1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha : Sardar Dhaka
  2. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
  3. rafiqul@mohajog.com : Rafiqul Islam : Rafiqul Islam
  4. sardar@mohajog.com : Shahjahan Sardar : Shahjahan Sardar
শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ০১:৪১ অপরাহ্ন

হুজুগে নয়, কোম্পানী সম্পর্কে জেনে বিনিয়োগ করুন : প্রধানমন্ত্রী

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০১৭
  • ২৮০ বার

প্রতিবেদক : হুজুগে না মেতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) দেশব্যাপী বিনিয়োগ ও ফিন্যানসিয়াল লিটারেসি কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহবান জানান।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক বিবরণী এবং অন্যান্য তথ্য নিয়ে যেন বিনিয়োগ করেন। কোনো তথ্য নেবেন না, যেখানে সেখানে একটা বিনিয়োগ করে তারপর হারিয়ে.. তারপর আসে কী, সব দোষ সরকারের, সব দোষ অর্থমন্ত্রীর। এটা যেন না হয়।”

কিভাবে, কোথায় বিনিয়োগ করতে হবে; তা একান্তভাবে জানতে হবে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বাঙালি, আমাদের সাধারণ চরিত্র হচ্ছে, হুজুগে মাতা। আমরা হঠাৎ হুজুগে মেতে এমন করে ফেলি, শেষে সবকিছু হারিয়ে হায় হায় করি। এটা যাতে না হয়, সেজন্য এই বিনিয়োগ শিক্ষা আমি মনে করি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা যখন বিনিয়োগ করতে চান, তখন সেসব কোম্পানির সার্বিক তথ্য জানা দরকার।

“এই জন্য আমি বারবার বলব, যারাই বিনিয়োগ করবেন, তারা অবশ্যই কোন কোম্পানিতে করছেন, তাদের আর্থিক অবস্থাটা কী, তাদের কী কী সক্ষমতা আছে; সব কিছু তথ্য নিয়ে বিনিয়োগ করবেন। কারণ ঝুঁকি তাদেরই নিতে হবে; তাদের মাথায় রাখতে হবে।”

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ফিন্যানসিয়াল লিটারেসি কার্যক্রমে বিনিয়োগ ঝুঁকি কমবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে প্রধানমন্ত্রী financialliteracybd.com সাইটেরও উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের লক্ষ্য সবার কাছে বিনিয়োগ শিক্ষা পৌঁছে দেয়া। বিএসইসির উদ্দেশ্য, দেশের প্রতিটি মানুষকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনিয়োগ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা, জীবনে অর্থের ভূমিকা, সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যবহার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের সুবিধাদি, সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তর করার বিভিন্ন পদ্ধতি এবং বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের বিনিয়োগ সুরক্ষার উপায় অবলম্বনের জ্ঞান প্রদানসহ এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।

এ সংক্রান্ত বিধিমালা ইতিমধ্যে বিএসইসি প্রণয়ন করেছে এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবার জন্য বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং তাদের সাধ্যমত কার্যক্রমটি বিস্তারে সহায়তা প্রদান বাধ্যতামূলক করেছে।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ বিনিয়োগকারী রয়েছে, তাদের অধিকাংশই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শক্তিশালী পুঁজিবাজারকে উন্নত অর্থনীতি গড়ে তোলার অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিকাশে পুঁজিবাজারের অবদান ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে শিল্প ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের অন্যতম উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারের সূদৃঢ় অবস্থান আমাদের একান্ত কাম্য।”

পুঁজিবাজার বিকাশে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ অব্যাহত রাখা, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে ঢাকায় একটি স্পেশাল ট্রাইবুনাল গঠন, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা ৯০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন ও তাদের জন্য আইপিওতে ২০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ এবং আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ফিন্যানসিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট প্রণয়ন করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এর মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারে পারস্পরিক অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন নতুন ইন্সট্রুমেন্ট চালু করা, অনুসন্ধান, তদারকি ও নজরদারি প্রক্রিয়ায় দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

সরকারের এসব পদক্ষেপের ফলে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে পুঁজিবাজারের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র এবং ফিন্যানসিয়াল লিটারেসি কার্যক্রমের আওতায় টেলিভিশনে প্রচারের জন্য তৈরি করা দুটি বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন, “ভারতে কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত না হলে সেখানে ব্যবসা করার কোনো সুযোগ নেই।”

বিশেষ অতিথির অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বিষয়টির দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেন, “আমাদের অর্থনীতি যে জায়গায় পৌঁছেছে তাতে তাদের (বহুজাতিক কোম্পানি) এদেশে বিনিয়োগের জন্য একটু চাপ সৃষ্টি করতে পারি।”

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2023 Mohajog