1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৪৮ অপরাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিদূতের ভূমিকায় ট্রাম্প

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ মে, ২০১৭
  • ৫৩ বার

প্রতিবেদক : হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ মাসের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্য সফরে যাচ্ছেন। সরকারিভাবে এই সফরের তালিকায় ইসরায়েল ও সৌদি আরবের নাম রয়েছে বলে জানানো হয়েছে, তবে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ হবে। হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র এ কথা নিশ্চিত করেছেন, তবে আব্বাস ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে ত্রিমুখী কোনো সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা বলতে তিনি অস্বীকার করেন।

গত সপ্তাহে মাহমুদ আব্বাসের হোয়াইট হাউস সফরের পর থেকে ট্রাম্পমহল থেকে বলা হচ্ছে, অন্য সবাই যেখানে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আনতে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে ট্রাম্পের সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ‘সেরা ডিলমেকার’, একমাত্র তিনিই পারবেন এই জটিল সমস্যার সমাধান করতে। রয়টার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, তিনি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা চান। তাঁর ভাষায়, ‘এই শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার মতো কোনো কারণ নেই। কোনো কারণ থাকতে পারে না।’

উল্লেখযোগ্য, হোয়াইট হাউসে আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় লিখেছিলেন, আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি গর্বিত। ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎস জানিয়েছে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত টুইটার পাতায় সে টুইটের কপি প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা সরিয়ে ফেলা হয়। হোয়াইট হাউস থেকে এর কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে অনেকেই ভাবছেন, ইসরায়েলি লবি থেকে সমালোচনা এড়াতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই ট্রাম্প বলে এসেছেন, ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় তিনি কোনো রকম আপস করবেন না। ক্ষমতা গ্রহণের পরে অবশ্য তিনি ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রশ্নে পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন। একদিকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুসৃত ‘দুই রাষ্ট্রনীতি’ অনুসরণের বদলে ‘এক রাষ্ট্রনীতি’ সমর্থনে প্রস্তুত। তিনি ইসরায়েলে তাঁর রাষ্ট্রদূত হিসেবে এমন একজনকে নিয়োগ দিয়েছেন, যিনি খোলামেলাভাবে পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপন ও তাদের একতরফাভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে স্থায়ীভাবে অঙ্গীভূত করার পক্ষে।

অন্যদিকে, পশ্চিম তীরে নতুন কোনো বসতি স্থাপনার বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে কিছুটা বিরতি দেওয়ার কথাও বলেছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে আনা সমর্থন করেন, কিন্তু জর্ডানের বাদশা ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করার পর সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেননি। এই দূতাবাস সরিয়ে নিতে হলে আগামী ১ জুনের মধ্যে কংগ্রেসকে জানাতে হবে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কোনো নোটিশ পাঠানো হয়নি বলে জানা গেছে।

এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের মুখে আব্বাসের হোয়াইট হাউস সফরের পর কোনো কোনো মহলে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি সম্ভাবনা বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আব্বাস নিজেই ফিলিস্তিন টিভির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রশ্নে ট্রাম্পের একটি পরিষ্কার ‘ডকট্রিন’ রয়েছে, যার ব্যাপারে তিনি (আব্বাস) উৎসাহী।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকেরা অবশ্য আব্বাসের এই আশাবাদী চিত্রের সঙ্গে একমত নন। ৮২ বছর বয়স্ক আব্বাসের জনপ্রিয়তা এখন কার্যত শূন্য, পশ্চিম তীরের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ চায় তিনি পদত্যাগ করুন। শুধু বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে না ওঠায় তিনি এখনো ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে পারছেন। এই বিশ্লেষকেরা বলছেন, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে আব্বাসের সাক্ষাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি অগ্রসর হোক বা না হোক, আব্বাসের নিজের নড়বড় খুঁটি কিছুটা হলেও পোক্ত হয়েছে। ওয়াশিংটনের আরব গালফ ইনস্টিটিউটের হুসেন ইবিশ মন্তব্য করেছেন, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পর আব্বাসকে দেখে মনে হয়েছে, তিনি নতুন জীবন খুঁজে পেয়েছেন।

অন্য বিশ্লেষকেরা অবশ্য মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্য শান্তির পথে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক ইসরায়েল। সেখানে বর্তমানে যে অতি-দক্ষিণপন্থী কোয়ালিশন ক্ষমতার কেন্দ্রে, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে কোনো অর্থপূর্ণ শান্তি চুক্তি করার ব্যাপারে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। এই মুহূর্তে ফিলিস্তিনিরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক দুর্বল ও বিভক্ত। মধ্যপ্রাচ্যের যেসব আরব দেশ একসময় তাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, তাদের অনেকেই ইরান ও সিরিয়াকে দমিয়ে রাখতে ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মেলাতে শুরু করেছে। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলো। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিজে বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থনে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি অর্জন সম্ভব। সে কথার অর্থ ইরানকে দমন, কিন্তু ফিলিস্তিনের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তি নয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, দুই রাষ্ট্র সমাধান নীতি অনুসরণ না করার জন্য নেতানিয়াহুর ওপর চাপ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অব্যাহত দুর্নীতি মামলার কারণেও নেতানিয়াহু আগের চেয়ে অনেক দুর্বল। ফলে মুখে শান্তির কথা বললেও প্রকৃত শান্তির ব্যাপারে তাঁর কোনো আগ্রহ নেই।

অন্যদিকে, আব্বাস নিজে ক্ষমতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যে শান্তিপ্রক্রিয়া মৃত নয়, এ ধারণা জিইয়ে রাখতে চান। টাইমস মনে করে, আব্বাস যদি সত্যি সত্যি কোনো চুক্তি চান, তা সম্পাদন করার মতো কোনো রাজনৈতিক শক্তি তাঁর নেই। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য তাঁকে এখনো হামাসের নেতৃত্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে হচ্ছে। ফাতাহ ও হামাস, এই দুই প্রধান ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক উপদলকে এক করার ব্যাপারে আলোচনা শুরু হয়েছে বটে, তবে কার্যত কোনো অগ্রগতিই হয়নি।

এদিকে রাজনৈতিকভাবে নিজের অবস্থান শক্ত করতে হামাস ইসরায়েলের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান কিছুটা নমনীয় করেছে। ওয়াশিংটনে আব্বাস ও ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের ঠিক আগে হামাস তাদের যে নতুন নীতিমালা প্রকাশ করে, তাতে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব অস্বীকারের বদলে ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের আগে যে সীমান্তরেখা প্রতিষ্ঠিত হয়, সেখানে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের ব্যাপারে সমর্থন জানিয়েছে। সন্ত্রাসবাদ প্রত্যাখ্যানের কোনো কথা না থাকলেও উগ্রপন্থী হিসেবে বিবেচিত মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে দূরত্ব রক্ষার কথা বলেছে সে। এই নীতিমালায় এই প্রথমবারের মতো ‘ইহুদিদের শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করার বদলে বলা হয়েছে ফিলিস্তিনিদের লড়াই ইহুদিদের সঙ্গে নয়, জায়নবাদের সঙ্গে।

আরব ভাষ্যকারেরা বলছেন, বৃদ্ধ আব্বাসকে আঘাত করার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়, সম্ভবত এই বিবেচনা থেকেই হামাস নিজেদের নমনীয় ও অধিক গ্রহণযোগ্য করার উদ্যোগ নিয়েছে। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মিখাইমার আবু সাদরের মত, হামাসের এই রূপান্তরের আব্বাস ও ফাতাহ নেতৃত্ব রীতিমতো ভীত হয়ে পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির এই গোলকধাঁধায় পা বাড়াতে চলেছেন ট্রাম্প।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog