1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন

ইসরাইলি বিমান বাহিনীর পাহারায় ফিলিস্তিনে মোদী

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮
  • ৬৫ বার

প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঐতিহাসিক সফরে শনিবার ফিলিস্তিনে পৌঁছেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জর্ডান সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে চড়ে তিনি আম্মান থেকে রামাল্লায় পৌঁছান। এসময় মোদীর হেলিকপ্টারটির পাহারায় ছিল ইসরাইল বিমান বাহিনীর একাধিক হেলিকপ্টার।

রামাল্লায় তাকে স্বাগত জানান ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী রামি হামদাল্লাহ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, জর্ডানের সঙ্গে ১৫০ কিলোমিটার সীমান্ত ও আকাশসীমাসহ পশ্চিম তীরের সকল প্রবেশ ও প্রস্থান পয়েন্টগুলো নিয়ন্ত্রণ করে ইসরাইলি বাহিনী।

এছাড়াও, রামাল্লার পথে মোদীর হেলিকপ্টারের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাবীশ কুমার। তিনি এটিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। এর আগে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের জন্য মোদী রামাল্লায় প্রেসিডেন্টশিয়াল কম্পাউন্ডে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট আব্বাস তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেন।

বৈঠকে মাহমুদ আব্বাস ‘দুই রাষ্ট্রীয়’ সমাধান অনুযায়ী ইসরাইলের সঙ্গে ‘ন্যায়পরায়ণ ও আকাঙ্খিত শান্তি’ অর্জনের জন্য বহুজাতিক ব্যবস্থার জন্য ভারতের সমর্থন কামনা করেন।

৩০ বছর আগে প্যালেস্টাইনকে ভারত স্বীকৃতি দিয়েছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে যাননি। সে অর্থে মোদীর রামাল্লা সফর ছিল ঐতিহাসিক। তিন ঘণ্টার জন্য রাজধানী রামাল্লায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী রামাল্লায় পৌঁছে প্যালেস্টাইন মুক্তি আন্দোলনের (পিএলও) নেতা ইয়াসির আরাফতের স্মারক ভবনে যান। সেখানে তিনি প্রয়াত এই নেতার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করেন।

তারপর প্যালেস্টইনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দু’দেশের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে ভারতের তরফে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে ইজরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হয়ে উঠলেও, প্যালেস্টাইনের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ দিনের সম্পর্কে তার কোনও প্রভাব পড়বে না। সেই লক্ষ্যেই দু’দেশের মধ্যে কয়েকটি চুক্তিও হয়েছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত প্যালেস্টাইনে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নত করতে বেইট সাহুরে ৩ কোটি ডলারের একটি মাল্টি স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন মোদী। এ ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক একাধিক বিষয়ে চুক্তি হয়েছে এই সফরে।

মোদী এ দিন ইয়াসির আরাফতের সমাধিস্থলে যান। সেখানে পুষ্পস্তবক দিয়ে প্রয়াত নেতাকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি আরাফত মিউজিয়ামও ঘুরে দেখেন। রাতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে পৌঁছেছেন মোদী।

প্যালেস্টাইনের প্রেসিডেন্ট আব্বাস ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর সফরকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে চিহ্নিত করেছেন। আর প্রধানমন্ত্রী মোদীকে তিনি বলেছেন- ‘মহান অতিথি’।

গত বছর ভারত সফরে এসেছিলেন প্যালেস্টাইনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। আরব আমিরাত ও ওমান সফর শেষে সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে ফিরে আসবেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৪৮ সালে প্যালেস্টাইনের দাবিকে কামান ও বন্দুকে দাবিয়ে ইজরাইল একতরফা ভাবে নিজেকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার পর থেকেই প্যালেস্টাইনের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে এসেছে ভারত। রাষ্ট্র না হওয়া সত্ত্বেও, ১৯৭৪ সালে প্যালেস্টাইন নির্জোট দেশগুলির জোটের সদস্য হতে পেরেছিল মূলত, ভারতের জোরালো সমর্থনেই।

তার পর ১৯৮৮ সালে যখন ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ গাজা ও ওয়েস্ট ব্যাঙ্ককে দখলমুক্ত করার জন্য ইজরাইলের বিরুদ্ধে প্রথম বার ‘ইন্তিফাদা’ শুরু হল পিএলও নেতা ইয়াসির আরাফতের নেতৃত্বে, তখন তাকে পুরোদস্তুর সমর্থন করে গিয়েছে ভারত। ওই সময় দিল্লিতে এলে আরাফতকে সাদর অভ্যর্থনা জানান ভারতের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
কিন্তু গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ইজরাইল সফরের পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, প্যালেস্টাইনের প্রতি এত দিনের অবস্থানে কি আর থাকবে ভারত?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল আবিব থেকে ইজরাইলের মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ভারতের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছিল, গত এক বছরে আমেরিকা ও ইজরাইলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ‘সুমধুর’ হয়ে ওঠায়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে যে প্রস্তাব গৃহীত হয় জাতিসংঘে, তাতে ১২৭টি দেশের সঙ্গে ভারতও ভোট দেয় আমেরিকার বিরুদ্ধে। যা আসলে ইজরাইলেরও বিপক্ষে যায়। কারণ, পূর্ব জেরুজালেমকে প্যালেস্টাইনের রাজধানী করার দাবি বরাবরই জানিয়ে আসছে আরব দেশগুলো। ইজরাইল তা মানতে চায়নি বলেই ’৬৭-তে হয় আরব-ইজরাইল যুদ্ধ।

দিল্লি যে ইজরাইল ও প্যালেস্টাইন, দুই দেশের মধ্যেই ভারসাম্য বজায় রেখে চলবে, তার জোরালো ইঙ্গিত দিতে জানুয়ারিতে ইজরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ভারত সফরের সময়েই দিল্লির তরফে ঘোষণা করা হয়, ফেব্রুয়ারিতে প্যালেস্টাইন সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog