1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ কি মুসলিমদের বিরুদ্ধে? : আদালতের প্রশ্ন

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭
  • ১০০ বার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মুসলিম প্রধান সাতটি দেশের নাগরিকদের ভ্রমণের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার কারণে মুসলিমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন সান ফ্রান্সিসকোর আপিল আদালতের তিন বিচারকের একজন। এ সপ্তাহের শেষ দিকে আপিল আদালত এ বিষয়ে শুনানি শেষ করে রায় দিতে পারেন। আজ বুধবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
গত শুক্রবার সিয়াটলের একজন ফেডারেল বিচারক ওয়াশিংটন ও মিনেসোটা এ দুই অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের অনুরোধে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন অবিলম্বে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। হোয়াইট হাউস আদালতের সেই নির্দেশ জাতীয় স্বার্থে বাতিলের আবেদন জানালে এর জবাবে সান ফ্রান্সিসকোর আপিল আদালত গত রোববার তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসারে আপিল অনুরোধটি আদালতে পূর্ণ শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ কার্যকর হবে না। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সাতটি দেশ হলো ইরান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, সুদান, সোমালিয়া ও লিবিয়া।

গতকাল মঙ্গলবার এই আপিলের শুনানিতে বিচারক রিচার্ড ক্লিফটন জানতে চান, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিশ্বের ১৫ শতাংশ মুসলমান পড়ছে, তাহলে এই আদেশ কেন বৈষম্যমূলক হবে না।

গতকাল প্রায় এক ঘণ্টা ধরে উভয় পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলে। তবে মামলাটি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের যুক্তি তুলে ধরে আইনজীবী অগাস্ট ফ্লেনতেজে বলেন, দেশে কে প্রবেশ করতে পারবে, কে পারবে না, তা নির্ধারণ করার অধিকার প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেস দিয়েছে।

এই সাতটি দেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি—এ বিষয়ে আদালত প্রমাণ চাইলে আইনজীবী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা একদল সোমালীয় নাগরিকের সঙ্গে উগ্রপন্থী ইসলামি সংগঠন আল-শাবাবের সঙ্গে যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

শুনানির এ পর্যায়ে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্বকারী সলিসিটর জেনারেল নোহ পুরসেল আদালতকে বলেন, নির্বাহী আদেশের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো ক্ষতি হয়নি। বরং এই নিষেধাজ্ঞার কারণে রাষ্ট্রের হাজারো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পড়াশোনার জন্য অনেক শিক্ষার্থী আসতে পারছে না। এমনকি অনেকে এখানে থাকা তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসতে পারছে না।

শুনানির শেষ দিকে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না দেওয়ার জন্য কি না, তার ওপর আলোচনা হয়। আর যদি এটি হয়ে থাকে তাহলে তা হবে অসাংবিধানিক।

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পক্ষে গত সোমবার রাতে বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া ১৫ পৃষ্ঠার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ধর্মের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিরপেক্ষভাবে’ এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার আদালতে নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য তুলে ধরে পুরসেল সমালোচনা করেন। এমনকি তিনি এ সময় প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা রুডি জুলিয়ানির বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি (রুডি) বলেছিলেন, তাঁকে মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করার আইনি পথ খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে।

এ পর্যায়ে বিচারক ক্লিফটন বলেন, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা সাতটি দেশের ওপর। ওবামা প্রশাসন ও কংগ্রেস আগেই সন্ত্রাসী হামলার হুমকি হিসেবে এ সাতটি দেশকে শনাক্ত করে গেছে। তিনি আইনজীবী পুরসেলের কাছে জানতে চান, তার মানে কি আগের প্রশাসন ও কংগ্রেস ধর্মীয় দিক বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল?

জবাবে পুরসেল বলেন, না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। যদিও এটি পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা নয়, এটি বৈষম্য।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog