1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:২০ অপরাহ্ন

শেষ বিদায় নিলেন লাকী আখন্দ

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৭
  • ৫৯ বার

প্রতিবেদক : রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শেষনিদ্রায় শায়িত হলেন মুক্তিযোদ্ধা, সুরকার, সংগীত পরিচালক লাকী আখন্দ। শিল্পীকে জানানো হলো শেষবিদায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে শনিবার বাদ জোহর শিল্পীর দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে হয় তৃতীয় জানাজা। বেলা পৌনে তিনটার দিকে শিল্পীর দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাকী আখন্দের মরদেহ রাখা হয়। সেখানে বৃষ্টির সঙ্গে মিশে যায় সমবেত সর্বস্তরের মানুষের চোখের জল। তাঁরা হৃদয়ের সশ্রদ্ধ ভালোবাসা জানান প্রিয় শিল্পীকে। লাকী আখন্দকে শ্রদ্ধা জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, শিল্পী, সাহিত্যিক, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দল-সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ।

সকাল ১০টার একটু পরে পুরান ঢাকার আরমানিটোলা মসজিদের সামনের মাঠে শিল্পীর প্রথম জানাজা হয়। তখনো ছিল বৃষ্টি। চোখের জলে আর শ্রদ্ধায় তাঁকে বিদায় জানানো হয় সেখানে।

ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত এই শিল্পীর চিকিৎসা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় পুরান ঢাকার বাসায়। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। লাকী আখান্দের মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ অনেকে।

লাকী আখান্দের সুর করা গান সত্তর ও আশির দশকে তরুণ প্রজন্মের মুখে মুখে ফিরেছে। ‘এই নীল মনিহার’, ‘আমায় ডেকো না’ থেকে শুরু করে ‘আবার এল যে সন্ধ্যা’, ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’ প্রভৃতি গান কালের সীমানা ডিঙিয়ে এখনো সমান জনপ্রিয়। আবার সমকালে জেমসের গাওয়া জনপ্রিয় গান ‘লিখতে পারি না কোনো গান’ লাকীর সুর করা। সমকালীন কণ্ঠশিল্পীরা তাঁকে বলেন সুরের ‘বরপুত্র’।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গুরুতর অসুস্থ হয়ে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি হলে ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়ে লাকী আখান্দের। এরপর ব্যাংককে ছয় মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। অবস্থার একটু উন্নতি হলে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে এনে তাঁকে ভর্তি করানো হয় বিএসএমএমইউতে। প্রায় আড়াই মাস এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর অতি সম্প্রতি আরমানিটোলার বাসায় ফেরেন তিনি। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত শিল্পীর শারীরিক অবস্থা আরও গুরুতর হলে গতকাল সন্ধ্যায় আরমানিটোলার বাসা থেকে তাঁকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানকার চিকিৎসকেরা শিল্পীকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুক্তিযোদ্ধা এই শিল্পীর চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকেও সহায়তা করা হয়েছিল। ‘ট্রিবিউট টু স্যার লাকী আখন্দ’ শিরোনামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে গত বছর অনুষ্ঠিত হয় দুদিনব্যাপী কনসার্ট।

লাকী আখন্দের জন্ম ১৯৫৫ সালে, পুরান ঢাকায়। মাত্র ১৪ বছর বয়সে এইচএমভি পাকিস্তানের সুরকার এবং ১৬ বছর বয়সে এইচএমভি ভারতের সংগীত পরিচালক হিসেবে নিজের নাম যুক্ত করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে যোগ দেন লাকী আখন্দ। আরেক কিংবদন্তি ছোট ভাই হ্যাপী আখন্দের সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দী অনেক বিখ্যাত গানের জন্ম দিয়েছিলেন। ১৯৮৭ সালে শিল্পী হ্যাপী আখন্দের অকালমৃত্যুর পরপর সংগীতাঙ্গন থেকে অনেকটাই স্বেচ্ছানির্বাসন নেন লাকী। পরে আবার ফিরে আসেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog