1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৪২ অপরাহ্ন

নতুন মুদ্রানীতির পর পুঁজিবাজারে দরপতন

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০১৭
  • ১৮২ বার

প্রতিবেদক : শেয়ার বাজারের সাম্প্রতিক উল্লম্ফন নিয়ে নতুন মুদ্রানীতিতে সতর্কবাণী আসার পর বড় দরপতন হয়েছে বাংলাদেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে। সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১১৮ পয়েন্ট, যা সাম্প্রতিক সময়ের বড় পতন। লেনদেন কমার পাশাপাশি বেশিরভাগ শেয়ারের দামও কমেছে এদিন।

আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ৪১৯ পয়েন্ট। এ বাজারেও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম ও লেনদেন কমেছে।

ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ বাজারে যে পতন হয়েছে তা স্বাভাবিক কারেকশন (মূল্য সংশোধন) নয়। মার্কেটকে জোর করে নামানো হয়েছে।

“সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে বিভিন্ন মহলের কথাবার্তা এবং সর্বশেষ মুদ্রানীতি দিতে গিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব‌্যের পর বড় দরপতন হয়েছে।”

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ‌্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এবং এএএ ফাইন্যান্স অ‌্যান্ড ইনভেস্টমেট করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ হাফিজ উদ্দিন বলেন, “মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় গভর্নর বাজারে নজরদারি বাড়ানোর যে কথা বলেছেন, তাতে প‌্যানিক সৃষ্টি হয়ে দরপতন ঘটেছে।”

রোববার দুই পুঁজিবাজারেই লেনদেন শুরু হয়েছিল ঊর্ধ্বমুখী সূচক নিয়ে। সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেন শুরুর পর এক দফা কিছুটা কমলেও সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চাঙ্গাভাব অব্যাহত ছিল।

কিন্তু নতুন মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজার নিয়ে সতর্ক করার পর দুই বাজারেই সূচক নামতে থাকে। বেলা আড়াইটায় লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে পতনের প্রবণতা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক পড়েছে যেভাবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক পড়েছে যেভাবে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় গভর্নর ফজলে কবির বলেন, “মূলধন বাজারে ২০১০ সাল থেকে বিদ্যমান মন্দা প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াটি যাতে কর্তৃপক্ষের সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণে, সুস্থ ধারায় থাকে, সে বিষয়ে কার্যকর নজরদারি জরুরি। তা না হলে অতীতের মতো এবারও বিনিয়োগকারীদের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে।”
তিনি বলেন, “পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ইতোমধ্যে সতর্কতামূলক উপদেশ জারি এবং বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়াতে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে। স্পন্সরদের শেয়ার ও অস্বাভাবিক উচ্চ প্রাইস আর্নিং রেশিওধারী শেয়ারগুলোর বিপরীতে মার্জিন ঋণ যোগানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপও এক্ষেত্রে বাঞ্ছনীয় হতে পারে।”

গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাংকগুলোর ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে তারা আইন নির্দেশিত মাত্রা মেনে চলে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দিক থেকেও তাদের গ্রাহকদের নেওয়া বিভিন্ন ঋণ সঠিক খাতে যথাযথ ব্যবহার হয় কি না- সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে।

“অস্বাভাবিক লাভের আশায় বিনিয়োগের যাতে অপব্যবহার না হয়- সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করতে হবে।”

ডিএসইএক্স: এক মাসের প্রবণতা ডিএসইএক্স: এক মাসের প্রবণতা ডিএসইএক্স: এক বছরের প্রবণতা ডিএসইএক্স: এক বছরের প্রবণতা
>> রোববার ডিএসইতে এক হাজার ১৩৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে; যা বৃহস্পতিবারের চেয়ে ১৩২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা কম। সেদিন এ বাজারে এক হাজার ২৬৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

>> ডিএসইতে রোববার ৩২৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড হাতবদল হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৭টির, কমেছে ২৭৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে পাঁচটির দর।

>> এ বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দিন শেষে আগের দিনের চেয়ে ১১৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫০০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১৭ পয়েন্ট কমে হয়েছে এক হাজার ২৭৪ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ৩৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে দুই হাজার ৩ পয়েন্টে।

>> অন্যদিকে সিএসইতে ৬৮ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে এদিন। বৃহস্পতিবার হাতবদল হয়েছিল ৭২ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার।

>> সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪১৯ পয়েন্ট কমে ১৬ হাজার ৯৭৯ পয়েন্টে দিন শেষ করেছে রোববার। লেনদেন হয়েছে ২৬৩টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪২টির, কমেছে ২১৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে চারটির দর।

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ধসে অনেকে সর্বস্ব হারিয়েছিলেন। এরপর গত ছয় বছর ধরে বাজার পড়তির দিকে হলেও গতবছরের শেষ দিক থেকে তেজিভাব দেখা যায়। দীর্ঘদিন পর ডিএসই সূচক সাড়ে ৫ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। পরিস্থিতি দেখে বাজার বিশ্লেষকদের অনেকেই অতীতের অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও হুজুগে না মেতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog