1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৩১ অপরাহ্ন

শ্রম আদালতে ১০ হাজার টাকা পেতে খরচ ‘১২ হাজার’!

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৭
  • ১৯৪ বার

রাজধানীর বনানীতে ‘আপ-টু-ডেট গার্মেন্টস’ নামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন আলী আজম, আবুল হোসেন ও ইব্রাহিম খলিল। দীর্ঘ ১০ বছর চাকরির পর কারখানা কর্তৃপক্ষ ২০১১ সালের জানুয়ারিতে পূর্ব কোনো নোটিশ ছাড়াই তাঁদের চাকরিচ্যুত করে। শুধু তা-ই নয়, চাকরিচ্যুত করার পর কারখানার কাছে তাঁদের দেনা-পাওনা নেই বলে সাদা কাগজে জোরপূর্বক  স্বাক্ষরও করিয়ে নেওয়া হয়। এতে প্রচণ্ড আশাহত হন ওই তিনজন।

এমন বাস্তবতায় ন্যায়বিচারের আশায় ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে ২০১১ সালে মজুরির টাকা পেতে আলাদা তিনটি মামলা করেন আজম, আবুল ও ইব্রাহিম। দীর্ঘ পাঁচ বছর চলার পর ২০১৬ সালে আলী আজমসহ তিনজন সুলতান মাহমুদের আদালতে আপসের ভিত্তিতে ১০ হাজার টাকা করে পান।  অথচ এই টাকা তুলতে গিয়ে ১২ হাজার খরচ হয়েছে বলে দাবি করেছেন একজন।

ওই তিনজনের প্রত্যেকে পাওনাকৃত দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা করে দাবি করেছিলেন। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে মামলা টানতে অক্ষম হয়ে পড়ায় তাঁরা বাধ্য হয়ে ন্যূনতম কিছু টাকা নিয়ে তা প্রত্যাহার করে নেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই তিনজনের আইনজীবী গাফফার হোসেন বলেন, ‘ন্যায়বিচারের জন্য আদালতে এসেও তাঁদের হয়রানির শিকার হতে হলো। অনেকটা খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি।’

গাফফার জানান, আলী আজমসহ তিনজন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা পাওয়ার জন্য মামলা করেন। কিন্তু আপ-টু-ডেট গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা দীর্ঘায়িত করে বাদীদের পাঁচ বছর ধরে ঘুরিয়েছেন। পরে বাদীরা হতাশ হয়ে যাওয়ায় বিবাদীর আইনজীবীরা কৌশলে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তখন বাদীরা বাধ্য হয়ে রাজি হয়ে যান।

তিনজনের আইনজীবী আরো জানান, এভাবে শ্রম আদালতে মামলা এলে বিবাদীরা আইনজীবীর মাধ্যমে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তা দীর্ঘায়িত করেন। আইনজীবীর খরচ, আসা-যাওয়ার খরচ মিলিয়ে এক সময় বাদীরা হতাশ হয়ে আপসে রাজি হয়ে যান।

মামলার বাদীদের একজন আলী আজম জানান, ২০১১ সালে মামলা করার সময় তিনি দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি দেখেন, বিবাদীর আইনজীবীরা বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপণ করছেন। মামলার প্রত্যেক শুনানির সময় কুমিল্লার দেবীদ্বার থেকে আসা-যাওয়া করা ও আইনজীবীকে কিছু ফিস দিতে দিতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে ২০১৬ সালে বিবাদীদের আইনজীবী আপসের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দিতে চাইলে তাতে রাজি হয়ে যান তিনি। তবে এ টাকা তুলতে গিয়ে তাঁর খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা।

অপর ভুক্তভোগী ইব্রাহিম খলিল জানান, তিনি গাজীপুর থেকে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। পোশাক কারখানায় চাকরি চলে যাওয়ার পর আরেক প্রতিষ্ঠানে যোগ নিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে নিয়মিত ছুটি নিয়ে মামলায় হাজির দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যাচ্ছিল। এ ছাড়া তিনি আসা-যাওয়ার খরচও জোগাতে পারছিলেন না।

ইব্রাহিম খলিল আরো জানান, শ্রম আদালতে শ্রমিকরা ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য মামলা করেন। কিন্তু আদালতে বিবাদীপক্ষ বিভিন্ন কৌশলে সময় নিয়ে বাদীদের হতাশ করে কিছু টাকা দেন। এতে শ্রমিকরা শ্রম আদালতে মামলা করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। দ্রুত এসব মামলা নিষ্পত্তি করে দিলে শ্রমিকরা খুব উপকৃত হতো। আর আদালতের প্রতি আস্থা অনেকাংশে বাড়ত।

এ বিষয়ে শ্রম আদালতের আইনজীবী বেলাল হোসেন জসিম জানান, শ্রমিকরা ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য শ্রম আদালতে মামলা করেন। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে আদালত শ্রমিকদের পক্ষে থাকলেও বিবাদীরা কৌশলে সময় নিয়ে মামলা দীর্ঘায়িত করেন। তিনি আরো জানান, কোম্পানির প্রয়োজন ও নির্দেশনা অনুযায়ী, আইনজীবীরা সময় নেন। এসব ক্ষেত্রে শ্রমিকদের প্রাপ্য টাকা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমে প্রদানের ব্যবস্থা করলে বাদীরা অনেক উপকার পাবেন। এতে আদালতেও মামলার জট কমবে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog