1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন

স্বপ্ন আমার ‘প্লে-ব্যাক’: তিন্নি

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০
  • ১৩১ বার

গানেই যেন মুগ্ধতা, প্রাণ। ছোটবেলা থেকেই অনেক কিছু করার সুযোগ থাকলেও গানের প্রতি আলাদা টানের কারণে নিজের কণ্ঠে তুলে নিয়েছেন সুর। ২০১৭ সালে ‘ফিজ আপ চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ’ তে অংশ নিয়ে স্থান করে নেন গ্র্যান্ড ফিনালেতে। বিজয়ী না হলেও কণ্ঠের মাধুর্যতায় সকলের মন জয় করে হয়ে উঠেন প্রিয়। বলছি তরুণ গায়িকা কানিজ খাদিজা তিন্নি’র কথা। যার কণ্ঠে সুর উঠলেই যেন একটা অন্যরকম আবেশ তৈরি হয় চারপাশে, শ্রোতাদের মনে।

ছোটবেলা থেকেই গানের হাতেখড়ি। বাবা-মা সংস্কৃতিমনা ছিলেন বলেই নিজেকে গানের সাথে জড়াতে পেরেছেন। অল্প সময়েই শ্রোতাদের কাছে পরিচিত পেয়েছেন মিষ্টি কণ্ঠের এই গায়িকা। স্বপ্ন দেখেন অনেক বড় হবার, শ্রোতাদের মনে আজীবন ঠাই করে নেবার। তবে হুট করে কিছু একটা গেয়ে আলোচনায় আসার পক্ষপাতি নন তিনি, গানের মায়ায় ডুবিয়ে রাখতে চান শ্রোতাদের। সংখ্যায় নয়; গুণে, মানে মুগ্ধতায় আবেশ ছড়িয়ে শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিতে চান তিনি। সেক্ষেত্রে গানের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও সমস্যা নেই।

এরইমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে তার তিনটি মৌলিক গান। নিদয়া নিঠুর, শরৎ আমার স্নিগ্ধতা ও মেঘমালা তিনটি গানেই হয়েছেন প্রশংসিত। এরমধ্যে শাহরিয়ার রাফাতের সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে গাওয়া তিন্নির ‘মেঘমালা’ গানটি জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও মেহজাবীন চৌধুরী অভিনীত ‘বিয়ে’ নাটকেও ব্যবহৃত হয়েছে। গানটির জন্য সর্বমহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি।

এছাড়াও কিংবদন্তি গায়িকা রুনা লায়লার ‘আমার মন বলে তুমি আসবে’ গানটি কাভার করে বেশ প্রশংসিত হন তিনি। তিন্নির অসাধারণ গায়কীতে মুগ্ধ হয়ে তার প্রশংসা করেন উপমহাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সঙ্গীতশিল্পী রুনা লায়লা। শুধু তাই নয়, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের কিংবদন্তি গায়িকা মিতালী মুখার্জির জনপ্রিয় গান ‘সুখ পাখিরে’ একটি বেসরকারি টেলিভিশনের লাইভে গেয়েছিলেন তিন্নি। তিন্নির কণ্ঠে সেই গান শুনে ভূয়সী প্রশংসা করেন গানটির এই মূল শিল্পী।

তিন্নি জানান, একজন তরুণ শিল্পী হিসেবে আমি এখনও শিখছি। সেই শেখার মধ্যেই কিছু গান প্রকাশিত হয়েছে আমার। শ্রোতারা সেগুলো পছন্দ করছেন, এটাই আমার কাছে অনেক। সবার অনেক অনেক শুভেচ্ছা বার্তা ও প্রশংসা পাচ্ছি; যেটা আমার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। সবার ভালবাসা নিয়েই আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই। ঈগল মিউজিকের ব্যানারে ‘মেঘমালা’ গানটি এবার ঈদ উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে। এই গানটি থেকে এখনও অনেক সাড়া পাচ্ছি। সবার এমন ভালোবাসায় আমি কৃতজ্ঞ।

খুব শিগগিরই আরও বেশকিছু নতুন গান নিয়ে হাজির হবেন সুকণ্ঠি এই গায়িকা। এরমধ্যে কিছু মৌলিক গানের কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়াও থাকছে কিছু কাভার গান।

গান নিয়ে স্বপ্ন দেখেন অনেক দূর যাওয়ার। তার মধ্যে ‘প্লে-ব্যাক’ করাটাকেই স্বপ্নের মত দেখছেন। এখনও পর্যন্ত সিনেমায় গাওয়ার কিংবা জিঙ্গেলে করার সুযোগ হয়ে উঠেনি তার। তার ভাষায়, আমার স্বপ্ন ‘প্লে-ব্যাক’ করার; যেটা সবারই থাকে। কিছু শ্রুতিমধুর গান রেখে যেতে চাই যেগুলো শ্রোতারা গুনগুন করে গাইবে। আরেকটা স্বপ্ন আছে সেটা হলো জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার অর্জন করা। তার জন্য এখন থেকেই নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করে তুলছি।

 

একটা সময় যুগ ছিলো ‘অ্যালবাম’র। বলা হয়ে থাকে, অ্যালবাম একজন শিল্পীর পরিচয় বহন করে। সেদিক থেকে নিজের কোন অ্যালবাম না থাকার কারণে খারাপ লাগা কাজ করে কি? তিন্নির ভাষ্য, আসলে গানে আমার পথচলাটা খুব বেশি দিন হয়নি। আর এই সময়টাতে অ্যালবামের প্রচলনও ছিলো না। সময়ের সাথে পরিবর্তন হয়ে এখন সিঙ্গেল বা ইপিতে চলে এসেছে। সবাই এখন সিঙ্গেল ট্র্যাককেই গ্রহণ করছে। একটা খারাপ লাগা তো কাজ করেই যে নিজের একটা অ্যালবাম থাকলে মনে হয় ভালো হতো। তবে আমি এটা নিয়ে চিন্তিত না। সময়ের সাথে সাথে নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। ভবিষ্যতে নিজের জন্য হয়তো বা একটা অ্যালবাম করতে পারি, আপাতত না। এখন ট্রেন্ডের সঙ্গেই শ্রোতাদর্শকদের আনন্দ দিয়ে যেতে চাই।

এখনকার অনেক গানই আগের সময়ের মত শ্রোতাপ্রিয় হচ্ছে না। এক দশক বা দুই দশক আগের অনেক গান এখনও মানুষ গুনগুন করে গাইতে শোনা যায়। শ্রোতাদের মনে গেঁথে থাকার জন্য গানে কোন বিষয়গুলো লক্ষ্য করা উচিত বলে মনে করেন বা এই বিষয়ে মন্তব্য কি? তিন্নি জানান, গান শোনার বিষয়, এখন সেটা দেখারও বিষয় হয়ে গিয়েছে। যার কারণে এখন গানের ভিডিও তৈরি হচ্ছে। আর গান যদি গানের মত হয়, সবকিছু মিলিয়ে পরিপূর্ণ হয় তাহলে সেটা অবশ্যই শ্রোতাদের মনে গেঁথে থাকবে।

আর এর জন্য সময় দিতে হবে। কারণ এখন যে গানগুলো প্রকাশ হচ্ছে সেগুলোর সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে এখন থেকে দশ বছর পর কিংবা তারও পর। তখন যদি এখনকার গানগুলো শ্রোতাদের মুখে মুখে চলে আসে তাহলেই এই গানগুলো স্বার্থক হবে। সবকিছুর জন্য সময় দিতে হয়। এখন গাইলাম আর এখনই জনপ্রিয়তা পাবে এমনটা নাও হতে পারে।

উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের মেয়ে তিন্নি এখন সেন্ট্রাল উইমেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক করছেন। এরইমধ্যে তিনি গানের জন্য জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কৃতও হয়েছেন। ২০১৫ও ’১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শিশু একাডেমি থেকে নজরুল গানের জন্য দুইটি গোল্ড মেডেল ও রৌপ্য পেয়েছেন তিনি।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog