1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha : Sardar Dhaka
  2. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
  3. rafiqul@mohajog.com : Rafiqul Islam : Rafiqul Islam
  4. sardar@mohajog.com : Shahjahan Sardar : Shahjahan Sardar
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন

বিরোধী দলের রাজনীতি করি বলেই বাসা থেকে উচ্ছেদ: মওদুদ আহমদ

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৭ জুন, ২০১৭
  • ১৮১ বার

প্রতিবেদক : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের অবৈধ দখলে থাকা গুলশান-২ এর ১৫৯ নম্বর প্লটের বাড়িটি মুক্ত করতে রাজউকের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চলছে। বুধবার (০৭ জুন) দুপুর থেকে রাজউকের ম্যাজিস্ট্রেট ওয়ালিউর রহমানের নেতৃত্বে বাড়িটিতে অভিযান শুরু হয়েছে। সেখানে রাজউকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন বলেও জানা গেছে।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ অন্যায়। সম্পূর্ণ অবিচার। জোর করে যা ইচ্ছা মনে হয় তাই করা। পেশিশক্তির সঙ্গে আমার কী করা আছে। এ মুহূর্তে আদালতে যাব সে উপায়ও নেই। উচ্ছেদ অভিযান না চালানোর আবেদন জানিয়ে গতকাল আমি একটি দেওয়ানি মামলা করেছিলাম। মামলা নম্বর ৫৬১। এই মামলায় আদালত রাজউককে একটি সমনও জারি করেছেন। এর মধ্যেই এই অভিযান চালানো হলো। এখন আমি কী-ই করতে পারি।’

বেলা তিনটার একটু পরে আইনজীবীর পোশাকে গাড়িতে করে বাড়ির সামনে পৌঁছান মওদুদ আহমদ। বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে উচ্ছেদ কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দেশে যে আইনের শাসন নেই, এটি তারই প্রমাণ।’

পরে গণমাধ্যমকর্মীদের ডেকে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দেখেন, কীভাবে আমার মালামাল তুলে নিচ্ছে! এটা প্রতিহিংসার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত। আদালত তো বলেননি এই বাড়ি থেকে উচ্ছেদের কথা। রাজউকও উচ্ছেদের নোটিশ দেয়নি। বিরোধী দলের রাজনীতি করি বলেই বাসা থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। সরকারি দলের নেতা হলে তো এমন হতো না।’ এখন কী করবেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এখন তো রাস্তায় শুয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। মালামাল কোথায় নেওয়া হবে তা জানি না।’

এই বাড়ির মালামাল সরিয়ে কোথায় নেওয়া হবে, তা জানাননি রাজউকের কর্মকর্তারা। তবে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মালামালগুলো মহাখালীতে রাজউকের কার্যালয়ে নেওয়া হতে পারে।

রাজউকের পরিচালক খন্দকার ওয়ালিউর রহমান জানান, বুধবার বেলা ১২টার দিকে গুলশান এভিনিউয়ের ১৫৯ নম্বর হোল্ডিংয়ে ওই বাড়িতে তাদের অভিযান শুরু হয়। তিনি বলেন, “এটা রাজউকের সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে তারা দখল করে রেখেছিলেন। আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আমরা দখলমুক্ত করতে এসেছি।”

রাজউকের আইন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পুলিশও রয়েছে অভিযানে। ওই বাড়ির সামনে বুলডোজারও দেখা গেছে বলে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।

গুলশনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, “আমরা কিছুক্ষণ আগে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছি। পরে আপনাদের বিস্তারিত বলতে পারব।”

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান অভিযানের বিষয়টি জানিয়েছেন। শায়রুল কবীর খান জানান, রাজউক কর্তৃপক্ষ বিএনপি নেতা মওদুদের বাসা থেকে আসবাব বের করছেন। তবে মওদুদ আহমদ এখনো সেখানে এসে পৌঁছাননি।

গুলশান-২ এর ১৫৯ নম্বর প্লটের বাড়িটি নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন ৪ জুন (রোববার) খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মওদুদ আহমদ ও তার ভাই মনজুর আহমেদের দখলে থাকা বাড়িটি ছাড়তেই অভিযান শুরু করে রাজউক। রোববার (০৪ জুন) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

১৫৯ নম্বর বাড়ির মিউটেশন (নামজারি) মওদুদ আহমদের ভাই মনজুর আহমদের নামে করতে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করে গত বছরের ০২ আগস্ট রায় দেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ওই বাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও বাতিল হয়ে যায়। এরপর মামলা বাতিলের বিরুদ্ধে দুদক এবং নামজারি বাতিলের বিরুদ্ধে মনজুর আহমদ আপিল বিভাগের রায়ের রিভিউ চেয়ে আবেদন জানান।

দুই রিভিউ আবেদনের শুনানি একসঙ্গে নিয়ে মওদুদ আহমদ ও তার ভাই মনজুর আহমদের বিরুদ্ধে করা বাড়ি আত্মসাৎ মামলার অভিযোগ গঠন বাতিলে দুদকের রিভিউ আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। অন্যদিকে নামজারি বাতিলের বিরুদ্ধে মনজুর আহমদের রিভিউ আবেদন পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করেছেন।

আদালতে মওদুদ আহমদের পক্ষে তিনি নিজে এবং ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও কামরুল হক সিদ্দিকী শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদকের পক্ষে আবদুল মতিন খসরু ও খুরশীদ আলম খান শুনানিতে ছিলেন।

গত ৩১ মে দুই পক্ষের রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ০৪ জুন রোববার আদেশের দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। কর্মদিবসের প্রথম ভাগেই বিষয়টিতে আদেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত।

আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের পর গত বছরের ০২ আগস্ট অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাজউকের আপিল মঞ্জুর করায় বাড়িটি মওদুদ আহমদের ভাইয়ের নামে নামজারি করতে হবে না। ফলে ভাইয়ের নামে দখল করা বাড়িটি মওদুদ আহমদকে ছাড়তে হবে।

এছাড়া দুর্নীতি মামলার অভিযোগ আমলে নেওয়া বৈধ বলে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মওদুদ ও তার ভাই মনজুরের করা আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়ায় বিচারিক আদালতে মামলাটি চলবে না।

এক আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১০ সালের ১২ আগস্ট ওই বাড়িটি মনজুর আহমদের নামে মিউটেশন করার রায় দেন হাইকোর্ট। রাজউক এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করে ২০১১ সালের ০৩ ফেব্রুয়ারি। ২০১৪ সালের ০৯ মার্চ আপিল বিভাগ রাজউককে আপিলের অনুমতি দেন।

অন্যদিকে ২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশীদ রাজধানীর গুলশান থানায় মওদুদ আহমদ ও তার ভাই মনজুর আহমদের বিরুদ্ধে ওই বাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সালের ১৪ জুন এ মামলার অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত। এর বিরুদ্ধে তাদের আবেদন গত বছরের ২৩ জুন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন মওদুদ আহমদ।

দুদকের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাড়িটির প্রকৃত মালিক ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসান। ১৯৬০ সালে তৎকালীন ডিআইটির (রাজউক) কাছ থেকে এক বিঘা ১৩ কাঠার এ বাড়ির মালিকানা পান এহসান। ১৯৬৫ সালে বাড়ির মালিকানার কাগজপত্রে এহসানের পাশাপাশি তার স্ত্রী অস্ট্রিয় নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্ত্রীসহ ঢাকা ত্যাগ করেন এহসান। তারা আর ফিরে না আসায় ১৯৭২ সালে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়।

এরপর ১৯৭৩ সালের ০২ আগস্ট মওদুদ তার ইংল্যান্ডপ্রবাসী ভাই মনজুরের নামে একটি ভুয়া আম মোক্তারনামা তৈরি করে বাড়িটি সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ নেন বলেও মামলায় অভিযোগ করে দুদক।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2023 Mohajog