1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৬:৫২ অপরাহ্ন

তিন মেয়েই ভাগ্য ঘুরিয়েছে পরিবারের

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৯০ বার

তৌহিদুল ইসলামের তিন মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে অভাবের সংসার। অভাব অনটনের কারণে তিন বছর আগেও দিশেহারা ছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এই ব্যক্তি। কিভাবে পরিবারের ৬ সদস্যের মুখে দু’বেলা দু-মুঠো খাবার তুলে দেবেন আর কিভাবেইবা মেয়েদের বিয়ে দেবেন। এই চিন্তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি।

কিন্তু সুতা দিয়ে বোতাম তৈরি করে এখন ভাগ্য ঘুরিয়েছেন তার তিন মেয়ে। পাশাপাশি নিজেরা লেখাপড়া করে হচ্ছে শিক্ষিত। বড় মেয়ে শুভা আক্তার অনার্স ও বাকি তিন ছেলে-মেয়ে পড়ছেন হাইস্কুলে।

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার প্রত্যন্ত হাওর অঞ্চলের গ্রাম দৌলতপুরের বাসিন্দা তৈহিদুল ইসলাম। হবিগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রামে যাতায়াত ব্যবস্থাও তেমন ভালো না।

শুধু তৈহিদুল ইসলামের পরিবারই নয়, সুতা দিয়ে বোতাম তৈরি করে ওই গ্রামের অন্তত ৫শ’ পরিবারের হাল ধরেছেন নারীরাই। পাশাপাশি লেখাপড়া করে নিজেরাও হচ্ছে শিক্ষিত। স্বপ্ন দেখছেন দেশের জন্য বিশাল কিছু করার।

তাদের তৈরি করা বোতাম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুবাইয়ে। এখানে তৈরিকৃত বোতামের গুণগতমান ভালো ও দাম কম হওয়ায় দুবাইয়ে এর চাহিদা অনেক বেশি। তবে তাদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সেগুলো দূর করলে আরও ভালো করতে পারবেন বলে দাবি উদ্যোক্তাদের।

তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একসময় দৌলতপুর গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই অস্বচ্ছল ছিল। চার বছর আগে দুবাই প্রবাসীদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় সুতা দিয়ে বোতাম তৈরি করতে শুরু করেন ওই গ্রামের নারীরা। গৃহস্থলি কাজের পাশাপাশি তারা দিনে অন্তত একশ’ থেকে দেড়শ’ বোতাম তৈরি করতে পারেন। সেই সাথে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও লেখাপাড়ার পাশাপাশি দিনে ৫০ থেকে ৭০টি বোতাম তৈরি করতে পারেন।

প্রতি পিস বোতাম বিক্রি হয় এক টাকা করে। সেই হিসেবে একজন নারী মাসে অন্তত ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। আর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকার বোতাম তৈরি করতে পারে।

এ ব্যাপারে তৈহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার তিন মেয়ে বোতাম তৈরি করে সংসারের হাল ধরেছে। এখন আমি এখন ভালো চলছি। তবে বোতাম তৈরি ও রপ্তানি করতে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। সরকারি উদ্যোগে উন্নত প্রশিক্ষণ ও স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করলে অনেক ভালো হত।’

কলেজছাত্রী শুভা আক্তার বলেন, ‘আমরা তিন বোন এক ভাই। গরিব বাবার পক্ষে আমাদের ভরণ-পোষণ দেয়াই কঠিন ছিল এক সময়। কিন্তু সুতা দিয়ে বোতাম তৈরি করে এখন আমরা অনেক ভালো চলছি।’

তিনি বলেন, ‘বোতাম তৈরির সুতা বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। যারা বিদেশ থাকেন তারা আমাদেরকে সুতা পাঠান। যদি সরকার আমাদেরকে সুতা এনে দেয়ার ব্যবস্থা করত তাহলে আমরা আরও লাভবান হতাম।’

আরেক কলেজছাত্রী কিউবা আক্তার বলেন, ‘কলেজ থেকে এসে বোতাম তৈরি করতে বসলে ৫০/৭০টি বোতাম তৈরি করতে পারি। ফলে লেখাপড়ার পাশাপাশি মাসে ২/৩ হাজার টাকা আয় হয় আমাদের। এছাড়াও আমার অন্যান্য ভাই-বোনেরাও বোতাম তৈরি করে এখন আমরা ভালো চলছি।’

তিনি বলেন, সরকার যদি আমাদেরকে কিছু সহযোগিতা করত, তাহলে আমরা আরও ভালো করতে পারতাম। উন্নত প্রশিক্ষণসহ স্বল্প সুদে ঋণ দিলে এ কাজ করেই আমরা অনেক উন্নতি করতে পারতাম।

সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও বাজার কমিটির সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, বোতাম তৈরিতে তাদের অনেক সমস্যা রয়েছে। যেমন- কোন প্রশিক্ষণ না পাওয়ার কারণে অনেক সময় কিছু কিছু বোতাম নষ্ট হয়ে যায়। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাই তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, বোতামের সুতাগুলো দেশের বাহির থেকে আনতে হয়। এ সময় ঢাকা এয়াপোর্টে বিভিন্ন হয়রানীর শিকার হতে হয়। এক্ষেত্রে সরকার যদি সুতা আমদানিসহ এয়াপোর্টের হয়রানী বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেয় তাহলে অনেক ভালো হয়। পাশাপাশি আরামদায়কভাবে কাজ করার জন্য গ্রামে একটি সেন্টার খোলে দিলে আরও ভালো হয়।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ বিসিক শিল্প নগরীর প্রটোকল অফিসার মো. নাজমুল হোসাইন বলেন, যে কোন উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি ঋণের ব্যাস্থা রয়েছে। উদ্যোক্তারা আবেদন করলে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রশিক্ষণ ও ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

 

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog