1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন

হঠাৎ অসুস্থ কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, হাসপাতালে ভর্তি

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৭
  • ১১১ বার

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ভারতের কংগ্রেসের নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তকে শিমলা থেকে দ্রুত দিল্লিতে ফিরিয়ে এনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কংগ্রেস নেত্রীকে বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র। খবর: এনডিটিভি।

কংগ্রেসের ৭০ বছর বয়সী এই নেত্রী দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি বেশ কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে চিকিৎসাও নিয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, হিমাচল প্রদেশে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে যান সোনিয়া গান্ধী। শিমলায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি। সেখানেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন কংগ্রেস নেত্রী।

ভারতের যে কয়েকটি রাজ্যে এখনো কংগ্রেস সরকার রয়েছে তার মধ্যে হিমাচল প্রদেশ একটি। আগামী ৮ নভেম্বর সেখানে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। ফল প্রকাশিত হবে ১৮ ডিসেম্বর।

এদিকে দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগলেও সোনিয়া গান্ধীর রোগের ধরন নিয়ে মুখ খুলছেন না দলটির নেতারা। কার্যত রাহুল গান্ধীই এখন ভারতের প্রভাবশালী দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

কংগ্রেসের পরাজয়

ভারতের ১৬তম সাধারণ নির্বাচনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এতটাই শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করেছে, যা ভাবনাতীত। টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকা দলটি এবার বিরোধী দলও হতে পারছে না।

বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি যখন নতুন সরকার গঠনে ব্যস্ত তখন কংগ্রেস শিবিরে শুধুই হতাশা, গৌরব হারানোর বেদনা। পার্লামেন্টে বিরোধী দল হতে সর্বনিম্ন ৫৪টি আসন প্রয়োজন। এই ন্যূনতম আসনগুলোও পায়নি কংগ্রেস। ফলে কী হবে দলের ভবিষ্যৎ তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে শীর্ষ নেতৃত্ব।

ভারতে তো বটেই, বিশ্বজুড়ে কংগ্রেসের হারের বিষয়টি রীতিমতো গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবারের নির্বাচনের আগে ভারতে একটিমাত্র দলের সর্বভারতীয় অস্তিত্ব ছিল, তা হলো কংগ্রেস। কিন্তু ১৬তম লোকসভা নির্বাচনের ফল তার একেবারেই উল্টো। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় চরিত্র গুঁটিয়ে এসেছে গান্ধী পরিবারের অলিন্দে। নরেন্দ্র মোদির উন্নয়ন রথে উঠে পড়েছেন ভারতবাসী।

কিন্তু কেন এমন হলো- এ প্রশ্নের ব্যাখ্যা একেক জনের কাছে একেক রকম হতে পারে। ভারতের প্রবীণ ও বিদগ্ধ সাংবাদিক এম জে আকবর কংগ্রেসের হারের জন্য কতগুলো কারণ চিহ্নিত করেছেন। তিনি ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর প্রেস সেক্রেটারি ছিলেন।

এম জে আকবর মনে করেন, মোদি-তরঙ্গে বিজেপি জিতেছে- এমন কথা পুরোপুরি সত্যি নয়। এ জয় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লব। এ জয় ভারতকে বিশ শতকের জীর্ণতা থেকে নতুনের পথে ধাবিত করিয়েছে, গান্ধী পরিবারের সামন্ততান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে উদ্ধার করেছে।

ভোটে কংগ্রেসের ভরাডুবির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছে গান্ধী পরিবারের প্রতি জনগণের চাপা ক্রোধ। এ ক্রোধের স্ফুলিঙ্গে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে কংগ্রেস-ছাউনি। যেখানে সহজেই নতুন পথের নিশানা ওড়াতে সক্ষম হয়েছে মোদি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট।

এ প্রসঙ্গে এম জে আকবর বলেছেন, লাখ লাখ বেকার তরুণ কংগ্রেসের শাসনব্যবস্থার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুড়েছেন- তারা কি ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার বন্দোবস্ত নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন? আমাদের কি কোনো পরিবর্তন হবে না? আমরা কি বেঁচে থাকার যথার্থ সুযোগ পাব না?

তরুণদের এই হাহাকারের প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালট পেপারে। কংগ্রেসের জন্য ইভিএমের বোতাম টেপেননি এই শিক্ষিত বেকার তরুণেরা। আশায় বুক বেঁধে মোদির বিজেপিকে রায় দিয়েছেন তারা।

কংগ্রেসের দিল্লির অভিজাত নেতারা নির্বাচনের আগে-পরে বারবার বলার চেষ্টা করেছেন, এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশকে বিভাজন করার চেষ্টা চলছে। সাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটানো হচ্ছে। অবশ্যই এসবের জন্য তাদের অভিযোগের আঙুল মোদির দিকে। কিন্তু আদতে তা নয়। কংগ্রেসের মরীচিকা-নেতৃত্বের বিপরীতে নরেন্দ্র মোদি আস্থার মূর্ত প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। মোদিকে মহামানবের চরিত্রে রূপায়িত করতে কংগ্রেসের দুর্নীতির চিত্রনাট্যই যথেষ্ট পটভূমি হয়ে কাজ করেছে।

কাজ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, ক্ষুধামুক্ত জীবনযাপন, মেধা বিকাশের সুযোগ ও সম্ভাবনা কংগ্রেস নিশ্চিত করতে পারেনি। সংখ্যালঘু বলে বিবেচিত হলেও মুসলমানসহ দেশটির প্রায় ৪০ কোটি মানুষকে জীবন চালাতে টোকেন ব্যবস্থার ওপর কোনো-না-কোনোভাবে নির্ভর করতে হয়। এ ব্যবস্থার অধীনে ‘খোঁয়াড়ে বন্দি’ প্রাণির মতো জীবনযাপন করতে হয়েছে অসংখ্য পশ্চাৎপদ সম্প্রদায়ের মানুষকে। এ ব্যবস্থা থেকে তারা মুক্তি চেয়েছেন। ফলে বিজেপি বা মোদি হিন্দুত্ববাদী হোক আর দাঙ্গাবাজই হোক তাতে খেয়াল রাখার প্রয়োজন বোধ করেননি সাধারণ মানুষ। তারা চেয়েছেন ভাগ্যের পরিবর্তন।

এম জে আকবর বলছেন, এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাররা এক নতুন ভারতের জন্ম দিয়েছেন। ভোটারদের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে, জাত-বর্ণের চেয়ে পেট বড়।

স্বাধীনতা-উত্তর ভারতে প্রায় ৬০ বছর ক্ষমতায় থেকে দেশকে এখনো ক্ষুধামুক্ত করতে পারেনি কংগ্রেস। গ্রামীণ জীবনব্যবস্থায় চরম অচলাবস্থা বিদ্যমান। তাই তরুণ ভোটাররা আগামী ৩০ বা ৪০ বছরের ভারতকে দেখতে চেয়েছেন, যেখানে একটি উন্নত দেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতে পারে।

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভ করেছে। কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ আজও পায়নি আমজনতা। মানুষের প্রথম এবং প্রধান মৌলিক চাহিদা ক্ষুধা নিবারণটুকু করতে পারেনি কংগ্রেস। তরুণদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছিল- আর কত ক্ষমতা পেলে একটি ক্ষুধামুক্ত ভারত উপহার দিতে পারবে কংগ্রেস?

এম জে আকবর একটু বাঁকা কলমেই লিখেছেন- এ জন্য কংগ্রেস নিশ্চিয়ই ব্রিটিশদের দায় দিতে পারে না!

ভারত আধুনিক রাষ্ট্র হতে চায়। কিন্তু এ পথে সবচেয়ে বড় বাধা দারিদ্র্য। এ ছাড়া দেশে বাকস্বাধীনতা নেই, যা একটি আধুনিক রাষ্ট্রের অপরিহার্য উপাদান। নেই লিঙ্গসমতা ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা।

কংগ্রেস সরকার এক দশকে দেড় কোটি থেকে পৌনে দুই কোটি তরুণকে কাজের সুযোগ দিতে পেরেছে। কিন্তু ভারতে প্রতিবছরই দেড় কোটি তরুণের জন্য কর্মসংস্থানের প্রয়োজন। কংগ্রেস তা পূরণ করতে পারেনি। ফলে ব্যালটে উগরে পড়েছে তরুণদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ।

রাজীব গান্ধীর প্রাক্তন প্রেস সেক্রেটারি এম জে আকবর উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেছেন, ২০০৪ সালে যে তরুণের বয়স ২০ বছর ছিল, এক দশক পরে ২০১৪ সালে তার বয়স ৩০। এর মধ্যে হয়তো তিনি বিয়ে করে সংসার পেতেছেন। কিন্তু তার ভাগ্যের তেমন পরিবর্তন হয়নি। তাই পরিবর্তনের প্রত্যাশায় তিনি বেছে নিয়েছেন মোদির উন্নয়ন-মন্ত্রকে। এর ফলে ভারতে ১৯৫২ সাল থেকে লোকসভা নির্বাচন শুরুর পরে কংগ্রেস ছাড়া অন্য কোনো দল হিসেবে বিজেপিই এই প্রথম একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল।

বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সুশাসন ও কর্মসংস্থানকে। ভোটে জেতার পর নরেন্দ্র মোদি তার প্রথম বক্তব্যে বলেছেন, ‘আমি জাতির মজদুর। অর্থাৎ জাতির জন্য নিবেদিত কর্মী।’

মোদি আরো বলেছেন, ‘গান্ধী পরিবারের রাজকীয় ধাঁচের শাসন থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। ভারতকে ব্যবসাবান্ধব ও কর্মবান্ধব দেশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আমাদের সীমান্ত থাকবে সুরক্ষিত। দেশ থেকে দুর্নীতি জাদুঘরে পাঠানো হবে।’ নারীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আধুনিক ভারতে নিশ্চয় আপনি ধর্ষণ করতে পারেন না।’

সীমাহীন মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন যখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, সেখানে গুজরাটে প্রশাস্তির গান গেয়েছেন মোদি। জনগণকে কাজের সুযোগ করে দিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

ভারতের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় সাড়ে আটের মতো। কিন্তু কংগ্রেস অর্জন করতে পেরেছে মাত্র সাড়ে চার, যা বাংলাদেশের চেয়ে বেশ কম।

এ তো গেল সরকারের রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার কথা। ছিল দলের মধ্যে অন্তঃকোন্দল। কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধীকে দলের জ্যেষ্ঠ অনেক নেতাই ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে পারেননি। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রধান হিসেবে তাকে মনোনীত করায় চাপা ক্ষোভ ছিল সোনিয়ার ওপর।

ভোটের ফলাফল দেওয়ার পরে দিল্লির অনেক কংগ্রেস নেতা অভিযোগ করেছেন, রাহুলের কয়েকজন উপদেষ্টা রাহুলকে ব্যবহার করে মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন। যোগ্যতার চেয়ে সুপারিশ ও লবিংকে বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে জনবিচ্ছিন্ন এসব নেতাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন ভোটাররা।

ভারতের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে আরো একটি কারণকে উল্লেখ করা হয়েছে। তা হলো- কংগ্রেস আমলে যে উন্নয়ন হয়েছে তা জনগণকে বোঝাতে সক্ষম হননি নেতারা। জনগণের জন্য কাজ করেও তারা জনবিচ্ছিন্ন থেকেছেন। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এমপি-মন্ত্রীদের ভালো যোগাযোগও ছিল না।

এসব কারণে কংগ্রেস একটি আঞ্চলিক দলের মতো সংকীর্ণ হয়ে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৩৪টি আসন, তামিলনাড়ুতে জয়ললিতার এআইএএমডিকে পেয়েছে ৩৭টি আসন। আর কংগ্রেস পেয়েছে ৪৪টি আসন, যা দলটির জন্য এক লজ্জাজনক অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে। লজ্জার ঘোমটা সরিয়ে, আশার নিশানা উড়িয়ে কংগ্রেস কি পারবে ভারতবাসীকে ফেরাতে?

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog