1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:০১ পূর্বাহ্ন

‘ইমপিচড’ হতে পারেন ট্রাম্প

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৭
  • ৯৯ বার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ওয়াশিংটনের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের নামজাদা অধ্যাপক এলান লিখটম্যান ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, আমেরিকার ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিশংসন বা ইমপিচমেন্টের সম্মুখীন হবেন। ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে জনাদুয়েক কংগ্রেস সদস্যও ইতিমধ্যে সে দাবি তুলেছেন, যদিও সে দাবি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেনি কেউ। কারণ, কংগ্রেসের উভয় কক্ষই এখন ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু অধ্যাপক লিখটম্যানের হিসাবটা ভিন্ন। তিনি দাবি করছেন, ডেমোক্র্যাটরা নয়, রিপাবলিকানরাই ইমপিচমেন্টের ব্যবস্থা করবে।

লিখটম্যানকে এত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। গত বছর নির্বাচনের আগে সম্ভবত তিনিই একমাত্র বিশেষজ্ঞ, যিনি বলেছিলেন, হিলারি নয়, ট্রাম্পই জিতবেন। তাঁর সে কথা শুনে সবাই হো হো করে হেসেছিল। হাসার কারণও ছিল, প্রায় প্রতিটি জাতীয় জনমত জরিপে হিলারি ৫ থেকে ২০ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। লিখটম্যান বিগত আটটি নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে একটি নির্বাচনী মডেল নির্মাণ করেছিলেন, যার ভিত্তিতে অঙ্ক কষে তিনি বলে দিয়েছিলেন, অন্য কেউ নয়, ট্রাম্পই জিততে যাচ্ছেন। সে কথা জানতে পেরে ট্রাম্প নিজে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। লিখটম্যান যে মডেলটি ব্যবহার করেন, ১৯৮০ থেকে তার ভিত্তিতে পরবর্তী প্রতিটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল সঠিকভাবে নির্দেশ করেছেন।
সেই লিখটম্যান এখন একটি বই লিখেছেন, যার নাম দ্য কেস ফর ইমপিচমেন্ট। এই বইতে তিনি বলেছেন, রিপাবলিকান কংগ্রেসের হাতেই ট্রাম্পের অভিশংসন হবে। কারণ হিসেবে লিখটম্যান ট্রাম্পের রাশিয়া আঁতাত ও ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়ে আইনি বরখেলাপ ও দ্বন্দ্ব উল্লেখ করেছেন। রাশিয়ার সঙ্গে তাঁর কোনো গোপন আঁতাত রয়েছে, এ কথা প্রমাণিত হলে তা হবে দেশদ্রোহ, তাঁদের দলের প্রেসিডেন্ট হলেও এই অভিযোগে রিপাবলিকান কংগ্রেসের ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে উপায় নেই। ট্রাম্পের পক্ষাবলম্বন করলে তাঁদের নিজেদেরই আসন হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এর বাইরে অন্য যেসব কারণ লিখটম্যান উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে সবচেয়ে আগ্রহোদ্দীপক হলো প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ট্রাম্প এমন অনেক অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যা প্রমাণিত হলে তাঁকে গদি ছাড়তে হবে। তাঁর মালিকানাধীন অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়া দেওয়া নিয়ে যে বর্ণবাদী বৈষম্য করেছেন অথবা ট্রাম্প ইউনিভার্সিটির নামে যে জালিয়াতি করেছেন, লিখটম্যান মনে করেন, সেসবের প্রতিটি অভিশংসনের জন্য যথেষ্ট।
মার্কিন ইতিহাসে অভিশংসন একদম অপরিচিত কোনো ব্যাপার নয়। অনৈতিক অথবা বেআইনি কাজের অভিযোগে গত দুই শ বছরে অনেককেই কংগ্রেসের সামনে জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হয়েছে। সব সময় এই সব অভিযোগ যে খুব যুক্তিযুক্ত তা নয়, কখনো কখনো আইনসভায় তাঁদের সংখ্যা গুরুত্বের সুযোগ নিয়ে কংগ্রেস অভিশংসনের আয়োজন করে থাকে। একমাত্র কংগ্রেসের হাতেই ক্ষমতা রয়েছে কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে আইনভঙ্গের অপরাধে অভিশংসিত করার। কিন্তু ক্ষমতা থেকে অপসারিত করতে পারে শুধুমাত্র সিনেট অর্থাৎ কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ। আমেরিকার ইতিহাসে এ পর্যন্ত দুজন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের হাতে অভিশংসিত হয়েছেন, ১৮৬৮ সালে এন্ড্রু জ্যাকসন ও ১৯৯৮ সালে বিল ক্লিনটন। কিন্তু সিনেট তাঁদের উভয়ের ব্যাপারেই কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে অস্বীকার করে। এ ছাড়া ১৯৭৪ সালে অভিশংসনের মুখে পড়েছিলেন রিচার্ড নিক্সন, কিন্তু বিষয়টি প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত হওয়ার আগে তিনি নিজেই পদত্যাগ করেন।
কোনো সন্দেহ নেই অভিশংসিত হওয়ার মতো বিস্তর কাজ করেছেন ট্রাম্প। তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় জটিলতাটি হচ্ছে, নির্বাচনের আগে তিনি অথবা তাঁর প্রচার কর্মকর্তাদের কেউ কেউ রাশিয়ার সঙ্গে গোপন আঁতাতে লিপ্ত ছিলেন, এই অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনে তাঁকে জিততে সাহায্য করার বদলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মস্কোর বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাসমূহ তুলে নেবেন, এমন আগাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মস্কো গত বছরের নির্বাচনে নাক গলিয়েছিল, এ ব্যাপারে এখন প্রায় সবাই একমত (একমাত্র ব্যতিক্রম ট্রাম্প নিজে)। কংগ্রেসের উভয় কক্ষই এই প্রশ্নে তদন্ত চালাচ্ছে। এর বাইরে এফবিআই স্বতন্ত্রভাবে তদন্ত করে দেখছে কে বা কারা নির্বাচনের আগে-পরে মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন।
এই আঁতাতের অভিযোগে ইতিমধ্যে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ফ্লিন চাকরি খুইয়েছেন। সন্দেহের তালিকায় ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারসহ আরও ডজনখানেক লোক রয়েছেন। এরই মধ্যে গেঁজে গেছেন কার্টার পেজ, যাঁকে ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। কার্টার পেজ প্রথমে না না করলেও অবশেষে স্বীকার করেছেন, মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তিনি আলোচনা করে থাকলেও থাকতে পারেন। ট্রাম্পের আরেক অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা ও তাঁর শিক্ষামন্ত্রী বেটসি ডাভোসের ভাই এরিক প্রিন্স স্বীকার করেছেন, ক্রেমলিনের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলসে আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় তিনি একটি সলা-পরামর্শে অংশগ্রহণ করেন।
রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস স্বভাবত চায় না তাদের দলের প্রেসিডেন্ট আঁতাতের অভিযোগে ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়ুন, কিন্তু সমস্যা হলো, গত অর্ধশতাব্দী ধরে এই দল এবং এ দেশের ক্ষমতাসীন মহল মস্কোকে তাদের প্রধান শত্রু ভেবে এসেছে। ট্রাম্প যেভাবে মস্কো ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন, তাতে দলের তৃণমূল পর্যায়েও সন্দেহ দানা বেঁধেছে। হঠাৎ মস্কোর আপত্তি অগ্রাহ্য করে সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণ করে ট্রাম্প সবার নজর তাঁর সম্ভাব্য আঁতাত থেকে ফেরাতে চাইছেন বটে, কিন্তু সন্দেহ তাতে কমার বদলে বরং বেড়েছে।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নৈতিক ও আইনগত বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তাঁর কোনো সিদ্ধান্তের কারণে অথবা বিদেশি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন না, মার্কিন শাসনতন্ত্রে সে কথা স্পষ্ট লেখা আছে। সে কারণেই সম্ভাব্য ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব এড়াতে ট্রাম্পকে তাঁর সব বাণিজ্যিক মালিকানা থেকে অব্যাহতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প সে পরামর্শ শোনেননি। এখন দেখা যাচ্ছে নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প নানাভাবে নিজের পারিবারিক ব্যবসাকে সাহায্য করছেন। নিজের পারিবারিক সদস্যদেরও নিজের প্রশাসনের কেন্দ্রস্থলে নিয়ে এসেছেন।
ট্রাম্পকে নিয়ে আরেক সমস্যা, তিনি সরকারের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় পদে এমন সব লোকদের বসাচ্ছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাংকার, আইনজীবী অথবা লবিস্ট। তাঁদের ওপর ভার পড়েছে এমন সব আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের যা থেকে তাঁরা নিজেরাই সরাসরি লাভবান হবেন। এটি মার্কিন প্রশাসনের প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস ও প্রো-পাবলিকা নামের একটি বেসরকারি সংস্থা এক জরিপ চালিয়ে দেখেছে, দুদিন আগে যেসব ব্যক্তি বিভিন্ন কোম্পানি থেকে বেতন নিয়েছেন, তাঁরাই এখন সেসব কোম্পানির ব্যাপারে নজরদারির দায়িত্ব পেয়েছেন।
তবে যত আইনি লঙ্ঘনই হোক না কেন, অতিসত্বর ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা থেকে অপসারিত হচ্ছেন, এ কথা ভাবার কোনো কারণ নেই। এমনকি তিনি যদি ইমপিচমেন্টের সম্মুখীন হন, তবু। প্রথমত, চলতি কংগ্রেসে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের অভিযোগ উত্থাপনের কোনো আশঙ্কা রয়েছে, এ কথা কেউ ভাবে না। ডেমোক্র্যাটরা আশা করছেন, ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে তাঁদের নিয়ন্ত্রণ অর্জিত হবে। খুব আশাবাদী মানুষেরাও বিশ্বাস করে না, কাজটা খুব সহজ হবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে তাঁদের ঘাটতি রয়েছে ২৪ আসনের। ভূমিধসের মতো কোনো ঘটনা না ঘটলে এত বড় ব্যবধান উত্তীর্ণ হওয়া প্রায় অসম্ভব।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এখন আর অসম্ভব বলে কোনো কথা রাজনৈতিক অভিধানে স্থান পাওয়ার কথা নয়। এই মুহূর্তে ট্রাম্পকে সমর্থন করেন এমন মার্কিন জনগণের সংখ্যা ৪০ শতাংশের কম। প্রতি সপ্তাহেই তাঁর সমর্থন কমে আসছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অবস্থা যে বদলাবে না, হলফ করে সে কথা কে বলতে পারে?

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog