1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে তল্লাশি, গণতন্ত্রকে ধ্বংসের অপচেষ্টা : ফখরুল

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ মে, ২০১৭
  • ৬৮ বার

প্রতিবেদক : রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে কিছু পায়নি পুলিশ। আজ শনিবার সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া তল্লাশি দেড় ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ধরে চলে। তল্লাশি শেষে কার্যালয়ের সামনের ব্যারিকেড সরিয়ে নিয়েছে পুলিশ। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতেই সরকার বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তল্লাশির প্রতিবাদে আগামীকাল রোববার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।

আদালতের পরোয়ানা থাকায় তল্লাশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের গুলশান বিভাগের সহকারী কমিশনার আশরাফুল করিম। তল্লাশি চলার সময় কার্যালয়ের ভেতরে যান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন্নবী খান সোহেল। তল্লাশি শেষ হলে সকাল সাড়ে নয়টার কিছু পরে তাঁদের বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। এর পরই রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রোববার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির কথা জানান। রিজভী বলেন, এই তল্লাশি অভিযান কাপুরুষোচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই ঘৃণ্য ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল রোববার বিএনপি ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে।’

বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতেই সরকার বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে দ্রুতই আমরা প্রেস মিট করবো। তবে এই ঘটনা সম্পর্কে বলা যায় যে, এ সরকার কোনোভাবেই গণতন্ত্রকে রক্ষা করবে না। কোনও কারণ ছাড়াই খালেদা জিয়ার অফিসে পুলিশের তল্লাশি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা।’

গুলশানের ওই কার্যালয়ের সামনে থেকে বেসরকারি টেলিভিশনের একজন সাংবাদিক জানান, শনিবার সকাল ৭.২০ মিনিট থেকে পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। এসময় ৮৬ নম্বর সড়কে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।শনিবার সকাল ৮টার দিকে খালেদা জিয়ার মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে ম্যাডামের কার্যালয়ে পুলিশ ঢুকেছে। তবে কেন এবং কী কারণে তারা এখানে এসেছে আমরা তা জানি না।’ শায়রুল কবির খান জানান, চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অভিযানের বিষয়ে দলীয় অবস্থান জানানো হলে সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে পুলিশের তল্লাশিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর অভিযোগ, এটি খালেদা জিয়াকে অপমানিত ও বিপর্যস্ত করার কঠিন ও পাতানো ষড়যন্ত্রের অংশ। তল্লাশী চলাকালীন সময়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, চেয়ারপার্স খালেদা জিয়াকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতে চায় সরকার। আর সে কারণে তাকে নানাভাবে হয়রাণি করা হচ্ছে।কার্যলয় থেকে কোনো কিছু জব্দ করে নি পুলিশ। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য যখন সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন এ ধরনের কর্মকান্ড করে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে চায় সরকার।

রিজভী বলেন, অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে সার্চ ওয়ারেন্ট করিয়ে কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তিনি নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে বলেন, হাওরসহ নানা ঘটনায় সরকার যে বিপর্যস্ত, সেদিক থেকে দৃষ্টি ফেরাতে এটি করানো হয়েছে।

তল্লাশির পর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি ‘তালিকা’ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা। পুলিশের গুলশান থানার পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সেই ‘তালিকায়’ তল্লাশিতে প্রাপ্ত মালামালের পরিমাণ ‘শূন্য’ বলে উল্লেখ করা হয়। তবে সেখানে তল্লাশির স্থান হিসেবে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের ঠিকানা লেখা ছিল না।

পুলিশের তল্লাশি শেষে কার্যালয়ের ভেতরে ঢোকেন গণমাধ্যমকর্মীরা। মূল কলাপসিবল গেটটি খোলা ছিল। কার্যালয়ের কর্মচারীরা জানান, এই গেটের তালা ভেঙে পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করে। এক তলা ও দোতলার বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালানো হয় বলে তাঁরা জানান। এক তলার নয় নম্বর কক্ষটির দরজার লক খুলে তল্লাশি তৎপরতা বেশি ছিল। তবে লক ভাঙা পাওয়া গেলেও কাগজপত্র এলোমেলো ছিল না। বেশ কয়েকজন কর্মচারী বলেন, পুলিশ সঙ্গে মিস্ত্রি ছিল। এই মিস্ত্রিদের দিয়েই তালা ভাঙা হয়। আর ফাইলসহ বিভিন্ন কাগজপত্রে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করেন পুলিশ সদস্যরা।

এদিকে দোতলায় তল্লাশি চালালেও খালেদা জিয়ার কক্ষে প্রবেশ করেনি পুলিশ। রুহুল কবির রিজভী বলেন, অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে দিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে সার্চ ওয়ারেন্ট করিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। দলের নেতৃবৃন্দকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এই জিডির কপি দেখান বিএনপির নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। জিডিতে সময় হিসেবে গতকাল ১৯ মে সন্ধ্যা সাতটা ৫ মিনিট লেখা ছিল। তবে গুলশান ঠিকানা উল্লেখ করা হলেও কোথায় বিএনপির কার্যালয় লেখা ছিল না। জিডিতে লেখা রয়েছে, গুলশান-২ নম্বরের ৮৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়ি ও এর আশপাশের এলাকায় রাষ্ট্রবিরোধী ও আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বিনষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের স্টিকার ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সামগ্রী মজুতের খবর গোপন সূত্রে জানা গেছে।

অভিযান শেষে পরিস্থিতি দেখতে ঘটনাস্থলে নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে সকাল সাড়ে দশটা থেকে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা গুলশানের ৮৬ নম্বর রোডে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

এ সময় ‘পুলিশের বাড়াবাড়ি সহ্য করা হবে না’, ‘খালেদা জিয়ার ভয় নাই রাজপথ ছাড়ি নাই’ প্রভৃতি স্লোগান দেন তারা।

নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০ ঘোষনার পর আওয়ামী লীগের গায়ে জ্বর হয়েছে। এই ভিশনে তারা ভয় পেয়ে প্রতিহিংসামুলকভাবে কার্যালয়টিতে অভিযান চালিয়েছে।

কয়েক দফা বিক্ষোভ মিছিলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, জাসাস সহ সভাপতি শায়রুল কবির খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানের পরপরই কার্যালয়ে আসেন দলো স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস প্রমুখ।

দেশব্যাপী যুবদলের বিক্ষোভ রোববার

খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদ জানিয়ে রোববার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষনা করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। শনিবার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল শেষে এই কর্মসূচি ঘোষনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog