1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:০৮ অপরাহ্ন

অপহরণ নয়, ফরহাদ মজহার স্বেচ্ছায় গেছেন : আইজিপি

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৭
  • ১১৬ বার

প্রতিবেদক : পুলিশ মহা পরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তাদের মনে হয়েছে, ফরহাদ মজহার স্বেচ্ছায় খুলনা গিয়েছিলেন, অপহরণের কোনো ঘটনা সেখানে ঘটেনি। বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের এই অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ফরহাদ মজহার তার অন্তর্ধানের বিষয়ে যা বলেছেন, তার সত্যতা নিয়ে আগেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিল পুলিশ। বরং ফরহাদ মজহারের ‘ভক্ত’ হিসেবে পরিচয়দানকারী অর্চনা রানির বক্তব্যের সঙ্গে তদন্তে মিল পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল পুলিশের পক্ষ থেকে।

কেন ফরহাদ মজহারের বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ, সেই কারণগুলো তুলে ধরে আইজিপি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এ পর্যন্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আমরা যতটুকু পেয়েছি, উনি অপহৃত হননি, উনি স্বেচ্ছায় গেছেন।

ফরহাদ মজহার গত ৩ জুলাই ভোরে ঢাকার শ্যামলীর রিং রোডের বাসা থেকে বেরিয়ে ‘অপহৃত’ হন বলে তার স্ত্রী ফরিদা আখতারের অভিযোগ। পুলিশ মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে অনুসন্ধান শুরুর পর সেই রাতেই যশোরে হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি বাসে ফরহাদ মজহারকে পাওয়া যায়।

পরদিন গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ মজহার বলেছিলেন, ভোরে ওষুধ কেনার জন্য তিনি বাসা থেকে বের হলে কয়েকজন একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়।

আর ফরিদা আখতারের অভিযোগের ভিত্তিতে আদাবর থানায় নথিভুক্ত মামলায় বলা হয়, ফরহাদ মজহার তার ফোন থেকে স্ত্রীকে পাঁচবার কল করে বলেন, অপহরণকারীরা ৩৫ লাখ টাকা চেয়েছে।

আইজিপি বলেন, “সেদিন উনি স্ত্রীর সাথে দশবার এবং আরেকটি মোবাইলে (অর্চনা রানি) ছয়বার কথা বলেছেন। তার কাছ থেকে ওই মোবাইলে একটি এসএমএসও এসেছে।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দ্বিতীয় নম্বরটির সূত্র ধরে তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, ওই ফোনের মালিক ঢাকার ভাটারায় আছেন। পরে মোবাইল ট্র্যাক করতে গিয়ে দেখেন, ফোনের মালিক চট্টগ্রামে চলে গেছেন।
“পরে জানতে পারি, তিনি একজন নারী। তিনি ফরহাদ মজহারের পূর্ব পরিচিত। তাদের মধ্যে ওইদিন (অন্তর্ধানের দিন) কথোপকথন হয়। পরে আমরা তার জবানবন্দি রেকর্ড করাই।”

আইজিপি বলেন, ৩ জুলাই সকালে ফরিদা আখতার যখন থানায় লোক পাঠিয়ে অভিযোগ জানান, ফরহাদ মজহারের অবস্থান তখন ছিল আরিচা ঘাটের পরে। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের ওই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তখন আরিচার পর থেকে সব মাইক্রোবাসে তল্লাশি শুরু করে। কিন্তু কোনো মাইক্রোবাসে তাকে পাওয়া যায়নি।

সেদিন বিকাল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত খুলনা নিউ মার্কেট এলাকায় ফরহাদ মজহারের চলাফেরার সিসিটিভি ভিডিও পাওয়ার বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে জানান শহীদুল হক।

তিনি বলেন, ওই নারীকে ফরহাদ মজহার রকেটের মাধ্যমে দুই দফায় মোট ১৫ হাজার টাকা পাঠান। আর স্ত্রীর সঙ্গে তার কথোপকথনের রেকর্ডও পুলিশের হাতে আছে।

“তাই আমাদের কাছে এ পর্যন্ত প্রতীয়মান হচ্ছে, উনি অপহৃত হননি, উনি স্বেচ্ছায় গেছেন। আমার মনে হচ্ছে, উনি বাসে করে খুলনায় গিয়েছিলেন, কারণ আমরা মাইক্রোবাস তল্লাশি করেছি।”

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog