1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:১১ অপরাহ্ন

অফিসে বসে এই সাইটগুলোতে যাবেন না

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৭
  • ২৯০ বার

তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে অফিস মানেই কম্পিউটারের ব্যবহার। আর কম্পিউটার মানেই ইন্টারনেটে যেতে হয় এ সাইট থেকে ও সাইটে। কে না জানে, ইন্টারনেট পেলেই অদ্ভুতুড়ে সব সার্চের অভ্যাস চেপে বসে আমাদের মনে! কিন্তু অফিসের কম্পিউটার ব্যবহারে কিছু বিধিনিষেধ তো থাকেই। এসব বিধিনিষেধের পরও ব্যক্তিগত টুকিটাকি কাজ ও সামাজিক যোগাযোগের সাইট মিলিয়ে নিজের কাজও থেমে থাকে না। তাই বলে অফিসে আপনার ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট কম্পিউটারে আপনি যা খুশি তা-ই করতে পারেন না।

অফিসের কম্পিউটার ব্যবহারে কিছুটা সাবধানতা ও ‘কমন সেন্স’ জরুরি। কর্মক্ষেত্রে বিতর্কিত কিংবা বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়তে না চাইলে ব্যক্তিগত বিষয়বস্তু নিয়ে ‘ইন্টারনেটে সার্চ’-এর অভ্যাসটা আপনার বাসার কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপের জন্যই বরাদ্দ রাখুন। বিশেষজ্ঞরা কিন্তু বলছেন, ওয়েবে কোনো কিছুই দীর্ঘদিন গোপন রাখা যায় না। অফিসে বসে আপনি যে ওয়েবসাইটেই যান না কেন, আইটি বিভাগের সহকর্মীর জন্য আপনার অনলাইন গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা কিন্তু খুব সহজ ব্যাপার। ‘সার্চ হিস্টরি’ ডিলিট করলেও কিন্তু আপনি নিরাপদ নন।
অফিসের কম্পিউটারে যে সাতটি সাইটে যাওয়া উচিত নয়—

পর্নোগ্রাফি কিংবা আপত্তিকর সাইট
এ কাজটি আপনার নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক। অফিসে বসে পর্নোগ্রাফি দেখার বদঅভ্যাস থাকলে খুব দ্রুতই বিপদ ঘটতে যাচ্ছে আপনার ভাগ্যে। অফিসে পর্নোগ্রাফি দেখার জন্য হরহামেশাই বরখাস্ত হচ্ছেন কর্মীরা। আগামীকাল আপনি যে ছাঁটাই হবেন না, সেই নিশ্চয়তা দেবে কে! তা ছাড়া এটা রুচিরও প্রশ্ন। এতে কর্মী হিসেবে কুরুচিপূর্ণ মনোভাব প্রকাশ পায় অফিসে, যা আপনার জন্য ভীষণ বিব্রতকর। তাই আজই পর্নো দেখার বদঅভ্যাস বর্জন করুন। অফিসে বসে এসব সাইটে একদম ঘোরাঘুরি করবেন না। সামান্য এ ইচ্ছাকে বশ মানাতে না পারলে তা আপনার পরিবারের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

অফিসের কম্পিউটারে আপনি যা খুশি তা-ই করতে পারবেন না। ছবি: মিররব্যক্তিগত ব্যবসা কিংবা শেয়ারের সাইট
চাকরির পাশাপাশি ব্যক্তিগত ব্যবসা থাকলে তা আপনার অফিসে প্রভাব ফেলবেই। যেমন ধরুন, বাংলাদেশে অনেকেই চাকরির সঙ্গে শেয়ার বাজারেও বিনিয়োগ করে থাকেন। অফিসে বসে প্রায় সারাক্ষণই শেয়ারের সাইটে চোখ রাখেন তাঁরা। এটা মোটেও কর্মীসুলভ আচরণ নয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বক্তা মিশেল কের মতে, ‘চাকরির সময় নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসায় সময় দিতে গিয়ে বরখাস্ত হয়েছেন বহুসংখ্যক কর্মী।’ অর্থাৎ, আপনি অফিসে বসে সারাক্ষণই শেয়ার বাজারের সাইটে দর ওঠা-নামায় চোখ রাখছেন—এমনটা ঘটলে বিপদ অবশ্যম্ভাবী। কেননা, কোনো অফিসই কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের ব্যক্তিগত কিংবা অন্য কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়ার ব্যাপারটি মেনে নেবে না।

চাকরি খোঁজার সাইট
বর্তমান চাকরিতে আপনি সন্তুষ্ট নন, তাই কর্মক্ষেত্র পাল্টাতে চান। এ জন্য অফিসে বসেই আপনি ‘জব সাইট’গুলোতে ঢুঁ মারছেন। কখনো ভেবে দেখেছেন, এটা আপনার বর্তমান চাকরির জন্য কতখানি বিপজ্জনক? বাসায় বসে চাকরি খোঁজাই নিরাপদ। কেননা, অফিসে বসে কর্মঘণ্টা নষ্ট করে আপনি অন্য কোনো চাকরি খুঁজছেন, তা মেনে নেবে কোনো ‘বস’? এতে আপনার চাকরিও চলে যেতে পারে। আর অফিসের প্রতিপক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইটে ঢুঁ মারলে তো কথাই নেই; পত্রপাঠ বিদায়ের সম্ভাবনাই বেশি!

ডেটিং সাইট
কর্মক্ষেত্রের কম্পিউটারে ব্যক্তিগত জীবনের ছাপ না পড়াই ভালো। মনে রাখবেন, অফিস ও ব্যক্তিগত জীবন—এ দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। কিন্তু অনেকেই তা মানতে নারাজ। বাংলাদেশেও ইদানীং অফিসে বসে ডেটিং সাইটে ঢুঁ মারছেন অনেকে। আপনি একা, তাই সম্পর্কে জড়াতে চান; ভালো কথা কিন্তু সেই চেষ্টা অফিসে বসে কেন? অফিস নিশ্চয়ই ডেটিং সাইটে ঢুঁ মারার জন্য আপনাকে মাসে মাসে পারিশ্রমিক দিচ্ছে না? বিবাহিত কর্মীদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরও বেশি ভয়ানক ও বিব্রতকর। অফিসে জানে আপনি বিবাহিত, কিন্তু পাশাপাশি এটাও জানে আপনি নিজেকে জড়ানোর চেষ্টা করছেন নতুন সম্পর্কে—এতে অফিসে আপনার ব্যক্তিত্ব থাকে? এ বদঅভ্যাসটা মাত্রাতিরিক্ত হলে কিন্তু চাকরিও যেতে পারে।

টরেন্ট, স্ট্রিমিং ও ডাউনলোড
অফিসে অনেকেই এটা করে থাকেন। কম্পিউটারে টরেন্ট কিংবা পাইরেটস বে থেকে কয়েক গিগাবাইটের সিনেমা কিংবা টিভি সিরিজ ডাউনলোড করছেন। এটা আসলে ‘কমন সেন্সে’র প্রশ্ন। ভেবে দেখুন তো, আপনার সিনেমা নামানোর বাতিকের কারণে গোটা অফিসের ইন্টারনেট সিস্টেম ধীরগতির হয়ে পড়ছে, এবং সেটাও প্রতিদিন! তাহলে এ কাজের জন্য আপনাকে বরখাস্ত করা হবে না কেন?
ভাবছেন লুকিয়ে ডাউনলোড করবেন। না, অফিসে তা সম্ভব নয়। আইটি বিভাগের সহকর্মীরাই আপনাকে ধরে ফেলবেন। ৫ থেকে ১০ মিনিটের ভিডিও ডাউনলোড করলে হয়তো তেমন কিছু হবে না। কিন্তু অফিসে প্রতিদিনই যদি সিনেমা, টিভি সিরিজ কিংবা অন্য কিছু ডাউনলোড করেন, তাহলে সেটা অবশ্যই আপনার বিপদের কারণ হবে।

অফিসের কম্পিউটারে আপনি যা খুশি তা-ই করতে পারবেন না। ছবি: মিররস্বীকারোক্তিমূলক সাইট
কর্মক্ষেত্রে আমরা অনেক সময়ই অফিস কিংবা সহকর্মীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠি। বাংলাদেশে এ ক্ষোভ ঝাড়তে অনেকেই বেছে নেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমকে। কিংবা রয়েছে স্বীকারোক্তিমূলক কিছু সাইট। অফিসে বসে এ ধরনের কাজ করা ভীষণ গর্হিত ব্যাপার। যেহেতু আপনার অফিসের আইটি ডিপার্টমেন্টের কাছে আপনার কম্পিউটারের ‘সার্চ হিস্টরি’ রয়েছে, সেহেতু এ ধরনের কাজ চাকরি যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। সবচেয়ে বড় কথা হলো, অফিসের ব্যাপারগুলো অফিস পর্যন্ত থেকে যাওয়াই ভালো।

ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিভিন্ন সাইটে ঘোরাঘুরি
অফিসে আপনার কাজের নির্দিষ্ট কিছু গণ্ডি রয়েছে। এর বাইরে ব্যক্তিগত ইচ্ছা কিংবা শখের বশে বিভিন্ন সাইটে ঘোরাঘুরি করা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। যেমন ধরুন, আপনি একটি ভালো স্মার্টফোন কিনতে চান। এ জন্য অফিসের কাজ ফেলে কম্পিউটারে বিভিন্ন সাইট থেকে তথ্য নেওয়ার ব্যাপারটি মোটেও ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবে না আপনার বস। কাজের সময় নষ্ট করে ব্যক্তিগত কাজে পড়ে থাকাটা অফিসে অযোগ্যতার লক্ষণ।

শেষ কথা
অফিসে যে কম্পিউটারটি আপনি ব্যবহার করছেন, তা চালাতে সব সময়ই ছোটখাটো কিছু সাবধানতা জরুরি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, অফিসে কোনটি করা ঠিক আর কোনটি ঠিক নয়—এ প্রশ্নটা নিজেকে করুন। জবাব পেয়ে যাবেন আপনাই। তারপরও ছোটখাটো কিছু পরামর্শ হলো, কাজ শেষে অবশ্যই কম্পিউটার লগ আউট করুন। পাসওয়ার্ড সংরক্ষণে রাখুন এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহারে সতর্ক থাকুন। অফিসে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে খুব বেশি ঘোরাফেরা না করাই ভালো। অফিসে যদি ফেসবুক বন্ধ থাকে, অন্য উপায় (প্রক্সি) ব্যবহার করে ফেসবুকে যাবেন না। ‘সেলফি’ সংস্কৃতিও যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয় অফিসে। মনে রাখবেন, অফিস মানেই গোছানো পরিপাটি কাজের জায়গা, যেখানে কোনো অনিয়ম কিংবা অগোছালো কর্মকাণ্ড আপনার চাকরিকে ঠেলে দিতে পারে হুমকির মুখে। বিশেষ করে অফিসে যে পিসিটি আপনার জন্য বরাদ্দ, সেটির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখার ক্ষমতা আছে আইটি বিভাগের।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog