1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৫৬ অপরাহ্ন

আমি নিরপেক্ষ, আমি এখন সব দল-মতের ঊর্ধে : রাষ্ট্রপতি

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ মে, ২০১৭
  • ১১৩ বার

প্রতিবেদক : রবীন্দ্রস্মৃতি বিজড়িত নওগাঁর পতিসরে কবিগুরুর ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় দর্শক সারি থেকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান ওঠে। স্লোগান শুনে বলেন, “স্লোগান আমার সময়ে আর হয় না। কারণ আমি নিরপেক্ষ। আমি এখন সব দল-মতের ঊর্ধে। তাই একটা নতুন… কেমন কেমন যেন লাগছে।”

স্কুল থেকে স্লোগান দিতে দিতে নানা পদ পেরিয়ে রাষ্ট্রপতির পদে আসীন মো. আবদুল হামিদের কাছে এখন রাজনৈতিক স্লোগান লাগে অন্য রকম। পাকিস্তান আমলে ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে পা রাখা আবদুল হামিদ ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হন।

কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম থেকে সাতবারের সংসদ সদস্য আবদুল হামিদ সংসদে ডেপুটি স্পিকার, স্পিকারের চেয়ারও সামলেছেন। ছিলেন বিরোধী দলীয় উপনেতাও। ২০১৩ সাল থেকে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হিসেবে রয়েছেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা আবদুল হামিদ।

অনুষ্ঠানে আবদুল হামিদ বলেন, “রাষ্ট্রপতি হয়েছি প্রায় চার বছর হয়ে গেছে। এর পূর্বেও আমি ছিলাম স্পিকার। সেখানে এত না হলেও আংশিকভাবে নিরপেক্ষ ছিলাম।

“ডেপুটি স্পিকার আর বিরোধীদলীয় উপনেতা থাকার সময় দলীয় কালার ছিলো। যার জন্য এখানে যারা দলের নেতৃবৃন্দ, মাননীয় সংসদ সদস্য যারা আছে তা কেন জানি বারবারই আমাকে নিরপেক্ষতার জায়গায় পাঠিয়ে দেয়।”

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য দেওয়ার আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম তার বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতির প্রশংসা করেন। আবদুল হামিদ তার প্রতিক্রিয়ায় তাকে এই এলাকায় এতদিন আমন্ত্রণ না জানানোয় অনুযোগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আজকে মাননীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম যেভাবে বললেন, আমি যখন স্পিকার ছিলাম তখন যদি একটু ভালো করে বলতেন তাহলে আমি কিন্তু আসতে পারতাম।”

“কেন জানি সে আমাকে বলে নাই। আমি কিন্তু তাকে আমেরিকা পর্যন্ত নিয়ে গেছি। আব্রাহাম লিঙ্কন যেখানে গেটিসবার্গ অ্যাড্রেস বক্তৃতা দিয়েছিল, সেখানে তাকে বক্তৃতা পর্যন্ত দেওয়াইয়া আনছি। কিন্তু তার পতিসরে আমাকে আনল না।”

এসময় পুরো অনুষ্ঠানস্থলে হাসির রোল পড়ে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজউদ্দিন প্রামাণিকের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, “মঞ্চে আরেকজন আছেন ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক সাহেব। মাননীয় মন্ত্রী। উনার সঙ্গে দীর্ঘকাল পরিচয়। উনি প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমি জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত হয়েছিলাম। তখন থেকে জানাশোনা। কত বছর… প্রামানিক সাহেব কোনোদিন বললেন না, এখানে আসেন।”

“তবে আমি আপনাদের আশেপাশে ছিলাম। রাজশাহী জেলখানা এখান থেকে বেশিদূরে না। জেল খানায় সাত মাস ছিলাম। মরহুম জলিল সাহেব (আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক) আমার সঙ্গে ছিলেন।”

রাষ্ট্রপতি বলেন, “ইসরাফিল আলম সাহেবকে বলব, আমি যখন রাষ্ট্রপতি থাকব না তখন যদি আমাকে আনেন আমি সবার সাথে মেলামেশা করার সুযোগ থাকবে।

“যদি হায়াৎ দেয়। সম্ভাবনা আছে। কারণ ইমাজউদ্দিন সাহেব আমি একসাথে নির্বাচন করলেও উনার হাতে লাঠি উঠেছে। আমার হাতে এখনও লাঠি নাই।”

আবদুল হামিদ নিজের লিখিত বক্তব্য সম্পর্কে বলেন, “রাষ্ট্রপতির বক্তৃতা ফ্রিস্টাইল দেওয়ার সুযোগ নাই। সব লিখে নিয়ে আসছে। লেখার বাইরে কোন কথা থেকে কোন কথা বইলা ফেলি ঠিক নাই। আমার যে সাংবাদিক ভাইয়েরা আছেন, তারা ঘুরাইয়া প্যাঁচাইয়া, কীভাবে যে কী বলবে সেটা মুশকিল।”

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog