1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন

মমতার সম্মতি ছাড়া তিস্তাচুক্তিতে রাজি নয় ভারত: সুষমা

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ মে, ২০১৮
  • ৮৫ বার

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতি ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করতে রাজি নয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

সোমবার নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

এ সময় জানতে চাওয়া হয়, শান্তিনিকেতনের বাংলাদেশ ভবনে নরেন্দ্র মোদি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আধঘণ্টার একান্ত বৈঠকে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে দুই দেশের জট কাটানো সম্ভব হয়েছে কিনা?

এর জবাবে সুষমা বলেন, তিস্তার পানিবণ্টন প্রস্তাব শুধু দুই দেশের সরকারের মধ্যে হতে পারে না। কারণ পশ্চিমবঙ্গ সরকার এক্ষেত্রে বড় শেয়ারহোল্ডার। তাই মমতাকে বাদ দিয়ে এটি করা কখনই সম্ভব নয়।

এ সময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে সঙ্গে না নিলে কীভাবে তিস্তাচুক্তির অগ্রগতি হবে? পানি তো পশ্চিমবঙ্গ থেকেই বাংলাদেশে যাবে।

পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ২৫ মে শেখ হাসিনা ও মোদির মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ ছাড়া পর দিন শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই নেত্রীর মধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নানা কথা হলেও এতে তিস্তাচুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়নি।

সোমবার দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে সুষমা স্বরাজ বলেন, মমতাকে ছাড়া তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে কোনো কথা এগোবে না।

প্রসঙ্গত ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংহের ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তিস্তাচুক্তি হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির মুখে তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি জটে আটকা পড়ে যায়।

এর পর ২০১৪ সালে ক্ষমতায় পরের বছর ঢাকা সফরে এসে নরেন্দ্র মোদি তার সরকারের সময়েই তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আশাবাদের কথা জানিয়ে ছিলেন। এর পর গত তিন বছরেও তিস্তার জটো খোলেনি।

সাংবাদিকরা বিষয়টি উল্লেখ করলে সুষমা বলেন, আমাদের সরকারের হাতে এখনও এক বছর সময় আছে। তাই এখনই এ চুক্তি বাস্তবায়নে আমরা ব্যর্থ হয়েছি তা বলার সময় আসেনি।

২০১১ সালে তিস্তাচুক্তির যে খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছিল, তাতে ভারতের উত্তরবঙ্গের চাষিরা বিপদে পড়বেন বলে দাবি করে আসছেন মমতা। এ কারণে তিস্তা প্রস্তাবের বিকল্প হিসেবে অন্য তিনটি নদীর পানি বাংলাদেশকে দেয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।

বিষয়টি উল্লেখ করে সুষমা বলেন, এর আগে যখন শেখ হাসিনা এসেছিলেন, তখন তিনি (মমতা) এক বিকল্প সমাধান দিয়েছিলেন। তিনটি অন্য নদী থেকে বাংলাদেশকে পানি দেয়ার কথা বলা হয়েছে সেই প্রস্তাবে। এই বিকল্প প্রস্তাব কেন্দ্র ও রাজ্যের বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখছেন। তবে তার চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও দিল্লির হাতে আসেনি।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী শরণার্থী প্রত্যাবাসন হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, আমি দুপক্ষের সঙ্গে আলাপে জেনে সন্তুষ্ট হয়েছি যে, বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মাঝে একটি সমঝোতা হয়েছে। এতে সময় সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে যে দুই বছরের মধ্যে এই রিপ্যাট্রিয়েশন শেষ করা হবে।

সুষমা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারের নেত্রী আন সাং সু চির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি সু চির কাছ থেকে তালিকা পেয়েছি, পরে যা গণমাধ্যমেও এসেছে, ১২২২ লোককে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ভেরিফাই করে বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছে। তারা এদের ফেরত নিতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, একে বেবিস্টেপ বলা যেতে পারে, সফলতার প্রথম পদক্ষেপ। সমঝোতার পরে ১২২২ জনকে ফেরত নেওয়া হচ্ছে। আমি মনে করি, দুই দেশ আন্তরিকতার সঙ্গে সমঝোতা করলে এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান অবশ্যই হবে।

মিয়ানমার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নিতে চাইছে না বলে সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক উল্লেখ করলে জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা বলেন, আপনি যে বললেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে অস্বীকার করেছে, তা সম্পূর্ণ ভুল।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog