1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৩০ অপরাহ্ন

উত্তরায় আদনান হত্যায় দুই ‘গ্যাংয়ের’ ৮ জন গ্রেপ্তার

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭
  • ৯৮ বার

প্রতিবেদক : রাজধানীর উত্তরায় স্কুলছাত্র আদনান কবীর হত্যার ঘটনায় কিশোরদের দুই ‘গ্যাংয়ের’ দলনেতাসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। বুধবার সকালে র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, মঙ্গলবার রাতভর ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, শাহরিয়ার বিন সাত্তার সেতু (২২), মো. আক্তারুজ্জামান ছোটন (১৯), মো. শাহীনুর রহমান (১৭), মো. রমজান মোবারক (১৭), মো. সেলিম খান (২৩), মো. ইব্রাহিম হোসেন সানি (২৮), মিজানুর রহমান সুমন (২২) ও জাহিদুল ইসলাম জুইস (২১)।

তাদের কাছ থেকে তিনটি চাকু, দুইটি চাপাতি, দুইটি রড, তিনটি স্প্রে কালার বোতল, দুইটি স্কুল ব্যাগ এবং চার পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার এই আটজন কথিত ‘ডিসকো বয়েজ’ ও ‘বিগ বস’ গ্যাং এর সদস্য বলে জানান র‍্যাব-১ এর উপ অধিনায়ক কাজী মোহাম্মদ শোয়াইব।

পরে দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে মুফতি মাহমুদ বলেন, এদের মধ্যে শাহরিয়ার বিন সাত্তার সেতু ডিসকো বয়েস গ্রুপের ‘গ্যাং লিডার’। এই গ্রুপের গ্রেপ্তার আরেক সদস্য জুইস উত্তরা স্কুল অ্যাণ্ড কলেজে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে বাকি ছয়জন বিগবস গ্রুপের সদস্য জানিয়ে এই র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, বিগ বস গ্রুপের লিডার হচ্ছে আক্তারুজ্জামান ছোটন। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে বিবিএতে অধ্যায়নরত ছোটনের নামে আগেও অন্তত একটি মামলা রয়েছে।

এই গ্রুপে গ্রেপ্তারদের মধ্যে সুমন এইচএসসি পাশ বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাবকে বলেছে।

মুফতি মাহমুদ বলেন, গ্রেপ্তার অন্যদের স্কুলে যাতায়াত নেই বললেই চলে।

তিনি জানান, বিগবস গ্রুপে ছোটন এবং সুমন দুই ভাই। এরা হকার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সানি ইজি বাইক চালক, সেলিম পোশাক কারখানায় চাকরি করে, রমজান সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আর শাহীন পরিবহন সেক্টরে চাকরি করে।

র‍্যাব কর্মকর্তা মুফতি বলেন, ২০০১ সালে উত্তরা এলাকায় গ্যাং কালচার শুরু হয়। সেই সময় কাঁকড়া নামে একটি গ্রুপ তৈরি হয়। তবে ওই গ্রুপটি বেশিদিন টিকেনি। পরে ২০০৯ সালে ডিসকো বয়েস গ্রুপ চালু হয়।

র‍্যাবের অনুসন্ধানে উত্তরায় অন্তত ১৫টি এ ধরনের গ্রুপ চালু থাকার তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, অধিকাংশ গ্রুপের সদস্য সাধারণত স্কুল ড্রপ বালক। এই সব গ্রুপে বাইরের সদস্যরা প্রধান হয় এবং তারা প্রভাব বিস্তার করে।

আদনান হত্যাকাণ্ডের গ্রেপ্তাররা জড়িত ছিল কিনা জানতে চাইলে মুফতি মাহমুদ বলেন, “গতরাতে তাদের ধরেছি। বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারিনি। তবে জুইস ঘটনার সময় ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।”

আদনানের উপর হামলার আগে ‘ডিস্কো’ গ্রুপের ফেইসবুক পাতায় এই ছবি তোলা হয়, যাতে কয়েকজনের হাতে লাঠি-রড দেখা যায়।

উত্তরার ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আদনান গত ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় খুন হন। ১০/১৫ জন তরুণ ধাওয়া করে আদনানকে ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর সড়কে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার ঘণ্টাখানেকের মাথায় তার মৃত্যু হয়।
‘ডিসকো বয়েস’ গ্রুপের সঙ্গে স্থানীয় ‘নাইনস্টার’ গ্রুপের দ্বন্দ্বে ওই হত্যাকাণ্ড হয় বলে ঘটনার পর জানিয়েছিল পুলিশ।

গত বছর ‘নাইনস্টার গ্রুপের’ নেতা ‘তালাচাবি রাজু’কে ছুরিকাহত করেছিল ‘ডিসকো বয়েজ গ্রুপের’ সদস্যরা। তারপর থেকে তাদের দ্বন্দ্ব চলছিল।

র‍্যাব কর্মকর্তা মুফতি মাহমুদ বলেন, “আদনান হত্যাকাণ্ডের আগে নিজেদের মধ্যে কয়েক দফা মারামারি হয়। তবে তা গুরুতর না হওয়ায় কেউ বুঝতে পারেনি।”

৬ জানুয়ারি ডিসকো গ্রুপ ও বিগবস গ্রুপ এক হয়ে নাইনস্টার গ্রুপের লিডার ‘তালাচাবি রাজুকে’ আক্রমণ করার পরিকল্পনা করে এবং সেই অনুযায়ী আক্রমণও করে। রাজু ওই সব পালিয়ে যেতে পারলেও আদনান পালাতে পারেননি। তারা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

আদনান নাইনস্টার গ্রুপের সদস্য কিনা জানতে চাইলে মুফতি বলেন, “আদনান ওই গ্রুপের সদস্য কিনা তা জানা যায়নি। তবে আদনান রাজুর ঘনিষ্ঠ ছিল।”

ছেলের মৃত্যুর পর আদনানের বাবা মো. কবির হোসেন উত্তরা পশ্চিম থানায় নয়জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১০/১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিদের সবার বয়স ১৬ থেকে ২২ বছরের মধ্যেয়।

হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ ডন ও সাদাফ নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog