কমে অর্ধেক হয়েছে। আমরা একদম বিনা মূল্যে শিক্ষা দিচ্ছি। আর শিক্ষার যে গুণগত উন্নতি ঘটেছে, তা এক কথায় অভূতপূর্ব। উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়েছে। আগামী ৬০ বছরে যত স্কুল করার পরিকল্পনা হয়েছে, আমরা তিন বছরেই তার চেয়ে বেশি স্কুল নির্মাণ করেছি।
আমরা স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকারে পরিণত করেছি, আমাদের স্বাস্থ্যসেবা এখন সর্বজনীন। এ ছাড়া আমরা দরিদ্র মানুষের জন্য ১০ লাখের বেশি বাড়ি নির্মাণ করেছি (অন্য কোনো সরকার তিন লাখের বেশি করতে পারেনি)। অবকাঠামো খাতে আমরা সত্যিকার অর্থেই বিপ্লব করেছি, যার ফলে আমাদের অর্থনীতি আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে। আমি আরও ফিরিস্তি দিতে পারি, কিন্তু এখানেই থামতে চাই।
শ্লোমো : বিশ্বের অনেক মানুষ ও সরকার কলম্বিয়ার মাদক উৎপাদন ও রপ্তানির ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। আপনি কি এমন অবস্থানে আছেন, যেখানে আপনি এটা নিশ্চিত করতে পারেন যে শান্তিচুক্তির ফলে এসব বন্ধ হবে?
হুয়ান : শান্তিচুক্তি আমাদের এটা আমলে নিতে সাহায্য করবে। আমরা প্রথমবারের মতো অবৈধ শস্যের জায়গায় বৈধ শস্য চাষ করব। চুক্তির আগে এটা অসম্ভব ছিল। কারণ, ফার্ক বিদ্রোহীরা এই কোকা খেতগুলোর সুরক্ষা দিত। আমরা যতবারই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে এসব উৎখাত করতাম, ততবারই তারা পরের দিনই নতুন করে চাষ শুরু করত। এবার তারা আমাদের কাছে অঙ্গীকার করেছে, নতুন শস্য চাষে তারা আমাদের সহায়তা করবে।
শ্লোমো : এই শান্তিচুক্তির কারণে কলম্বিয়া সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে কোন কোন ক্ষেত্রে?
হুয়ান : শান্তিচুক্তি সর্বক্ষেত্রে কলম্বিয়ার অবস্থা দেবে। শুধু একবার কল্পনা করুন, যে সমাজ ৫০ বছর যুদ্ধ করে সমবেদনা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছিল, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কী অর্জন করতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে। যেসব অঞ্চল সহিংসতার কারণে বিনিয়োগবঞ্চিত ছিল, সেখানেও বিনিয়োগ হবে। আমাদের কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতে সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে, এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অগ্রগতি ও সামাজিক সমতা অর্জিত হবে। আমাদের সম্ভাবনার পরিসর আকাশের মতো বিশাল।
শ্লোমো : এবার শেষ প্রশ্নে আসি, এই গণভোটের কি দরকার ছিল?
হুয়ান : এটা প্রয়োজন ছিল না। এটি আয়োজনে আমি আইনগতভাবে বাধ্য ছিলাম না। সবাই এই গণভোটের বিরুদ্ধে ছিল। কিন্তু একদম শুরু থেকেই আমি ভেবেছি, গণভোট আয়োজন করাটা সঠিক। আমার স্টাইল হচ্ছে, প্রশংসা লাভ করা নয়, যেটা ঠিক সেটা করা। এমনকি তা যদি অজনপ্রিয় হয়, তা-ও। ভালো নেতাকে সাহসী হতে হবে। তাঁকে ঝুঁকি নিতে হবে। হ্যাঁ, এটা ঠিক, আমরা অল্প ব্যবধানে হেরেছি। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা আরও সুস্পষ্টভাবে একতা ও শান্তি অর্জন করার সুযোগ পেয়েছি। আর সে কারণেই আমি প্রকৃত অর্থে বিশ্বাস করি, এই ফলাফলটা ছদ্মবেশী আশীর্বাদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

প্রথম আলো

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog