1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৭:০২ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘পতনের’ বছর ২০১৯

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৬৭ বার

দেখতে দেখতে ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে আরো একটি বছর শেষ হতে চললো। শেষ হতে চলা বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে ঘটেছে নানা ঘটনা। ২০২০ কে স্বাগতম বলার আগে একবার পেছন ফিরে তাকানো যাক। কেমন ছিল ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট। এই বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে মূল্যায়ন করতে ঠিক সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যাবেনা। কারণ এই বছরটিতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের গ্রাফ ছিল উঠানামার মধ্যেই। তারপরেও সংখ্যার হিসেবে বলতে গেলে বলা যায়, ২০১৯ সালে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি মিলে মোট ৩০টা ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ দল। যার মধ্যে ১১টিতে জিতেছে, হেরেছে ১৯টি।

টেস্ট ক্রিকেটে এই বছরটা বাংলাদেশ পার করেছে কোনপ্রকার জয় কিংবা ড্র ছাড়া। এই বছরে সাদা পোশাকে পাঁচটি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে পাঁচটিতেই হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে। একমাত্র আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ইনিংস ব্যবধানে হার এড়িয়েছে বাংলাদেশ। এটাই বাংলাদেশের একমাত্র অর্জন।

ওয়ানডে ক্রিকেটে এই বছরে বাংলাদেশ খেলেছে ১৮টি ওয়ানডে। এর মধ্যে ৭টিতে জয় ও পরাজয় হয়েছে ১১টি ম্যাচে। টি-টোয়েন্টিতে পারফরম্যান্স একটু ভালো। ৭টি ম্যাচ খেলে ৪ জয় ও ৩ পরাজয়।

টেস্টে বাংলাদেশের পরাজয়ের শুরুটা হয়েছিল নিউজিল্যান্ডে। ফেব্রুয়ারিতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম দুটিতে লজ্জার হারের পর তৃতীয় টেস্ট পরিত্যক্ত হয় সেই ভয়াবহ ক্রাইস্টচার্চ হামলার পর। এরপর লম্বা বিরতির পর বছরের মাঝামাঝিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে লজ্জার পরাজয় বরণ করে ২০ বছর ধরে টেস্ট খেলুড়ে দলটি।

বছরের শেষ দিকে নভেম্বরে ভারত সফরে দিবারাত্রির টেস্টসহ দুটি টেস্টেই আবারো ইনিংস ব্যবধান দিয়ে সমাপ্তি টানে এই বছরের টেস্ট খেলার। প্রতি বছরের মতো এ বছরেও টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট সমর্থকদের বেশি আশা ছিল না। তবে এমন হতশ্রী পারফরমেন্সের পর টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে হয়েছে আরো একবার।

এই বছরে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান তুলেছেন মাহামুদউল্লাহ্‌ রিয়াদ। পাঁচ ম্যাচের ১০ ইনিংসে ব্যাট করে তার সংগ্রহ ৩৩২। সর্বোচ্চ ১৪৬। গড় ৩৬ করে। একটি শতক এবং অর্ধশতকের সংখ্যা একটি। বল হাতে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন পেসার আবু জায়েদ রাহি এবং স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দুজনই ৪ ম্যাচে ৯ টি করে উইকেট নিয়েছেন। তবে তাইজুলের থেকে অনেক কম ওভার বল করেছেন রাহি।

এবছর টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ থেকে এসেছে তিনটি শতক। তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকারের সাথে মাহামুদউল্লাহ্‌ রিয়াদও পেয়েছেন শতকের দেখা। সব মিলিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে এই বছরটা বাংলাদেশের জন্য লজ্জা-হতাশা আর আক্ষেপের। ছয়টি টেস্ট খেলা দলটি ১ ম্যাচেও পারেনি পরাজয় এড়াতে। সাথে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম দুই ম্যাচেও বরণ করেছে বড় পরাজয়।

ওয়ানডেতেও বাংলাদেশের এবারের পারফরম্যান্স ছিল নিম্নমুখী। বছরের শুরুই হয়েছিল ওয়ানডে সিরিজ হোয়াইটওয়াশের মাধ্যমে। ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তিনটি ম্যাচেই পরাজয় বরণ করে মাশরাফির বাংলাদেশ। তবে বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। আয়ারল্যান্ডের মাটিতে অপরাজিত থেকেই প্রথমবারের মত কোন শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। মে মাসে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ক্যারিবিয়দের ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ শুরু করা বাংলাদেশ ফাইনালেও হারায় একই দলকে। যদিও সেই সিরিজে খর্বশক্তির দল পাঠায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এরপর বাংলাদেশ ইংল্যান্ডে উড়াল দেয় বিশ্বকাপের মিশন নিয়ে। সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। সাকিব-মুশফিকের নৈপুণ্যে বড় জয়ে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিলেও পরের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজিত হয় টাইগাররা। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষের ম্যাচটি পরিত্যক্ত এবং জয়ের দেখা পায় তিনটি ম্যাচে। বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচ খেলে ৫টিতেই পরাজয় বরণ করে মাশরাফিরা। বাংলাদেশ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সমাপ্তি টানে টেবিলের অষ্টম স্থানে থেকে।

বিশ্বকাপের ব্যর্থতা শেষে দেশে ফিরে কোচ ছাড়াই বাংলাদেশ রওনা দেয় শ্রীলঙ্কা সফরের উদ্দেশ্যে। সাকিবের বিশ্রাম ও ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিমের নেতৃত্ব শ্রীলঙ্কায় ধবলধোলাই হয় টিম বাংলাদেশ। তাই চলতি বছরের পারফরম্যান্স হিসেব করলে গত বছরের তুলনায় সাফল্যের হার কমেছে বাংলাদেশের।

চলতি বছর ৫০ ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন মুশফিকুর রহমান। ১৮ ইনিংসে মুশফিকের সংগ্রহ ৭৫৪ রান। ১ শতক এবং ৫ অর্ধশতকে সর্বোচ্চ স্কোর ১০২ রান। পঞ্চাশের উপরে গড় থাকা মুশফিকের পরেই রয়েছেন সাকিব। যদিও মাত্র ১১ ইনিংস খেলেছেন এই অলরাউন্ডার। সাকিবের গড় ঈর্ষনীয়। সর্বোচ্চ ৯৩ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ৭৪৬ রান! সর্বোচ্চ ১২৪, তাও বিশ্বকাপে।

চলতি বছর ফর্ম না থাকলেও বাংলাদেশের হয়ে সফল বোলার মোস্তাফিজুর রহমান। বাজে বছর পার করার পরেও কাটার মাস্টার ১৬ ম্যাচ খেলে দেশিয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং আন্তর্জাতিকভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ- মোট ৩৪ টি উইকেট নিয়েছেন। দুইবার পেয়েছেন পাঁচ উইকেটের দেখা। তবে রান খরচ করেছেন ওভারপ্রতি প্রায় সাতের কাছাকাছি।

ওয়ানডে ও টেস্ট বিবেচনায় এবছর টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স একটু ভালো। ৭টি ম্যাচ খেলে জয় এসেছে ৪ ম্যাচে ও পরাজয় ৩ ম্যাচে। বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি খেলেছে এবছরের শেষের দিকে। সেপ্টেম্বরে জিম্বাবুয়ের সাথে ২ ম্যাচ খেলে ২টিতেই জয় পেয়েছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২টি খেলে জয় মিলেছে ১টিতে। বছরের শেষদিকে নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে জয় দিয়ে শুরু করা বাংলাদেশ হেরেছে পরের দুই ম্যাচেও।

 

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog