1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন

মূল্যস্ফীতি উসকে দিল গরুর মাংস!

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০১৭
  • ১৯৬ বার

প্রতিবেদক : এক-দেড় মাস ধরেই বাড়তে থাকা গরুর মাংসের দাম হইচই ফেলে দিয়েছে। মধ্যবিত্তের চোখ এখন গরুর বদলে মুরগির দিকে। আর মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিয়েছে এই গরুর মাংস।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে এক কেজি গরুর মাংস ৪২০ থেকে ৪৩০ টাকায় মিলত। মাসজুড়েই গরুর মাংসের দাম বেড়েছে। মাস শেষে দাম ঠেকেছে কেজিতে ৪৭০ থেকে ৪৮০ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে ক্রেতাদের বাড়তি গুনতে হয়েছে কেজিতে ৫০ টাকার মতো।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক বছর আগে এক কেজি গরুর মাংসের দাম ছিল গড়ে ৪০০ টাকা। এক বছরে কেজিতে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে ৭০-৮০ টাকা। একইভাবে এক বছরে খোলা ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ৪ থেকে ৭ টাকা।

এই গরুর মাংস ও ভোজ্যতেলের দামই মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ হয়েছে, যা আগের মাসের চেয়ে কিছুটা বেশি। গত জানুয়ারি মাসে এই হার ছিল ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ।  মঙ্গলবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে গরুর মাংস ও ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধিই মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণ।

তবে বিবিএস সূত্রে জানা গেছে, যেসব খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের ওপর ভিত্তি করে মূল্যস্ফীতি মাপা হয়, সেখানে গরুর মাংস ও ভোজ্যতেলের অবদান (ওয়েট) ১ শতাংশের কম।

মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে নানাভাবে ছুঁয়ে যায়। ধরা যাক, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একজন ক্রেতাকে একটি পণ্য কিনতে ১০০ টাকা খরচ করতে হয়েছে। এই বছরের গত ফেব্রুয়ারি মাসে ওই পণ্য কিনতে ১০৫ টাকা ৩১ পয়সা খরচ করতে হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ওই ব্যক্তিকে ৫ টাকা ৩১ পয়সা বেশি খরচ করতে হয়েছে। এটাই মূল্যস্ফীতি। সার্বিক জীবনযাত্রার খরচের প্রতিফলন ঘটে মূল্যস্ফীতিতে। এবার আসা যাক খরচ বাড়ল; কিন্তু আয় বাড়ল কি না। বিবিএসের জাতীয় মজুরি সূচকের হিসাবে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে মজুরি বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এর মানে হলো মূল্যস্ফীতি যে হারে বেড়েছে, কর্মজীবী মানুষের আয় আরও বেশি হারে বেড়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের মূল্যস্ফীতি পর্যালোচনা করে বিবিএস বলেছে, গত জানুয়ারি মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারি মাসে চাল, মাছ-মাংস, শাকসবজি, তেল, দুধ ও দুধজাতীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে দশমিক ০৩ শতাংশ। একইভাবে কাপড়, গ্যাস-বিদ্যুৎ, বাড়িভাড়া, আসবাবপত্র ও গৃহস্থালি, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণসহ বিভিন্ন সেবা ও পণ্যের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ০৩ শতাংশ।

বিবিএসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগের মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আর জানুয়ারি মাসে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ০৭ শতাংশে নেমে এসেছে। ডিসেম্বর মাস এ হার ছিল ৩ দশমিক ১০ শতাংশ।

বরাবরের মতো গ্রামের মানুষের চেয়ে শহরের মানুষের ওপর ফেব্রুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি ছিল। তবে এই ব্যবধান কমে আসছে ক্রমে। শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং গ্রামে এ হার ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ।

সুত্র : প্রথম আলো

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog