1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

আইনী লড়াই চালিয়ে যাবেন আরিফুল, মোসাদ্দেক ও গউছ

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৭
  • ১১৮ বার

প্রতিবেদক : দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে মেয়রের পদ ফিরে পাওয়া তিন মেয়রকে রোববার পুনরায় বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তবে তিনজনই আইনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেছেন। এদিকে সোমবার সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করার আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

জি কে গউছ

হবিগঞ্জ পৌরসভার সদ্য বরখাস্ত হওয়া মেয়র ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছ বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের এ মামলার ১২ বছর পর তাঁকে শ্রেণিভুক্ত আসামি করা হয়। তিনি যখন শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় কারাগারে ছিলেন, তখন তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত আছেন।

জি কে গউছ বলেন, তিনি যদি সত্যি অপরাধী হতেন, তা হলে হবিগঞ্জের মানুষ তাঁকে এভাবে টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত করত না। তিনি দাবি করেন, কোনো মামলাতেই তাঁর সম্পৃক্ততা নেই। গউছ বলেন, ‘বিচারক যদি ন্যায়বিচার করার সুযোগ পান, তা হলে আমার বিশ্বাস এসব মামলাই মিথ্যা মামলা হিসেবে প্রমাণিত হবে এবং আমি খালাস পাব।’

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলা মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্রে সম্প্রতি গউছ অভিযুক্ত হন। এর আগে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় ২০১৪ সালে দেওয়া সর্বশেষ সম্পূরক অভিযোগপত্রে জি কে গউছকে অভিযুক্ত করা হয়। একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কারাগারে থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন জি কে গউছ। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে শপথ নেন। কিন্তু কিবরিয়া হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় ওই বছরের ২০ মার্চ তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি তিনি উচ্চ আদালত থেকে দুটি মামলাতেই জামিনে মুক্তি পান।

মোসাদ্দেক হোসেন

হবিগঞ্জের গউছের মতো রাজশাহীর মেয়র মোসাদ্দেকও  প্রথমে দায়িত্ব নিতে বাধা পেয়েছেন। দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে গতকাল রোববার বেলা তিনটার দিকে মেয়রের চেয়ারে বসতেও সক্ষম হয়েছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। আট মিনিটের মাথায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি পান তিনি।

এ বিষয়ে মোসাদ্দেক হোসেন বলেন,  আমি আইনগত পদক্ষেপ নেব। কারণ, মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আদালতে কোনো মামলার অভিযোগপত্র গৃহীত হলেও পলাতক না থাকলে কোনো জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা যাবে না। বরখাস্তের আদেশের মাধ্যমে ইতিমধ্যে নির্বাহী বিভাগ বিচার বিভাগের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, তাকে বরখাস্তের ফ্যাক্স ষড়যন্ত্রমূলক। আদালতের আদেশ না আসা পর্যন্ত তিনি অফিস করতে চেয়েছিলেন। গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে আমার বাসার পিয়নের কাছ থেকে সিটি করপোরেশনের কোনো একজন লোক এসে বরখাস্তের আদেশের কপি সই করিয়ে নিয়ে গেছে। এ জন্য আমি কোনো ঝামেলায় যেতে চাচ্ছি না। আমার মানসিকতা ওই রকম না। আইনি পদক্ষেপ নেব।

তিনি আরো বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কিছু অর্থলোভী কাউন্সিলর ও কর্মচারীরা যে কর্মকাণ্ড করল, তা জঘন্য। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। ৯০০ গুণ পর্যন্ত হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে। ভুঁইফোড় লোক দিয়ে সিটি করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠান চালানোর মানেই হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে নেতৃত্বশূন্য করা।

আরিফুল হক চৌধুরী
উচ্চ আদালতের নির্দেশে আরিফুল হক দুই বছর তিন মাস পর গতকাল রোববার মেয়রের দায়িত্ব নেন। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত মেয়রের চেয়ারে বসা ছিলেন তিনি। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ পৌঁছায়। আদেশে বলা হয়, সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলার মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। আদেশটি ঢাকা থেকে পাঠানো হয় ফ্যাক্সযোগে। এরপর বেলা দুইটার পর নগর ভবন থেকে নিজ বাসায় ফিরে যান তিনি।

এ বিষয়ে আরিফুল হক বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে এভাবে কথায় কথায় মামলার আসামি করা, বরখাস্ত করা, জনগণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা মোটেই মঙ্গলজনক নয়। যে মামলায় আমাকে দায়িত্ব পালনে বাধা না দেয়ার জন্য আদালতের নির্দেশনা রয়েছে, সে মামলায় কীভাবে বরখাস্ত করা হলো, তা আমার বোধগম্য নয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের বার্তায় বলা হয়েছে, ‘আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলা-৪/২০০৯) সম্পূরক অভিযোগপত্র গত ২২ মার্চ স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল সুনামগঞ্জ কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। সেহেতু সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে স্থানীয় সরকার বিভাগ আইন ২০০৯ (২০০৯ সালের ৬০ নম্বর আইন)-এর ১২ উপধারা (১)-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।’

বিশেষ ট্রাইব্যুনালে চলা এ মামলাটি হচ্ছে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে জনসভায় বোমা হামলার মামলা। ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলার ঘটনার দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর পর মেয়র আরিফুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়।

আরিফুল হক চৌধুরী ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়রের দায়িত্ব পালনের মাত্র নয় মাসের মাথায় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি হয়ে দুই বছর চার দিন কারাভোগ করেন। গত ৪ জানুয়ারি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog