1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন

মিয়ানমারকে শরণার্থী সমস্যার সমাধান খুঁজতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০১৭
  • ৪৯ বার

প্রতিবেদক : মিয়ানমারের শরণার্থীদের অমানবিক জীবনযাপন ও তাদের কারণে বাংলাদেশে সমস্যার কথা তুলে ধরে সমস্যা সমাধানে পথ বের করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে মিয়ানমারের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মায়ো মিন্ট থান সৌজন্য সাক্ষাতে এলে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, সমাজ ও পরিবেশের উপর শরণার্থীদের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে বলেন, “তারা খুব অমানবিক পরিবেশে বাস করছে। আপনি আপনার সরকারকে বলবেন, আমাদের উভয়েরই উচিত এ সমস্যা সমাধানের উপায় বের করা।”

শেখ হাসিনার বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রেস সচিব বলেন, “প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কোনো সমস্যা হলে তা আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমাধান করতে চাই।” পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ভারতে চলে যাওয়া শরণার্থীদের শান্তিচুক্তির পর ফিরিয়ে আনার কথাও এসময় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন বলে জানান তিনি।

“প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন, নিবন্ধিত শরণার্থীর বাইরে আরও রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে রয়েছে।”

বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারের সামরিক সরকার রাখাইন প্রদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করতে নারাজ ছিল। আশির দশক থেকে নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গারা প্রতিবেশী কক্সবাজারে আসতে শুরু করে। সামরিক শাসনের অবসানের পর গণতন্ত্রপন্থি অং সান সু চির দল ক্ষমতা এলেও অবস্থা বদলায়নি।

কয়েক প্রজন্ম ধরে মিয়ানমারে বসবাস করে এলেও দেশটির ১১ লাখের মতো রোহিঙ্গার অধিকাংশকেই নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি। চলাফেরার স্বাধীনতা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত।

গত বছর ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের পুলিশ ফাঁড়িতে হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর থেকে রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন শুরু করেছে সেনাবাহিনী। শত শত রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে; ধর্ষণ করা হয়েছে বহু নারীকে। জীবন বাঁচাতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের পর আসা ৬৫ হাজারসহ চার লাখের মতো রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন বলছে, রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে তা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। দশকের পর দশক আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরে সরকার শরণার্থী সমস্যার সমাধান করতে মিয়ানমারকে চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে বাংলাদেশে।

প্রেস সচিব বলেন, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেশিদের সহযোগিতার উপর জোর দেন।

“বাংলাদেশ তার প্রতিবেশীদের গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশের মাটি প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে সরকারের ‘জিরো টলারেন্সের’ কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

“প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সম্প্রতি মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আমাদের ভূমি ব্যবহার করতে না দেওয়ার কঠোর অবস্থানে আমরা অনড় আছি।”

শেখ হাসিনা দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও উন্নত করা করতে যৌথ বাণিজ্য কমিশন চালু করা এবং নৌ কার্গো পরিবহন বাড়ানোর উপরও জোর দেন বলে জানান তিনি।

প্রেস সচিব বলেন, “মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেছেন বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে তার সরকার আন্তরিক। কফি আনান কমিশনের যে সুপারিশ সেগুলি তারা বাস্তবায়ন করবে।

“তবে ওই সুপারিশগুলোর মধ্যে দুএকটি বাস্তবায়ন করা তাদের জন্য ‘খুব কঠিন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।”

রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে অং সান সুচিকে বাংলাদেশ সফরের দাওয়াত দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর কাযালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সুরাইয়া বেগম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog