1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

ভ্যাট আইনে যত পরিবর্তন

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ জুন, ২০১৭
  • ১৯১ বার

ভ্যাট থাকছে ১৫ শতাংশই

প্রতিবেদক : দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ভ্যাট আইন নতুন অর্থবছর থেকে কার্যকরের ঘোষণা এসেছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বাজেট প্রস্তাবে, যাতে পণ্য ও সেবা বিক্রির ওপর অভিন্ন ১৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট প্রযোজ্য হবে। এই হারে ভ্যাট আদায়ের মাধ্যমে ৯১ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের আশা করছেন মুহিত, যা এনবিআরের মাধ্যমে দুই লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ পরিকল্পনার ৩৬.৮ শতাংশ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ের এই বাজেটে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, “১৯৯১ সাল থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপিত হয়েছে এবং তাতে ভোক্তারা ও ব্যবসায়ীরা অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। আমি ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশেই বহাল রাখার প্রস্তাব করছি।”
মুহিত বলেন, মূল্য সংযোজন কর এক ও অভিন্ন হারে প্রয়োগ করা হবে এবং আগামী তিন বছর তা অপরিবর্তিত থাকবে।
২০১২ সালের ‘মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন’ অনুযায়ী ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর করার কথা ছিল গত বছরের ১ জুলাই থেকে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে তা পিছিয়ে দেয় সরকার। তখন বিদ্যমান প্যাকেজ ভ্যাটের হার বাড়িয়ে বলা হয়, ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীরা তা আরও পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে এলেও শেষ পর্যন্ত আগের সিদ্ধান্তেই অটল থাকলেন মুহিত।
তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভ্যাট অব্যাহতির সীমা বছরে ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রেখেছেন তিনি।
“অর্থাৎ মাসে গড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারধারী প্রতিষ্ঠানের কোনো কর দিতে হবে না।”
সেই সঙ্গে, টার্নওভার করের সীমা বছরে ৮০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব তরেছেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থাৎ যেসব প্রতিষ্ঠানের মাসিক টার্নওভার গড়ে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচে, তাদের ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার কর দিতে হবে।
এতদিন ৩০ লাখ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভারের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল।
মুহিত বলেন, “এটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ যা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে নেই। এছাড়া, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রস্তাব অনুসারে নতুন ভ্যাট আইন ও বিধিমালার পদ্ধতিগত সহজীকরণ সংক্রান্ত কতিপয় অন্যান্য সংশোধন আনা হয়েছে।”
বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা ছিল ৭২ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৬৮ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।
আয়কর ও মুনাফার উপর কর থেকে ৮৫ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার আশা করা হয়েছে এবারের বাজেটে। বিদায়ী বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ৭১ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা।
এছাড়া নতুন বাজেটে আমদানি শুল্ক থেকে ৩০ হাজার ২৩ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক থেকে ৩৮ হাজার ৪০১ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক থেকে ৪৪ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ১ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ও শুল্ক থেকে ১ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেছেন অর্থমন্ত্রী।
বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা, আদায় সন্তোষজনক না হওয়ায় তা সংশোধন করে ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। সংশোধন করে তা ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা করা হয়েছে।
ভ্যাট আইন কার্যকর:
২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় ছিল ভ্যাট আইন কার্যকর। ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সঙ্গে বিধিমালারও কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। আগামী ১ জুলাই থেকে এই ভ্যাট আইন কার্যকর হবে। পরিবর্তনগুলো হলো:
১. টার্নওভার তালিকাভুক্তি সীমা ৩৬ লাখ টাকা পর্যন্ত কর অব্যাহতি দেওয়া হবে।
২. মূসক নিবন্ধন সীমা ৮০ লাখ থেকে বাড়িয়ে দেড় লাখে উন্নীত করা হয়েছে। ৩৬ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা বিক্রিসম্পন্ন ব্যবসায়ীকে ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার কর দিতে হবে। দেড় কোটি টাকার বেশি বিক্রি হলে শুধু ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হবে এবং ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে।
৩. নতুন বিধান অনুযায়ী সরবরাহ গ্রহণ ও তার অনুকূলে মূসক চালান থাকলেই রেয়াত গ্রহণ করতে পারবেন।
৪. সহযোগীর সংজ্ঞা থেকে আত্মীয় বাদ দেওয়া হয়েছে।
৫. দেশীয় শিল্প যে ধরনের সুরক্ষা ১৯৯১ সালের আইন অনুযায়ী পেত, নতুন আইনের অধীনেও ওই সুরক্ষা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
৬. বাণিজ্য সুরক্ষার জন্য আমদানি পর্যায়ে ১ হাজার ৬৬৬টি এইচএস লাইনের আওতায় বিদ্যমান সব পণ্যে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
৭. নিত্যপণ্যে অব্যাহতি:
# সব প্রকার কৃষিজ পণ্য, হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু, পশুর মাংস, মাছ, ফলমূল, শাকসবজি, ভোজ্য তেল, চিনি, গুড়, লবণ, তুলা, পাট, রেসম সুতা মূসকের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
# বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সব অস্থায়ী হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাদ্যদ্রব্য সরবরাহকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ যেসব হোটেলে খাওয়াদাওয়া করে, তাতেও ভ্যাট হবে না।
# জীবনরক্ষাকারী প্রায় সব ওষুধে মূসক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
# সমাজকল্যাণ কার্যক্রমকে মূসকের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ কার্যক্রমে ৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি।
# কৃষিকাজে ব্যবহৃত উপকরণ, যেমন: বীজ, সেচ সেবা, কীটনাশক, যন্ত্রপাতি মূসকের আওতার বাইরে।
#ডেইরি, ফাউন্ড্রি, পাটশিল্পের কাজে ব্যবহৃত সব যন্ত্রপাতিতে মূসক অব্যাহতি
# সব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ভ্যাটের আওতার বাইরে।
# ব্যাংকিং ও বিমা খাতের কমিশন ব্যতীত সব বিষয়ে মূসক অব্যাহতি প্রদান
# জীবনবিমা সম্পূর্ণ অব্যাহতিপ্রাপ্ত।
# স্টক মার্কেট ও তার সব কাজে মূসক অব্যাহতি
# কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশের নতুন করে মূসক অব্যাহতি।
৮. দেশীয় সব সফটওয়্যার উৎপাদন ও সরবরাহকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
৯. বাংলাদেশে উৎপাদিত ফ্রিজ, টিভি, এসি, মোটরসাইকেলে বিদ্যমান অব্যাহতি বহাল রাখা হয়েছে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog