1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha : Sardar Dhaka
  2. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
  3. rafiqul@mohajog.com : Rafiqul Islam : Rafiqul Islam
  4. sardar@mohajog.com : Shahjahan Sardar : Shahjahan Sardar
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন

২০ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত চার

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ মে, ২০১৭
  • ১৪১ বার

প্রতিবেদক: ঘূর্ণিঝড় মোরায় আজ মঙ্গলবার কক্সবাজারে প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন। এর মধ্যে দুজন গাছ চাপায় এবং একজন আতঙ্কে মারা গেছেন। গাছ চাপা পড়ে নিহত দুজন হলেন জেলার চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারার পূর্ব ডোমখালীর রহমত উল্লাহ (৫০) এবং একই উপজেলার পূর্ব বড়হেউলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়ার সায়েরা খাতুন (৬০)। আর কক্সবাজার পৌরসভার নুনিয়াচটা আশ্রয়কেন্দ্রে আতঙ্কে মারা গেছেন মরিয়ম বেগম (৫৫)। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজি আবদুর রহমান এ তথ্য জানান। ভোলার মনপুরার কলাতলির চরে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে পানিতে পরে মারা গেছে রাশেদ নামে আরেক শিশু। এছাড়া ২০ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রিয়া সফরে থাকলেও ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ সংকেত যখন থেকে শুরু হয়েছে, তখন থেকেই তিনি পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক ‘মনিটরিং ও তদারকি’ করেছেন। আমিও পার্টির পক্ষ থেকে যোগযোগ রাখছি। আমাদের পার্টিকেও আমরা নির্দেশ দিয়েছি, উপদ্রুত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। … জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের বলেছি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে। প্রধানমন্ত্রীর অফিসের মাধ্যমে ২০ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। চরকিয়ায় গাছ চাপা পড়ে একজন মারা গেছেন। কক্সবাজারে একজন মা তার শিশুকে নিয়ে ছুটাছুটি করতে গিয়ে শিশুটি হাত থেকে ফসকে যায়, শিশুটি মিসিং। এছাড়া আর কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। চকরিয়ায় গাছ চাপা পড়ে আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় সরকারিভাবে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, সরকার সবাইকে নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে সর্বাত্মক প্রয়াস চালিয়েছে। যে কারণে প্রাণহানির ক্ষয়ক্ষতি তেমন একটা হয়নি। দুর্গত এলাকায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য এক কোটি ৮৭ লাখ টাকা জরুরিভিত্তিতে পৌঁছানো হয়েছে। নৌ বাহিনীর একটি জাহাজ সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে ত্রাণ সাহায্য নিয়ে রওনা দিয়েছে। সেনা ও বিমান বাহিনীকেও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, শুধু কক্সবাজার পৌর এলাকায়ই সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। কিছু আংশিক, কিছু সম্পর্ণ। অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূর আহম্মদ বলেন, “এ ইউনিয়নে দেড় শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছপালা উপড়ে গেছে। আশপাশে যতদূর দেখেছি তাতে কমপক্ষে ৭০ ভাগ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে আমার মনে হচ্ছে। অগণিত সংখ্যক গাছপালা ভেঙে গেছে। আমার নিজের সেমিপাকা বাড়িটিরও আংশিক ভেঙে গেছে।”

এদিকে টেকনাফ উপজেলায় মোবাইল নেটওয়ার্কে বিপর্যয় ঘটেছে বলে ধারণা করছেন জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন। তিনি বলেন, টেকনাফের কোনো মোবাইল অপারেটরেই কারও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে মোবাইল নেটওয়ার্কে বিপর্যয় ঘটেছে।

কক্সবাজার বিমান বন্দরে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ১১টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল কক্সবাজার শহরে। সাড়ে ১১টার দিকে আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। ঝড়ের আগেই সবাই আশ্রয়কেন্দ্রসহ উঁচু ভবনগুলোয় আশ্রয় নিয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, ভোর ৬টার দিকে কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানে মোরা। তার আগে থেকেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে, কখনও হালকা, কখনও মাঝারি।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জয় জানিয়েছেন, এ জেলায় ৫৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুই লাখের অধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। তবে ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোনো ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকার দুই লক্ষাধিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খুলে দেওয়া হয়েছে জেলার ৫৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র। গঠন করা হয়েছে ৮৮টি মেডিকেল টিম। প্রস্তুত রাখা হয়েছে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির আওতায় ৪১৪টি ইউনিটের ছয় হাজার স্বেচ্ছাসেবক ও রেড ক্রিসেন্টের ১৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা লোকজনের নিরাপত্তার পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে খাদ্য সরবরাহেরও ব্যবস্থা।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2023 Mohajog