1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০২:০৩ অপরাহ্ন

টেলিফোনের প্রতি অনীহা ছিল সুচিত্রা সেনের

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১১৬ বার

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক কিংবদন্তি অভিনেত্রীর নাম সুচিত্রা সেন। ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রেসিডেন্সির (অধুনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অন্তর্গত সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানার অন্তর্গত সেন ভাঙ্গাবাড়ী গ্রাম সুচিত্রা সেনের পৈত্রিক নিবাস।) পাবনা জেলার সদর পাবনায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই কিংবদন্তি। তার বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন এক স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মা ইন্দিরা দেবী ছিলেন গৃহবধূ। তিনি ছিলেন পরিবারের পঞ্চম সন্তান ও তৃতীয় কন্যা। পাবনা শহরেই তিনি পড়াশোনা করেছিলেন। তার আরেকটি পরিচয় হলো, তিনি ছিলেন কবি রজনীকান্ত সেনের নাতনী।

সুচিত্রা সেনের প্রকৃত নাম ছিল রমা দাশগুপ্ত। বর্তমানে পাবনার হিমসাগর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মহানায়িকা সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা। সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে এই সংগ্রহশালা দারুণ দর্শনীয় একটি জায়গা।

সেখানে তার স্মৃতিবিজড়িত সংগ্রহশালা দেখতে গিয়ে লক্ষ্য করা যায়, তার এই সংগ্রহশালায় রয়েছে তার বিভভিন সময়ের ছবির মূহুর্ত যা ফ্রেমে বাঁধাই করা। তার পুরস্কার সমগ্র, তার আবক্ষ মূর্তি, তার স্মৃতস্তম্ভ। এছাড়াও ফ্রেম ও ফেস্টুনে বাঁধাই করা রয়েছে তার বিভিন্ন সময়ে বলা উল্লেখযোগ্য কথা।

টেলিফোনের প্রতি অনীহা ছিল এই মহানায়িকার। একটি ফ্রেমে দেখা যায়, সেই কথারই একটা অংশ। সেখানে লিখা রয়েছে, তিনি কখনও টেলিফোন ধরতে চাইতেন না। একেবারে কেউ হাতের কাছে না থাকলে, রিসিভার তুলে নিজের সহজাত কন্ঠকে কিছুটা বিকৃত করে জবাব দেন, একেবারে আপন মানুষ না হলে, নিজেই বলে দেন, উনি একটু বেরিয়েছেন অথবা ঘুমিয়ে আছেন। পরে ফোন করবেন। কারণ জানতে চাইলে রমা (সুচিত্রা সেন) বলতেন, ‘কত কথা বলবো বল? দিনরাত মিলে কমপক্ষে একশ ফোন আসবে। এক মিনিট করে কথা বললেও একশ মিনিট কথা বলতে হবে।’

১৯৪৭ সালে বিশিষ্ট শিল্পপতি আদিনাথ সেনের পুত্র দিবানাথ সেনের সঙ্গে সুচিত্রা সেনের বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র কন্যা মুনমুন সেনও একজন খ্যাতনামা অভিনেত্রী। তার দুই নাতনী রিয়া সেন ও রাইমা সেনও অভিনেত্রী। ১৯৫২ সালে শেষ কোথায় ছবির মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় কিন্তু তার অভিনীত প্রথম ছবিটি মুক্তি পায়নি।

উত্তম কুমারের বিপরীতে সাড়ে চুয়াত্তর ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। ছবিটি বক্স-অফিসে সাফল্য লাভ করে এবং উত্তম-সুচিত্রা জুটি আজও স্মরণীয় হয়ে আছে। বাংলা ছবির এই অবিসংবাদিত জুটি পরবর্তী ২০ বছরে ছিলেন আইকন স্বরূপ।

বাংলাদেশে এই মহানায়িকার জন্মভিটা দীর্ঘকাল অবহেলিত ও বেদখল হয়ে ছিল। ২০১৭ সালে প্রশাসনের উদ্যোগে সুচিত্রা সেনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি উদ্ধার করা হয়। এখানে প্রতিষ্ঠিত হয় সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা।

বর্তমানে এই সংগ্রহশালার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রুবেল। রুবেল বলেন, দখলমুক্ত হওয়ার পর ২০১৭ সালে মহানায়িকার বাড়িতে তার স্মৃতি সংগ্রহশালা স্থাপন করে পাবনা জেলা প্রশাসন। সরকার এখানে একটি চলচ্চিত্র আর্কাইভ এবং একটি লাইব্রেরি করার পরিকল্পনা করেছে।

 

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog