1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০২:২০ অপরাহ্ন

দিনাজপুরে আগাম জাতের আলুচাষিরা লোকসানের শঙ্কায়

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১০৭ বার

ঠান্ডা বাতাস আর ঘন কুয়াশার কারণে আগাম জাতের আলুর পচন ও গাছ মরে যাওয়ায় দিনাজপুরের বেশিরভাগ আলুচাষি চরম বিপাকে পড়েছেন। আগাম জাতের আলুর ফলন কম হওয়ায় চাষের খরচ উঠবে কিনা এ নিয়ে দুশ্চিতায় রয়েছেন তারা। বর্তমান বাজারে আলুর দাম ভাল থাকলেও ফলন কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় চাষিরা।

দিনাজপুরের জমি আলু চাষের জন্য উর্বর হওয়ায় প্রতিবছর এই জেলায় আগাম ও নমলা জাতের আলুর চাষ করে অনেকেই লাভবান হন। কিন্তু এ বছর নতুন আলুর দাম ভাল থাকলেও ফলন কম হওয়ায় ক্ষতি না হলেও তেমন বেশি লাভবান হতে পারছেননা আলু চাষিরা।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১ হাজার ৭৯০ হেক্টর। এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৪০ হাজার ৬৪ হেক্টর জমির আলু। তবে আগাম জাতের আলু কত হেক্টর জমিতে লাগানো হয়েছে সেই তথ্য দিতে পারেনি কৃষি অধিদপ্তর।

আগাম জাতের আলু চাষ করেছেন দিনাজপুর বিরলের মাঝাডাঙ্গার গনেশ চন্দ্র রায়। তিনি জানান, গত বছর ৩৩ শতক জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ করে ২২ বস্তা আলু পেয়েছিলেন। এবার সেই জমিতেই আগাম জাতের আলু চাষ করে পাওয়া গেছে মাত্র ১৩ বস্তা।

একই এলাকার গোলাম মোস্তাফা বলেন, এখন এক মণ আলু বাজার মূল্য ৭৫০ টাকা থেকে ৮ শ টাকা। এই বাজার থাকলে একজন আলু চাষি তেমন লাভবান হবেন না। তিনি আরোও বলেন, এ বছর তিন বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকারও বেশি। অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে আলু গাছ মরে যাচ্ছে এবং আলুর পচন ধরতে শুরু করেছে।

দিনাজপুর সদরের দক্ষিণ কোতোয়ালি কসবা গ্রামের আলুচাষি মফিজুল ইসলাম জানান, আমি দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। গতবার আগাম আলুর দাম বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু এবার বাজারে পুরনো আলু থাকায় নতুন আলু প্রতি কেজি ১৫ থেকে ১৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি আলু ফলাতেই খরচ পড়ে ১৫ টাকার বেশি। আগাম আলুর ফলন কম হয়, আবার দামও যদি কম হয় তাহলে লোকসান হবেই।

খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের কৃষক আবদুস সামাদ দেড় বিঘা, রফিকুল ইসলাম পাঁচ বিঘা ও শহিদুল ইসলাম ৩ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছেন। বাজার মন্দার কারণে তারাও হতাশ।

তারা বলেন, এবার বাজার এতটাই খারাপ যে, গতবার যে আলু এই সময় ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি, সেই আলু বর্তমান সময়ে ১৫ টাকা বা তারও কম দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

অন্য বছর এ সময়ে বাইরের ব্যবসায়ীরা এলাকায় এসে আলু নিয়ে যেতেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। কিন্তু এবার বাজার মন্দার কারণে বাইরের ব্যবসায়ীরা আসছেন না। তাই এলাকার ব্যবসায়ীদের বেঁধে দেওয়া দামে আলু বিক্রি হচ্ছে। ওই দামে আলুর উৎপাদন খরচও উঠছে না।

দিনাজপুরের আগাম আলু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবসায়ীরা নিয়ে যান। কিন্তু এবার শীত আর আবহাওয়া খারাপ থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরাও আসছেন না বলে জানিয়েছেন অনেকে ব্যবসায়ী।

বাহাদুর বাজারের আলু ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, আমরা প্রতি বছর নতুন আলু ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যাই। ওই এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমাদের আগে থেকেই কথা থাকে কত ট্রাক আলু নিয়ে যাব। কিন্তু এবার তেমন ব্যবসায়ী পাইনি। তাই বাইরে খুব একটা আলুও নিয়ে যেতে পারিনি।

দিনাজপুর বাহাদুর কাঁচা বাজারের আলুচাষি রেজাউল করিম বাবলু জানান, আজ সাড়ে ৭শ কেজি আলু বাহাদুর বাজারে নিয়ে আসছি। আমার আলু ক্রয় আর ভ্যান ভাড়াসহ এক কেজি আলুর দাম পড়ে গেছে ২৩ টাকা কেজি। আজ আমি নিজেই ২৩ টা কেজি ধরে অন্য পাইকারের নিকট বিক্রি করে গেলাম। শুধু মাত্র আমার আলুর ব্যবসায় আমার টাকা বদল হল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ তৌহিদুল ইকবাল বলেন, কৃষকেরা প্রথমে প্রতি কেজি আলু ৩০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি করতে পেরেছেন। এখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় আগাম আলু ওঠায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, এ কারণে দাম কিছুটা কমেছে। এ ছাড়া বাজারে পুরোনো আলু রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ বছর কৃষকরা আলুর বীজ বেশি দরে কেনায় খরচ বেশি হয়েছে। তবে আলুর দামটা আরেকটু বেশি থাকলে কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়ত না।

 

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog