1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন

হিলারিকে অভিযুক্ত করছে না এফবিআই : ফক্স নিউজ

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৬
  • ১৫১ বার

5085720b442c08826d2bf35f2488afb7-581f07644aceaআন্তর্জাতিক ডেস্ক : নির্বাচনি প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রচারণা শিবির মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে আসছে। এমনকি নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মামলারও হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি ফক্স নিউজ যখন হিলারির ক্লিনটনের বিরুদ্ধে এফবিআই অভিযোগ আনছে বলে খবর প্রকাশ করলো তাতে রিপাবলিকানরা খুশি। যদিও হিলারির বিরুদ্ধে এফবিআইয়ের অভিযোগ আনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি তবু এ খবরে ট্রাম্প শিবির খুশি। কারণ এতে করে হিলারির জনপ্রিয়তা কিছুটা হলেও কমে গিয়ে তা ট্রাম্পের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।মার্কিন সংবাদমাধ্য স্যালোন-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ক্লিনটন ফাউন্ডেশন নিয়ে হিলারির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনবে না এফবিআই। যদিও ফক্স নিউজ তার পাঠকদের এই ধারণা দিতে চাচ্ছে বার বার। বুধ ও বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজ বার বার বলেছে, এফবিআই হিলারির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে চাচ্ছে।

স্যালোন-এর খবরে দাবি করা হয়েছে, এফবিআই হিলারির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছে বলে ‘মিথ্যা’ খবর উপস্থাপনা করেন ব্রেট বাইয়ের। উপস্থাপক নিজেই এই খবরের সত্যতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হওয়ার কথা জানালেও খবরটি বেশকিছু মূলধারার সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করে। এছাড়া রিপাবলিকান ও রক্ষণশীলদের ব্লগগুলো ভরে যায় এই খবরে।

প্রচারণার সময় রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক টাইমসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ আনেন। আদালত পর্যন্ত যাওয়ারও হুমকি দেন। যদিও মার্কিন নির্বাচনে পত্রিকাগুলো সব সময়ই কোনও না কোনও প্রার্থীর পক্ষে নিজেদের সমর্থন ঘোষণা করে এবং সেই প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালায়। এটা মার্কিন নির্বাচনে সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে।

তবে ফক্স নিউজ মিথ্যা এই মিথ্যা খবর প্রকাশের পর ট্রাম্প শিবির এটার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলেনি। বরং তারা এতে খুশিই। বরং তারাই এই খবরকে পূঁজি করে নির্বাচনি প্রচারণায় জোর দিচ্ছেন। ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের প্রধান কেলিয়ান কোনওয়ে জানান, খবরটির প্রভাবে তারা বেশ খুশি। বলেন, যাই হোক, হিলারির ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। এটাকে যেভাবেই ব্যাখ্যা করা হোক বা শোনা যাক না কেন- এটা হচ্ছে দুর্নীতির একটি সংস্কৃতি।

ট্রাম্প নিজেও ভোটের কয়েকদিন আগে প্রচারণার বক্তব্যগুলোতে এই খবরকে ব্যবহার করছেন। বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলেতে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, গতরাতে খবর প্রকাশ হয়েছে এফবিআই হিলারির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনতে যাচ্ছে। তদন্তকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রায় বছরখানেক সময় লাগবে। খবর বেরিয়েছে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ওঠে এসেছে। এফবিআই এজেন্টরা জানিয়েছেন তাদের তদন্তের ফলে অভিযোগ আনা হবে।

ওই দিনই নর্থ ক্যারোলিনার সেলমাতে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, হিলারির ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কোনও তথ্য না দিতে এফবিআইকে চাপ দিচ্ছে দেশটির জাস্টিট ডিপার্টমেন্ট। ট্রাম্প বলেন, তাকে (হিলারি) রক্ষা করছে জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট। যা ঘটছে তা আমাদের দেশে পূর্বে ঘটেনি। এফবিআই নিজেদের কাজ করছে অথচ তাদের তা করতে দেওয়া হচ্ছে না। যা ঘটছে তা মোটেই ভালো কিছু না।

হিলারির প্রচারণা শিবিরের প্রেস সচিব ব্রায়ান ফ্যালন এ খবর প্রকাশ নিয়ে একটি টুইটে বলেছেন, ফক্স নিউজের যে মান এতোদিন তারা ধরে রেখেছিল এ খবরে তাও ধুলিস্যাৎ হয়েছে। তাদের জন্যও এটা সম্প্রচার করা লজ্জার।

ক্লিনটন ফাউন্ডেশন-এর বিরুদ্ধে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা তদন্তে গতি আসছে। এখন এই তদন্তটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এফবিআই। সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ। অভিযোগ রয়েছে, হিলারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময়ে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ আর্থিক দুর্নীতি করা হয়েছে।

ফক্স নিউজ জানায়, উইকিলিকস হিলারির ইমেইল ফাঁসের বহু আগেই এফবিআই গোয়েন্দাদের কাছে এ বিষয়ক প্রচুর তথ্য-প্রমাণ মজুদ ছিল। এক সূত্র ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, ‘প্রতিদিনই পাহাড় সমান তথ্য আসছে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, নতুন তথ্যের একাংশ উইকিলিকস-এ প্রকাশিত দলিল ও ইমেইল থেকেও সংগ্রহ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, হিলারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত ব্যক্তিগত সার্ভার থেকে ইমেইল আদান-প্রদান করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে আদান-প্রদান করা ইমেইলগুলোতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়েরও উল্লেখ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল ছাড়া ক্লাসিফায়েড তথ্য আদান-প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ধরনের অনিরাপদ চ্যানেলের মাধ্যমে অতি গোপনীয় ইমেইল ফাঁস হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করে মার্কিন সরকার। তবে ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও হিলারির দাবি, তিনি ভুল কিছু করেননি। হিলারির ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহার করে ইমেইল আদান-প্রদানের কারণে আইন ভঙ্গ হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে তদন্ত শুরু করে এফবিআই। গত ২৯ জানুয়ারিতে সংস্থাটির অনুরোধে হিলারির ২২টিরও বেশি ইমেইলকে ‘অতি গোপনীয়’ বলে ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। আর জুলাই মাসে প্রথম ধাপের তদন্ত সম্পন্ন করে অপরাধের অভিযোগ থেকে এফবিআই হিলারিকে রেহাই দিয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, হিলারি তা ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ করেননি এবং এর ফলে কোনও অপরাধমূলক কাজ করা হয়েছে, এমন নিশ্চিত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সূত্র: স্যালোন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog