1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:১৩ অপরাহ্ন

জীবনে যা হতে চেয়েছিলেন সেটা কি পূরণ হয়েছে?

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১ অক্টোবর, ২০১৮
  • ১৫৫ বার

কর্মজীবন নিয়ে যে লক্ষ্য বা আকাঙ্ক্ষা থাকে সেটার সঙ্গে বাস্তবতার কতোটা মিল বা অমিল রয়েছে? জীবনের এক পর্যায়ে সেটা কতোটুকু পূরণ হয়? এমন প্রশ্ন প্রতিটা কর্মস্পৃহা মানুষের মধ্যেই ঘুরপাক খায়।

তবে বাস্তবে দেখা যায় বেশিরভাগ মানুষ হয়তো জীবনে অন্য কোন পেশায় নিজেকে জড়াতে চাইলেও এখন কাজ করছেন দোকানের বিক্রয় সহকারী বা সেলস অ্যাসিসট্যান্ট হিসেবে।

এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর- ওএনএস একটি গবেষণা পরিচালনা করে। ২০১১ সালে এক দল তরুণ-তরুণীর কাছে প্রশ্ন রাখা হয় যে তারা ভবিষ্যতে কি ধরণের ক্যারিয়ার বা পেশা বেছে নিতে চায়?

তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ডাক্তার, নার্স, শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ, দমকলকর্মী, না হয় অভিনেতা হতে চেয়েছিলেন। এর ঠিক ছয় বছর পর অর্থাৎ ২০১৭ সালে সেই তরুণ তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওএনএস।

দেখা যায় যে এই ছয় বছর পর তারা যে জীবন কাটাচ্ছে সেই বাস্তবতার সঙ্গে তাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়ে গেছে বিশাল ব্যবধান।

কি হতে চেয়েছেন আর কি হয়েছেন?
যারা শিক্ষক হতে চেয়েছিলেন তাদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছেন। এই লক্ষ্য পূরণের হার শতাংশের হিসেবে ২% এরও কম।

আর বাকিরা যারা অন্য পেশায় নিজেদের জড়াতে চেয়েছেন তারা এখন কাজ করছেন বিক্রয় সহযোগী, নাহলে বিক্রয় বা বিপণন তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে।

সেইসঙ্গে তারা ছয় বছর আগে, আজকের এই পর্যায়ে এসে যে পরিমাণ আয় করবেন বলে প্রত্যাশা করেছিলেন। বাস্তবে তার চেয়ে অনেক কম উপার্জন করছেন। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার আশা করেছিলেন। তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন।

স্বপ্ন আর বাস্তবতায় ব্যবধান কতোটা?
ওএনএস এই গবেষণা পরিচালনার সময় ১৬ থেকে ২১ বছর বয়সীদের জিজ্ঞাসা করেছিল যে তারা তাদের কর্মজীবনে কী হতে চায়?

তাদের অগ্রাধিকার ছিল এমন কোন চাকরি করা যেটা কিনা ‘আকর্ষণীয়’, ‘নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ’ এবং যে কাজ করার পরও পরিবার ও বন্ধুবান্ধবকে সময় দেয়া যাবে।

বাস্তবে ৫০ জনের মধ্যে একজনেরও কম সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট পেশায়, যেখানে ৩০ বছর বয়সে আয় থাকে সাধারণত ২৪ হাজার পাউন্ড।

অথচ তারা এমন কোন পেশায় যেতে চেয়েছিল যেটা কিনা একইসঙ্গে আকর্ষনীয়, জনপ্রিয় আর সৃজনশীল। যেমন চলচ্চিত্র বা টেলিভিশনের অভিনেতা হওয়া অথবা এমন কোন কাজ যার মাধ্যমে তারা জনসাধারণের উপকার করতে পারবে।

সেটা হতে পারে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট কিছু, জরুরি সেবাদান বা পুলিশের চাকরি। শিক্ষকতা পেশার প্রতিও তরুণ তরুণীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। প্রতি ২০ জনের একজন নিজেদের শিক্ষা ক্ষেত্রে কাজ করতে চেয়েছিল।

অন্যান্য জনপ্রিয় পেশার চাইতে একমাত্র এই শিক্ষা ক্ষেত্রেই তুলনামূলক বেশি সংখ্যক তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছেন।

কেননা শিক্ষা ছিল কর্মসংস্থানের অন্যতম বড় উৎস এবং পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বাস্তবসম্মত হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল।

লক্ষ্য অর্জণের হার:
বেশিরভাগেরই ক্যারিয়ারের স্বপ্ন এবং বাস্তবতার মধ্যে বিশাল পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। যে ১৬ থেকে ২১ বছর বয়সীদের ওপর এই জরিপ চালানো হয়, ছয় বছর পর যখন তাদের বয়স দাঁড়ায় ২২ থেকে ২৭ বছরে। অর্থাৎ যে বয়সে তারা ক্যারিয়ার বেছে নেবে বা ইতোমধ্যে নিয়েছেন।

এই গবেষণা প্রতিবেদনে তরুণ সমাজের আকাঙ্ক্ষিত পেশা ও বাস্তবতার মধ্যে এই তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। সেখান থেকে বোঝা যায়, মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন তাদের আশা পূরণ করতে পেরেছেন।

১। মাত্র ১.৪% মিডিয়া বা শিল্প সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ পেয়েছেন যেমন প্রযোজক, অভিনেতা বা লেখক।
২। মাত্র ১.৭% পুলিশ বা জরুরী পরিষেবাগুলোয় চাকরি করছেন।
৩। মাত্র ১.৭% স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, যেমন দন্ত চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্ট হতে পেরেছেন।

বাস্তবে যেসব কাজে যোগ দিয়েছেন:
২০ বছর বয়সের মাথায় বেশিরভাগ তরুণ তরুণী বাস্তবে যেসব কাজে যোগ দিয়েছেন সেগুলো হল:

১। সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ক্যাশিয়ার।
২। কেয়ারিং এবং ব্যক্তিগত সেবা
৩। শিক্ষকতা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট পেশা।
৪। বিক্রয় এবং বিপণন
৫। প্রশাসন
৬। তথ্যপ্রযুক্তি
৭। শিশু সেবা
৮। আর্থিক প্রতিষ্ঠান
৯। ‘অন্যান্য প্রাথমিক সেবা’

এই বয়সীদের মধ্যে এই বড় অংশের তথ্যপ্রযুক্তি বা পরিসেবা খাতে কাজ করার আগ্রহ দেখা গেছে যেখানে কিনা নির্মাণ শিল্পে তাদের কাজ করার আগ্রহ কমে গিয়েছিল।

হতাশার কারণ:
তবে বার্ষিক জনসংখ্যা জরিপ এবং সামাজিক জরিপের উপর ভিত্তি করে ওএনএস যে গবেষণা পরিচালনা করেছে তাতে দেখা যায় যে, তরুণ প্রজন্মের বেশিরভাগকে বেতনের কারণে হতাশার মুখে পড়তে হয়েছে।

প্রতি ২০ জনের মধ্যে মাত্র একজন তাদের ৩০ বছর বয়সে ৮০ হাজার পাউন্ড উপার্জনের আশা করলেও গবেষণায় দেখা যায় যে বাস্তবে তাদের গড় আয় ২৪ হাজার পাউন্ডেরও কম।

শিক্ষা ও নিয়োগকর্তা ক্যারিয়ার চ্যারিটির প্রধান নির্বাহী নিক চেম্বারস জানান, তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা বা লক্ষ্যগুলো প্রায়ই হাতে গোনা পেশাকে ঘিরে সীমাবদ্ধ থাকে, মূলত যেগুলোর ব্যাপারে তাদের স্পষ্ট ধারণা রয়েছে।

যেমন তারা স্কুলে শিক্ষকদের দেখে শিক্ষক হতে চেয়েছে, টেলিভিশনের পর্দায় তারা নানা ধরণের কাজ করতে দেখে অভিনেতা বা নির্মাতা হওয়ার আশা জেগেছে। অথবা তাদের পরিবার বা বন্ধুমহল যেসব কাজে নিয়োজিত আছেন তার কোন একটার প্রতি আগ্রহ জন্মেছে।

এটি সামাজিক গতিশীলতায় একটি বাধা হতে পারে বলে মনে করেন চেম্বারস। তিনি বলেন, ‘আপনি যা হতে চান সেটার কোন ছবি যদিআপনি দেখতে না পান তবে আপনি সেটা হতে পারবেন না’।

তরুণ প্রজন্ম যেসব চাকরি সম্পর্কে ধারণা রাখে তারসঙ্গে চাকরির বাজারের বাস্তবতার বড় ধরণের অমিল রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog