1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন

গণতন্ত্রের বিকাশ ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি জিম্বাবুয়ের নতুন নেতার

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭
  • ১১০ বার

মুগাবে শাসনের অবসানের পর নতুন গণতন্ত্রের বিকাশ এবং কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়েছেন জিম্বাবুয়ের নতুন নেতা এমারসন ম্যানানগাগওয়া। আগামী শুক্রবারই তিনি দেশটির নতুন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে সরকারী গণমাধ্যম।

দেশে ফিরে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এক ভাষণে তিনি ধন্যবাদ দেন সেনাবাহিনীকে এবং সকলের সহযোগিতার আহ্বান জানান। দক্ষিণ আফ্রিকায় আত্মগোপন শেষে বুধবার দেশে ফিরে রাজধানী হারারেতে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় তিনি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কথা বলেন। খবর বিবিসির।

ম্যানানগাগওয়া বলেন যে, ‘আমি আপনাদের সেবক হবার অঙ্গীকার করছি। আমি সকল দেশপ্রেমিক জিম্বাবুইয়ানদের একতাবদ্ধ হবার আহ্বান জানাই। আমরা সবাই একসাথে কাজ করবো। এখানে কেউই কারো চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নন। আমাদের পরিচয় আমরা জিম্বাবুয়ের নাগরিক। আমরা আমাদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চাই, দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চাই। আমরা চাই কাজ, কাজ এবং কাজ।’

ম্যানানগাগওয়ার বেকারত্ব অবসানের এই ঘোষণায় জানু-পিএফ পার্টির সদরদপ্তরের সামনে উল্লাসে ফেটে পরে জনতা। ধারনা করা হয় দেশটিতে প্রায় নব্বই শতাংশ মানুষ কর্মহীন। সাবেক এই ভাইস প্রেসিডেন্ট আগামী শুক্রবারই রবার্ট মুগাবের স্থলাভিষিক্ত হয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি টেলিভিশন।

ক্ষমতাসীন দল জানু-পিএফ পার্টির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে ৭১ বছর বয়সী নতুন এই নেতা ২০১৮ সেপ্টেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকছেন। মিস্টার মুগাবে এমারসন ম্যানানগাগওয়াকে চাকরীচ্যুত করলে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী।

মুগাবের ৩৭ বছরের শাসনের অবসান হলে দেশে ফেরার আগে জিম্বাবুয়ের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট দেখা করেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার সাথে। তার বক্তৃতায় মি ম্যানানগাগওয়া ধন্যবাদ জানান জিম্বাবুয়ের সেনাবাহিনীকে।

একইসাথে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার পার্শ্ববর্তীদেশ, আফ্রিকান কমিউনিটি এবং বহি:বিশ্বের সহায়তার প্রয়োজনের কথাও জানান।

কে এই এমমারসন মংগাগওয়া

এমমারসন মংগাগওয়া ক্রোকোডাইল’ বা কুমির নামেই বেশি পরিচিতি পেয়েছেন। গৃহযুদ্ধের সময় তিনি ‘ক্রোকোডাইল গ্রুপের’ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে তাকে ওই নামে ডাকা হয়।

এরই মধ্যে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিশ্চিত করেছে মুগাবের ক্ষমতাসীন দল জানু-পিএফ পার্টি। দলটির একজন মন্ত্রী টেলিফোনে মিডিয়াকে বলেছেন, এরই মধ্যে কুমির মানুষ দেশ চালনা করছেন। তিনি স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

দেশটিতে ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তার পূর্ব পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ‘দ্য ক্রোকোডাইল’। তার বয়স এখন ৭৫ বছর। জিম্বাবুয়েতে তিনি একজন বড় ব্যক্তিত্ব। স্ত্রী গ্রেসি মুগাবে, এমারসন মংগাগওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার যে লড়াই হয়েছে তাতে কতল হয়েছেন মুগাবে। এতে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন এমারসন মংগাগওয়া।

কিন্তু তার অতীত অতোটা সুখকর নয়। ১৯৮০র দশকে তিনি বিরোধীদের ওপর ভয়াবহ দমনপীড়ন চালিয়েছিলেন। এতে তাকে সহায়তা করেছিল উত্তর কোরিয়ায় প্রশিক্ষিত ‘ফিফট আর্মি ব্রিগেড’। ওই সময় তারা জিম্বাবুয়ের গুকুরাহুন্ডিতে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছিল। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ সব সময়ই অস্বীকার করে যাচেছন এমারসন মংগাগওয়া।

তার এই নিষ্ঠুরতা এতটাই পরিচিত যে, জিম্বাবুয়েতে হাতেগোনা যা কয়েকজন দুঃসাহসী নেতা আছেন তার মধ্যে তিনি অন্যতম। তারা দেশের ভিতরে কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই নিজে নিজে গাড়ি চালিয়ে যেতে পারেন। তার টিকি’টি স্পর্শ করার সাহস কারো হয় না। মুগাবের মতো তারও আছে দীর্ঘ ও বর্ণিল রাজনৈতিক চরিত্র। এক সময় তিনি আইন, প্রতিরক্ষা, গৃহায়ন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার।

এমনকি তাকে বলা হয় স্পাইমাস্টারও। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের সঙ্গে তার ক্ষমতা নিয়ে রেষারেষি থেকে তাকে বরখাস্ত করেন মুগাবে। কারণ, তাকেই দেখা হচ্ছিল মুগাবে পরবর্তী নেতা হিসেবে। কিন্তু ক্ষমতা হাতছাড়া করতে রাজি হন নি মুগাবে। তিনি নিজের চেয়ে ৪১ বছরের ছোট স্ত্রী গ্রেসি মুগাবেকে ক্ষমতায় আনতে চেয়েছিলেন। এ জন্যই এমারসন মংগাগওয়াকে বরখাস্ত করেন তিনি। এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকায় পালিয়ে চলে যান এমারসন মংগাগওয়া। সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনী ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয়। গৃহবন্দি করে প্রেসিডেন্ট মুগাবেকে। ফার্স্টলেডি গ্রেসি মুগাবে পালিয়ে চলে যান নামিবিয়ায়। তারপর আর তিনি প্রকাশ্যে আসেন নি। এসব ঘটনার জন্য মুগাবে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন এমারসন মংগাগওয়ার বিরুদ্ধে।

সেনাবাহিনী যখন ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসে তখন দৃশ্যত মাখনের ভাগ বসাতে দেশে ফিরে যান এমারসন মংগাগওয়া। কখনো কখনো তাকে বলা হয় তথাকথিত ল্যাকোস্টে অংশের নেতা হিসেবে। ক্রোকোডাইল লোগো প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নামে এমন নামে দেয়া হয়েছে। তার দলের সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর রয়েছে ঘনিষ্ঠতা। উল্লেখ্য, জিম্বাবুয়ের ক্রোকোডাইল এমারসন মংগাগওয়ার জন্ম ১৯৪২ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর জিশাভানা জেলায়।

কি ঘটেছিল গুরুকাহুন্ডিতে তার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র পিছন ফিরে দেখা যাক। ১৯৮০ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হন রবার্ট মুগাবে। তাকে বানানো হয় জিম্বাবুরে প্রথম প্রধানমন্ত্রী। ১৯৮৩ সালে জিম্বাবুয়ের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মাতাবেলেল্যান্ডে বড় ধরনের দমন অভিযানে নেতৃত্ব দেন এমারসন মংগাগওয়াঅ রবার্ট মুগাবের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জোশুয়া নকোমোর সবচেয়ে বড় ঘাঁটি ছিল এই মাতাবেলেল্যা-। নেকোমার দলীয় সদস্যরা ওই অঞ্চলে সিরিজ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে বলে অভিযোগ আনেন মুগাবে। ১৯৮৩ থেকে ৮৭ সাল পর্যন্ত ওই গুকুরাহুন্ডিতে অভিযান পরিচালনা করেন এমারসন। এই অভিযানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog