1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  3. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন

মঙ্গলবার থেকে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শুমারি শুরু

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭
  • ১৭৮ বার

প্রতিবেদক : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে কক্সবাজারে সদ্য পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের তালিকা করছে সরকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আগামী মঙ্গলবার থেকে এই রোহিঙ্গা গণনা শুরু করবে। জেলার আটটি উপজেলার মধ্যে পাঁচটিতে টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজার সদর, রামু ও চকরিয়ায় রোহিঙ্গা গণনা চলবে।

রোহিঙ্গা গণনার সত্যতা নিশ্চিত করে পরিসংখ্যান ব্যুরো কক্সবাজারের উপপরিচালক মো. ওয়াহিদুর রহমান বলেন, গত বছরের ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের তিনটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় নয় পুলিশ নিহত হয়। এরপর সেখানে সামরিক অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সরকার। অভিযানের মুখে হাজার হাজার রোহিঙ্গা টেকনাফ ও উখিয়ায় পালিয়ে আসেন। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফের একাধিক রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে কক্সবাজার শহর, রামু, চকরিয়া চলে গেছেন। সংশ্লিষ্ট মহল পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৭০ থেকে ৯০ হাজার দাবি করলেও এর সঠিক কোনো তালিকা নেই। তাই এই রোহিঙ্গা শুমারি।
ওয়াহিদুর রহমান বলেন, পাঁচ উপজেলায় রোহিঙ্গার আগমন ঘটেছে, তাই শুমারি হচ্ছে। জেলার সাগরদ্বীপ মহেশখালী ও কুতুবদিয়া এবং উপকূলীয় পেকুয়া উপজেলায় রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই এ তিনটি উপজেলায় রোহিঙ্গা গণনা হচ্ছে না।
পরিসংখ্যান ব্যুরো অফিস সূত্র জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল আটটা থেকে পাঁচটি উপজেলায় একযোগে রোহিঙ্গা শুমারি শুরু হবে। পাশাপাশি উখিয়ার অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবির, বালুখালী অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবির ও টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের তালিকাভুক্ত করা হবে। শুমারি চলবে আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত। এ জন্য ২০০টি পৃথক দলে ৪০০ জন গণনাকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দলে থাকবেন একজন সুপারভাইজার ও একজন গণনাকারী। ইতিমধ্যে সদস্যদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার রোহিঙ্গা শুমারি কার্যক্রম পরিদর্শন করতে কক্সবাজার আসেন পরিকল্পনার মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব এ কে এম মোজাম্মেল হক। তিনি উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ব্যুরো চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. এমদাদুল হক, বাংলাদেশে অবস্থানরত অনিবন্ধিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের গণনা প্রকল্প-২০১৫ প্রকল্প পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন, কক্সবাজার উপপরিচালক মো. ওয়াহিদুর রহমান প্রমুখ।
মো. ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ২০১৫ সালের জুন মাসে বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের প্রথম শুমারি হয়েছিল। তবে ওই শুমারিতে কতজন রোহিঙ্গা শনাক্ত (তালিকাভুক্ত) করা হয়েছে, তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। কারণ, ওই তালিকা এখনো অসম্পূর্ণ। মঙ্গলবার থেকে দ্বিতীয় দফার রোহিঙ্গা শুমারির সময় নতুন আসা রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কয়েক বছর আগে আসা পুরোনো রোহিঙ্গাদেরও তালিকাভুক্ত করা হবে।
কক্সবাজার পিপলস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, রাখাইন রাজ্যে ৯ অক্টোবরের হামলার ঘটনা এবং সে দেশের সেনাবাহিনীর চার মাসের অত্যাচার-নির্যাতনের মুখে টেকনাফ ও উখিয়ায় পালিয়ে আসে রাখাইন রাজ্যের ২৩টি গ্রামের অন্তত ৯৫ হাজার রোহিঙ্গা। এর মধ্যে ৮৪ হাজারের মতো রোহিঙ্গা টেকনাফ ও উখিয়ার পৃথক তিনটি অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। আরও ১১ হাজারের মতো রোহিঙ্গা কক্সবাজার শহরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে। যদিও উখিয়া ও টেকনাফের চারটি রোহিঙ্গা শিবিরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েক বছর ধরে অবস্থান করছে আরও অন্তত পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা।
কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রোহিঙ্গা গণনা করে কোনো লাভ হবে না। যতক্ষণ না রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট কোনো স্থানে রেখে তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা না হয়। এখন রোহিঙ্গারা শিবির থেকে যখন যেখানে ইচ্ছা চলে যাচ্ছে। টেকনাফ ও উখিয়ায় স্থাপিত পাঁচটি রোহিঙ্গা শিবিরের কোনোটিতে সীমানাপ্রাচীর বা কাঁটাতারের বেড়া নেই; নেই কোনো তল্লাশি ফটক। এখন যেসব রোহিঙ্গা তালিকাভুক্ত হবে, কিছুদিন পর তারা অন্য কোনো স্থানে আত্মগোপন করলে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog