1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন

চলছে দ্বিতীয় দিনের পরিবহন ধর্মঘট, দুর্ভোগ চরমে

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ মার্চ, ২০১৭
  • ৭৫ বার

প্রতিবেদক: দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে অচল হয়ে পড়েছে সারাদেশ। পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ পরিবহন বন্ধ করে দেয়ায় জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

দুই চালককে দেয়া আদালতের রায়ের প্রতিবাদে এবং তাদের মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করে পরিবহন শ্রমিকরা। ওই দুই চালক মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আন্তঃজেলা ট্রাক চালক ইউনিয়নের সভাপতি তাজুল ইসলাম।

মঙ্গলবার ধর্মঘটের প্রথমদিন রাজধানীর গাবতলীতে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তবে বাধা উপেক্ষা করে শ্রমিকরা পুলিশ বক্স ও ব্যারাকে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এছাড়াও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা-ভাংচুর ও পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এদিকে হঠাৎ করে লাগাতর পরিবহন ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছে দেশের জনগণ। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। এমন ভোগান্তির মাঝেই পরিবহন শ্রমিকরা তাদের ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

চলমান ধর্মঘটে শ্রমিকদের পক্ষ নিয়েই কথা বলতে শোনা গেল সরকারের নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানকে। তিনি বলেছেন, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা ক্ষোভ প্রকাশ করতেই পারেন। এটাকে ধর্মঘট নয় ‘স্বেচ্ছায় অবসর’ বলা যেতে পারে।

বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, সব সমস্যারই সমাধান হবে, তবে একটু সময় লাগবে। কারণ বাসচালক নেতারা কোনো নির্দেশনা মানতে চাইছেন না।

চালকদের পক্ষ নিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, চালকেরা মনে করেছেন, তারা মৃত্যুদণ্ডাদেশ বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশের মতো রায় মাথায় নিয়ে গাড়ি চালাবেন না। তাই তারা স্বেচ্ছায় গাড়ি চালাচ্ছেন না। এটাকে ধর্মঘট নয় ‘স্বেচ্ছায় অবসর’ বলা যেতে পারে।

শাজাহান খান বলেন, কোনো ঘোষণা দিয়ে এ কর্মসূচি দেয়া হয়নি। ক্ষুব্ধ চালকেরা জেল-জুলুম মাথায় নিয়ে কাজ করতে চান না। সবকিছু এবং সবাইকে আইন বা নিয়মকানুনের মধ্যে থাকা উচিত। সাংবাদিকদের পুলিশ পেটালে যেমন খাতা-কলম রাস্তায় ফেলে বসে থাকেন—বিষয়টি অনেকটা এ রকমই।

শাজাহান খান বলেন, দুনিয়ার কোথাও দুর্ঘটনার জন্য ফাঁসি বা যাবজ্জীবন দেয়ার আইন বা বিধান নেই। আমি মনে করি, চালকদের তিন বছর শাস্তি হওয়া উচিত। সারা পৃথিবীতে এসব অপরাধের জন্য বেশি হলে পাঁচ থেকে সাত বছরের শাস্তি হয়। খুন করা হলে ৩০২ ধারার মামলা করতেই পারে। কিন্তু ফাঁসি দিয়ে বা যাবজ্জীবন দিয়ে খুন বন্ধ করা যায় না। এ ধারণাটি তৈরি করছেন বুদ্ধিজীবীরা।

মন্ত্রী বলেন, ‘একজন মন্ত্রীর সন্তান গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনা থেকে একটি কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে সেই চালক মারা গিয়েছিলেন। তাহলে কি কুকুরের বিচার হতে হবে?’

মন্ত্রী আবারো বলেন, ‘আমি মনে করি, তিন বছরের বেশি শাস্তি হওয়া উচিত নয়। দুনিয়ার কোথাও মৃত্যুদণ্ড নেই। বেশি হলে পাঁচ থেকে সাত বছরের শাস্তি হয়। অবশ্যই আপনি চালকদের সাবধান করতে পারেন। বিচার অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু নিয়মকানুন মেনে হতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সমাধান হবে, সময় লাগবে। এ পরিস্থিতিতে চালকেরা কোনো নির্দেশনা মানতে চাইছেন না। এ রায়ের ব্যাপারে আমরা অবশ্যই আপিল করব।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ২০১১ সালের চেয়ে ২০১৪ দুর্ঘটনা কমেছে। ২০১৪ সালে ভারতে ২০ দশমিক ৭ শতাংশ, পাকিস্তানে ২০ শতাংশ। আর সেখানে বাংলাদেশে রেট হলো ১২ দশমিক ৮। সে ক্ষেত্রে দেখা যায় দুর্ঘটনা কমেছে।

এদিকে শ্রমিকরা দাবি না মানা পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত পরিবহনশ্রমিকেরা। বিষয়টি নিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান শ্রমিক নেতারা।

মঙ্গলবার বিকেলে গাবতলীতে এক সমাবেশে বাংলাদেশ আন্তজেলা ট্রাক চালক ইউনিয়নের সভাপতি তাজুল ইসলাম নিজেদের এ অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবিদাওয়া সম্পূর্ণ মেনে নিলে শ্রমিকরা গাড়ি চালাবেন। দাবি না মানলে কর্মসূচি চলবে। আইন বাতিল ও দণ্ডিত চালকদের মুক্তি না দিলে গাড়ি চলবে না।’

তিনি বলেন, ‘সংবাদপত্র, অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি গাড়ি ছাড়া কোনো রকম গাড়ি চলবে না, চালাতে দেব না। আমাদের নেতা শাজাহান খান কেবিনেট মন্ত্রী। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললে দুই মিনিটের ব্যাপার। এ আইন প্রত্যাহার করে শ্রমিকদের জেল থেকে বের করব। আমাদের দাবিদাওয়া সম্পূর্ণ মেনে নিলে শ্রমিকেরা গাড়ি চালাবেন।’

সমাবেশে বাংলাদেশ আন্তজেলা ট্রাক চালক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী বলেন, ‘যাবজ্জীবন আর ফাঁসির দায় মাথায় নিয়ে আমরা গাড়ি চালাতে পারব না। যতক্ষণ না আইন বাতিল ও দণ্ডিত চালকদের মুক্তি না দেয়া হবে, ততক্ষণ এ আন্দোলন চলবে।’

এদিকে সরকারকে বিষয়টি সুরাহায় এ পর্যন্ত কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে লক্ষ্য করা যায়নি। বিষয়টি আদালতের বলে মন্ত্রী-এমপিরা বক্তব্য দিচ্ছেন। শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর গাবতলীতে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তবে বাধা উপেক্ষা করে শ্রমিকরা পুলিশ বক্স ও ব্যারাকে আগুন ধরিয়ে দেয়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। গাবতলী ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিকরাও সংঘবদ্ধ অবস্থায় ওই এলাকায় অবস্থান করছিল।

ঢাকার মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আহমেদ জানান, সকাল থেকেই ঢাকার ভেতরে বিভিন্ন গাড়ি ঢুকতে বাধা দিচ্ছিল শ্রমিকরা; পুলিশ তা প্রতিহত করতে গেলে রাতে পুলিশ বক্স ও ব্যারাকে আগুন ধরিয়ে দেয় শ্রমিকরা।

উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহতের ঘটনায় বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। এ ঘটনায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় দুই দিন পরিবহন ধর্মঘট চলার পর সোমবার প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হলেও পরে শ্রমিক নেতারা দেশব্যাপী এ কর্মসূচি বহাল রাখার কথা বলেন।

এরই মধ্যে ঢাকার সাভারে ট্রাকচাপায় এক নারীকে হত্যার দায়ে সোমবার ট্রাক চালক মীর হোসেনের ফাঁসির রায় হয়। এ নিয়ে সোমবার রাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ কর্মসূচি চলবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog