1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন

জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় বাল্যবিয়ের আইনে বিকল্প রাখা হয়েছে : আইনমন্ত্রী

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৭
  • ৬৯ বার

প্রতিবেদক : বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন নিয়ে আলোচনা খুবই নিরর্থক।  বিশেষ বিধানকে ‘শৈথিল্য নয়’, বরং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় একটা ‘বিকল্প’ রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক । মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “যে আইনটা করা হয়েছে, তাতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ের বিয়ে দেওয়া এবং ২১ বছরের কম বয়সী ছেলে বিয়ে করতে পারবে না। কিন্তু জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য একটা বিকল্প দেওয়া হয়েছে।

“তার মানে এই নয় যে, আমরা ১৮ বছর এবং ২১ বছরের যে আইন বা বিধান সেটা শিথিল করেছি। বিকল্প বিধানে অভিভাবক ও আদালত দুইয়ের সম্মতির পর বিয়ে দেওয়া যাবে। আমার মনে হয়, এই নিয়ে যে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে এটা খুবই নিরর্থক।”

‘বিশেষ প্রেক্ষাপটে’ আদালতের নির্দেশনা এবং মা-বাবার সম্মতিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ের সুযোগ রেখে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭’ জাতীয় সংসদে পাস হয়।

ছেলে ও মেয়ের বিয়ের ন্যূনতম বয়স আগের মতো ২১ ও ১৮ বছর বহাল থাকলেও আইনের ওই বিশেষ বিধানে বলা হয়, “এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারীর সর্বোত্তম স্বার্থে আদালতের নির্দেশনাক্রমে এবং মাতা-পিতার সম্মতিক্রমে বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণক্রমে বিবাহ সম্পাদিত হইলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে না।”

ওই আইনের খসড়া নিয়ে আলোচনার সময় থেকেই বিভিন্ন নারী ও শিশু অধিকার সংগঠন এর বিরোধিতা করে বলে আসছিল, এর মাধ্যমে প্রকারান্তরে বাল্যবিয়েকে বৈধতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি এ আইনে ‘ধর্ষকরা উৎসাহিত হবে’।

‘মৌলবাদীদের খুশি করতে’ সরকার বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনে ওই বিশেষ বিধান যুক্ত করছে কি না- সে প্রশ্নও তোলা হয় বিভিন্ন পক্ষ থেকে।

আইন পাসের পর এ নিয়ে প্রতিবাদের মধ্যেই হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ঢাকায় এক সেমিনারে ওই আইনকে সংবিধানের মূলনীতির সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ বলেন এবং তা সংশোধন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ প্রেক্ষাপটে বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের বিশেষ বিধান সংবিধানের সঙ্গে কেন ‘সাংঘর্ষিক’ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে সোমবার রুল দিয়েছে হাই কোর্ট।

এর পরদিন সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ‘আইন পালন যাতে মানুষের অসুবিধা না হয়’ সেজন্য বিকল্প বিধান রাখার বিষয়ে যুক্তি হিসাবে দেখান।

তিনি বলেন, “সব সময় আইনটাকে এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে এটা পালন করা সম্ভব; যাতে এমন কিছু আইনের মধ্যে না থাকে, যাতে এটাকে এমন রিজিড করে ফেলা না হয়, যাতে মানুষ এটাকে পালন করতে পারে না, মানুষের অসুবিধা হয়। আইন জনগণের জন্য।”

জরুরি পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে আইনে বিশেষ বিধান করা হলেও সেই পরিস্থিতি কেমন হতে পারে সেটা খোলাসা করেননি আইনমন্ত্রী।

তবে এর দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে গতবছরের ৭ ডিসেম্বর সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “আমরা ১৮ বছর পর্যন্ত বিয়ের বয়স নির্ধারণ করে দিয়েছি। কিন্তু একটি মেয়ে যদি… যে কোনো কারণে ১২-১৩ বা ১৪-১৫ বছরের সময়ে গর্ভবতী হয়ে যায়- তাকে গর্ভপাত করানো গেল না। তাহলে যে শিশুটি জন্ম নেবে তার অবস্থান কী হবে? তাকে কী সমাজ গ্রহণ করবে?

“তাহলে এই বাচ্চাটির ভবিষ্যৎ কী হবে? তার ভাগ্য কী হবে? এ রকম যদি কোনো ঘটনা ঘটে তাহলে কী হবে? যদি অ্যাবরশনের বিষয়টি আইনে থাকে, তাহলে সমস্যা নেই। অ্যাবরশন করিয়ে নেবে। আর যদি না হয় তাহলে যে মেয়েটি সন্তান জন্ম দিল তার ভবিষ্যৎ কী আর সন্তানটিরও ভবিষ্যত কী হবে?”

জরুরি পরিস্থিতিতে ‘পশ্চিমা দেশগুলির ব্যবস্থা’ ধর্মীয় কারণেই বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য নয় বলে যুক্তি দেখান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, “আমাদের কোনো ধর্মেই সেটা গ্রহণযোগ্য না, সে কারণে এই রকমের বিকল্প ব্যবস্থা মোকাবেলায় বিধান রাখতে হয়েছে। এটা যে জটিলতা সৃষ্টি করত, সেই জটিলতা নিরসন আরও কঠিন হত, এ কারণেই আমরা এই ব্যবস্থা করেছি।”

খুলনায় পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে শিশু রাকিব হত্যার বিচারিক আদালতে ফাঁসির রায় থেকে কমে আমৃত্যু কারাদণ্ড হওয়ার প্রসঙ্গেও এক সাংবাদিকের প্রশ্নে কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

নির্যাতনের পরের সময়ে ‘বাঁচানোর চেষ্টা করার প্রেক্ষাপটে সাজা কমেছে’ জানিয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে আনিসুল হক বলেন, “রায় পুরোপুরি বের হয়েছে কি-না জানি না। রায়টা আমি পড়ি নাই। দেখেছি, ফাঁসির দণ্ড কমে যাবজ্জীবন করা হয়েছে। রায় বেরোনের পর আমরা নিশ্চয় খতিয়ে দেখব, এখানে বিচারক যে সাজা দিয়েছিলেন সেটা কমানোর যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে কি-না।”

“আমরা তথা রাষ্ট্র যদি মনে করে এখানে এটা কমানোর যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ দেখা যায়নি, তাহলে নিশ্চয় আমাদের একটা সুযোগ আছে আপিল বিভাগের আপিল করার।”

এর আগে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সেমিনার হলে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের বিচারিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “বিচার ব্যবস্থা এবং স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার দিকে আমাদের প্রতিশ্রুতির কারণে এই প্রশিক্ষণ। আশা করব, আপনারা এর সুফল নিয়ে দেশের মানুষ আপনাদের কাছে যেটা চাচ্ছে, সেটার জন্য নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য হয়ে গড়ে উঠবেন এবং আপনারা মানুষকে জনগণকে ন্যায়বিচার দিতে সেই প্রশিক্ষণটি কাজে লাগাবেন।”

সারা দেশ থেকে আসা বিচারক ও কর্মকর্তারা অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগও এখান থেকে পাবে বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে সেদেশের ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমিতে পাঁচ বছরে বাংলাদেশের দেড় হাজার জুডিশিয়াল অফিসারকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি মূসা খালেদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনসচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক, ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা শেখ গোলাম মাহবুব বক্তব্য দেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog