1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:০০ অপরাহ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২০
  • ১২৯ বার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে কয়েকদিন থেকে বেড়েই চলছে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। রোটা ভাইরাস ও ঠাণ্ডাজনিত কারণে বেড়েছে এই ডায়রিয়া রোগী। জেলা সিভিল সার্জন রোটা ভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য সবাইকে সাবধান থাকা ও গরম পোশাক পড়ার পরার্মশ দেন।

এদিকে রোগী বেশি হওয়ায় বেড না পেয়ে হাসপাতালের মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছে অনেকেই। আর বাড়তি রোগীর কারণে হিমশিম খাচ্ছেন শিশু ওয়ার্ডের ডাক্তার ও নার্সরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে গত কয়েকদিন থেকে রোটা ভাইরাস ও ঠাণ্ডাজনিত কারণে প্রায় ৪০০ শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। প্রতিদিন ৪০-৫০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালটিতে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত বেড না থাকায় এবং একই বেডে ২/৩ জন রোগী থাকায় হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা।

চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর অভিভাবক রোজিনা বেগম বলছেন, হঠাৎ করেই পাতলা পায়খানা বা বমি শুরু হয় রোগীর। পরে হাসপাতালে ভর্তিও হয়। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে কিছুটা ভাল হয়েছে, কিন্তু বমি থামলেও থামেনি ডায়রিয়া।

রহিমা বেগম বলছেন, গত ৪ দিন ধরে ডায়রিয়ার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু ডাক্তাররা বলছেন ভাইরাসের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। ওষুধ দিলেও এখন কোনভাবে ভাল হচ্ছে না।

আনোয়ার হোসেন বলছেন, গত এক সপ্তাহে ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছে আমার মেয়ে। কিন্তু হাতপাতাল থেকে কিছু ওষুধ দিলেও অধিকাংশ ওধুষ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

সানজিদা বেগম বলছেন, গত রাত ২টার পর থেকে আমার ছেলের পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হয়। সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এখান থেকে ওষুধ দিয়েছে, আবার বাইরে থেকেও কিনতে বলেছেন ডাক্তাররা।

সারমিন খাতুন বলছেন, বেড না পেয়ে গত ৪ দিন ধরে আমার ছোট ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালের মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বেড না পেয়ে ঠাণ্ডার মধ্যে মেঝেতে অসুস্থ্ হয়ে পড়ছে আমার ছেলে ও আমার মতো অনেকেই।

বিশেষ করে শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডগুলোতে পর্যাপ্ত বেডের ব্যবস্থা করা দরকার। তা না হলে সুস্থ হতে এসে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছে রোগী ও রোগীর স্বজনরা।

জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) মাহফুজ রায়হান বলছেন, গত এক সপ্তাহে শিশুদের ডায়রিয়ার হারটা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন জরুরি বিভাগের মাধ্যমে ৫০ জনের বেশি শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হচ্ছে।

তিনি বলেন, সদর হাসপাতালে একজন শিশু ডাক্তার হওয়ায় বাড়তি রোগীর কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে আমাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডের নার্সরা এ বিষয়ে বড় ধরনের ভূমিকা রেখে চলছেন।

এদিকে জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, শীতকালে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ার প্রকোশ দেখা যায়। রোটা ভাইরাস শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। রোটা ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে সাবধানতা অবলম্বন, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন খাবার খাওয়া দরকার।

তিনি আরও বলেন, রোটা ভাইরাসের কারণে ডায়রিয়া হলে কোন ভয়ের কারণ নেই। স্যালাইন পানি ও স্বাভাবিক খাবার খেলে তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে ভাল হয়ে যাবে ডায়রিয়া রোগী। শীতকালে রোটা ভাইরাস ডায়রিয়া বাড়ে। এ ব্যাপারে সবাইকে সর্তক থাকা ও গরম পোশাক পড়ার পরার্মশ দেন তিনি।

 

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog