1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha : Sardar Dhaka
  2. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
  3. rafiqul@mohajog.com : Rafiqul Islam : Rafiqul Islam
  4. sardar@mohajog.com : Shahjahan Sardar : Shahjahan Sardar
রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

মোদিতেই আস্থা শেখ হাসিনার

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৭
  • ৯০ বার

প্রতিবেদক : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায় তিস্তা চুক্তির বিরোধিতায় অনড় থাকলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আশ্বাসে ভরসা রাখতে চান বাংলাদেশের সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। মমতা তিস্তার পানি দিতে না চাইলেও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছেন। তার প্রতিক্রিয়ায় শেখ হাসিনা রসিকতার সুরে বলেছেন- ‘কুছতো মিলা’।

চার দিনের ভারত সফরের শেষ দিন ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনা একপর্যায়ে লিখিত বক্তব্যের বাইরে গিয়ে তিস্তা প্রসঙ্গে বলতে শুরু করেন হিন্দিতে।

এ সময় করতালি আর হাসিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ইম্পেরিয়াল হোটেলের মিলনায়তন।

গত শনিবার দুই প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকের এক পর্যায়ে মমতাকে ডাকা হলে তিনি তিস্তার পানির বদলে বাংলাদেশকে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তাব দেন। আর ওইদিন রাতে দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের পর মমতা সাংবাদিকদের বলেন, তিস্তার বদলে তোর্সাসহ কয়েকটি ছোট নদীর পানি দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তিনি।

অন্যদিকে মোদী শীর্ষ বৈঠকের পর বলেন, দুই দেশের বর্তমান সরকারের মেয়াদেই তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যার সমাধানে পৌঁছনো যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে শেখ হাসিনা বলেন, “মুঝে পাতা নেহি দিদিমনি (মমতা) কেয়া কারেগা। দিদি মনি কি সাথ মেরি বাত হুয়ি।… তো উনুনে জো নয়া কুছ দেখা দিয়া।

“লেকিন, মোদীজি নে অ্যাসিওর কিয়া। হাম আভি বেয়ঠা হ্যায়, দেখনে কে লিয়ে উনুনে কেয়া কারে ।

“লেকিন দিনিমনি এক কাম কিয়া। হাম ইলেকট্রিসিটি দেউঙ্গি। পানি মাঙ্গা, লেকিন ইলেকট্রিসিটি মিলা। আচ্ছা হ্যায়, কুছ তো মিলা।”

আমি জানি না, দিদিমনি কী করবে। দিদিমনির সাথে কথা হয়েছে। উনি নতুন এক প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে মোদীজি নিশ্চায়তা দিয়েছেন। আমিও বসে আছি দেখার জন্য, উনি কী করেন।

কিন্তু দিদিমনি একটা কাজ করেছেন। বলেছেন, বিদ্যুৎ দেবেন। পানি চাইলাম, দিল বিদ্যুৎ। তাও ভালো, কিছু তো পেলাম!]

ইংরেজিতে লিখিত বক্তব্যের ফাঁকে বাংলাতেও কিছু কথা বলেন শেখ হাসিনা। মমতা প্রসঙ্গের পর স্থলসীমান্ত চুক্তি নিয়েও তিনি হিন্দিতে কিছু কথা বলেন।

তিনি বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তির প্রটোকল স্বাক্ষরকে একটি ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ভারতের লোকসভায় সকল দলের সম্মতিতে ওই চুক্তি অনুমোদনের ঘটনাকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐতিহাসিক ঘটনা’।

শেখ হাসিনা বলেন, “ভারতীয় সেনারা আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে রক্ত দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল।”

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটানোর কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

“আমরা মুহূর্তে রিফিউজি হয়ে যাই। ইন্দিরা গান্ধী আমাদের ভারতে নিয়ে আসেন। প্রথম দু/তিন বছর আমরা কারও সাথে কথা বলা বা মেলামেশা করার মতো অবস্থায় ছিলাম না।”

এরপর যখন ভারতের বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন, তখন তাদের আন্তরিকতায় অভিভূত হয়েছিলেন বলে জানান হাসিনা।

“দলমত নির্বিশেষে সকলেই আন্তরিক ছিলেন। আপনাদের সহায়তা না পেলে আমাদের কি হত- তা জানি না।”

প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বের মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমস্যা হয়, কিন্তু শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানেরও সুযোগ রয়েছে।
“আমরা একসঙ্গে কাজ করলে এই অঞ্চলের মানুষকে উন্নত জীবন দিতে পারব।”

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “ছোট দেশ, বড় দেশ; সেটা বড় কথা না। আমরা স্বাধীন দেশ, সার্বভৌম দেশ।

“আমরা একে অপরকে সম্মান করি। আমরা বন্ধুত্বকে সব সময় গুরুত্ব দিই। বন্ধুত্বের সব থেকে বড় জিনিস হল… যার মাধ্যমে যে কোনো সমস্যা সমাধান করা যায়।”

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঝগড়া করে সমস্যার সমাধান হয় না, সমমর্যাদা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতেই তার দেশ চলবে।

বাংলাদেশের মক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার জন্য এ অনুষ্ঠানেও ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস হিসাবে পালনের যে প্রস্তাব বাংলাদেশের সংসদে গ্রহণ করা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিকভাবে পালনে ভারতের সমর্থনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা এটাকে ক্ষমা করতে পারি, কিন্তু এটা ভুলে যেতে পারি না।”

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2023 Mohajog