1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha : Sardar Dhaka
  2. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
  3. rafiqul@mohajog.com : Rafiqul Islam : Rafiqul Islam
  4. sardar@mohajog.com : Shahjahan Sardar : Shahjahan Sardar
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৭:৪১ অপরাহ্ন

এই রায়ে জনগণের বিজয় হয়েছে: বিএনপি

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩ জুলাই, ২০১৭
  • ১৫৯ বার

প্রতিবেদক: সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে দেওয়া রায় আপিল বিভাগে বহাল থাকায় এর মধ্যে দিয়ে ‘জনগণের বিজয়’ হয়েছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বিএনপি।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন, “সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণ করার ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে নেওয়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট সেটি আজ অবৈধ ঘোষণা করেছে। সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্ত জনগণের বিজয়।”

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে সংসদের হাতে রাখা হলেও ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনের পর বিচারক অপসারণের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত হয়।

পঁচাত্তরের পট পরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী এনে বিচারক অপসারণের বিষয় নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করেন।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ২০১৪ সালে ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারক অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু এক রিট আবেদনের প্রেক্ষাপটে ২০১৬ সালে হাই কোর্ট ওই সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে।

রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা নেতৃত্বাধীন সাত বিচারকের আপিল বিভাগ সোমবার হাই কোর্টের রায় বহাল রাখে।

রিজভী বলেন, “সরকার বিচার বিভাগকে করায়ত্ব করার যে দূরভিসন্ধি করেছিল, সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তে সেই চক্রান্ত ব্যর্থ হল। আমরা সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।”

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের ‘স্বাধীনতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে’ বলে মন্তব্য করেন এই বিএনপি নেতা।

সংসদের হাতে বিচারক অপসারণের ক্ষমতা থাকলে বিচার কার্যক্রম প্রভাবিত করতে চাপ প্রয়োগের সুযোগ থাকে বলে মনে করেন রিজভী।

তিনি বলেন, “বর্তমান জাতীয় সংসদের যে কম্পোজিশন, তাতে উচ্চ আদালতের বিচারকগণের অপসারণ করার ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত থাকলে সেখানে চরম দলীয় কর্তৃত্বের প্রতিফলন ঘটত এবং নিরপেক্ষতা ও ন্যায় বিচার ক্ষুন্ন হত।

“বিচারকগণকে নানাভাবে প্রভাবিত করতে চাপ প্রয়োগের সুযোগ পেত।”

আপিলের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের আদালতের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের নিশ্চিত সম্ভাবনা দূরীভূত হল। এই রায়ে জনগণের মনে ন্যায় বিচারের নিশ্চয়তার আশ্বাস আরও গভীরে পতিত হল।”

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, “যখন এই ষোড়শ সংশোধনী করা হয়, যে সংসদে করা হয়েছে তা একটা একদলীয় সংসদ, এটা একটা দ্বিতীয় মেয়াদের বাকশালী সংসদ। এখানে অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে তারা এই সংশোধনী করেছিল।”

“জাতীয় সংসদ উচ্চতর আদালতের বিচারকগণকে অপসারণ করবেন, দলীয় কর্তৃত্বই এই জায়গায় প্রতিফলিত হত। এতে ন্যায় বিচার ক্ষুণ্ন হত এবং একজন ব্যক্তির কতৃত্বই এখানে আসত। সুতরাং আমরা মনে করি, সর্বোচ্চ আদালত যে সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করেছেন, এটা ন্যায় বিচার নিশ্চিত করবে এবং আগামীতে মানুষকে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী করবে ন্যায় বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে।”

ষোড়শ সংশোধনীর আগে বিচারক অপসারণের পদ্ধতি সম্পর্কে রিজভী বলেন, “যে পদ্ধতিটি আগে ছিল, ষোড়শ সংশোধনীর পূর্বের যে অবস্থা- আমরা মনে করি ন্যায় বিচার অনেকখানি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।”

অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, মাহবুবুল আলম নান্নু, খোন্দকার মাশুকুর রহমান, সেলিমুজ্জামান সেলিম, হাফেজ আবদুল মালেক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2023 Mohajog