1. sardardhaka@yahoo.com : adminmoha :
  2. suzan36076@gmail.com : azad azad : azad azad
  3. mohajog@yahoo.com : Daily Mohajog : Daily Mohajog
  4. nafij.moon@gmail.com : Nafij Moon : Nafij Moon
বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন

পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ স্থগিত যে কারণে

মহাযুগ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০১৮
  • ১২১ বার

অতিমাত্রার বাণিজ্যের কারণেই স্থগিত করা হয়েছে পুলিশের কনস্টেবল পদে লোক নিয়োগ। একের পর এক বাণিজ্যের খবরে সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের বিরক্তির কারণেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। রবিবার পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) পক্ষে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত জরুরি বার্তা পুলিশের অফিশিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

সাড়ে আট হাজার পুরুষ এবং দেড় হাজার নারীসহ মোট ১০ হাজার ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল গত বছরের ২১ ডিসেম্বর। ১৬ জানুয়ারি থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলাওয়ারি এই নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল।

তবে পুলিশ কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া স্থগিত করা নিয়ে নানা আলোচনা শোনা যাচ্ছে। স্থগিতের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সংস্থাপন শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, দেশে তীব্র শীত। এত শীতে প্রার্থীদের শারীরিক পরীক্ষার জন্য খালি গায়ে দাঁড়ানো কষ্টকর। এসব পরিস্থিতি বিবেচনা করে উচ্চপর্যায় থেকে নিয়োগ স্থগিত করা হয়। নিয়োগ আবার কবে শুরু হবে, তা এখন ঠিক হয়নি।

তবে কেউ কেউ বলছেন, এখনই নিয়োগ না হলে প্রশিক্ষণ শেষ করে এসব পুলিশ সদস্য বর্তমান সরকারের মেয়াদে আর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

সূত্র বলছে, পুলিশে কনস্টেবল পদে লোক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় এই বাণিজ্য। একেকজন কনস্টেবলের জন্য ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা করে অগ্রিম নেওয়া হচ্ছিল। অনেক এলাকায় অর্ধেক টাকা নিয়োগের আগে, বাকি অর্ধেক নিয়োগ পাওয়ার পর এমন অলিখিত চুক্তির ভিত্তিতে চলছিল অর্থ আদায়। বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় এমপি ও মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে প্রার্থী সংগ্রহ এবং বাণিজ্যের টাকা সংগ্রহের জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল একাধিক বিশ্বস্ত এজেন্ট।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সরকারের এমপি-মন্ত্রীরাও জড়িয়েছিলেন এই নিয়োগ-বাণিজ্যে। বাণিজ্যের বিষয়টি রীতিমতো ওপেন সিক্রেট হয়ে পড়েছিল।

অন্য একটি সূত্র বলছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বাণিজ্যের একটি ভাগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একটি অংশে পৌঁছে যাচ্ছিল। তবে কনস্টেবল নিয়োগে এমপি-মন্ত্রীদের ‘ডিও’ লেটার বাণিজ্যের বিষয়টি এরই মধ্যে অবহিত হয়েছিল সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক মহল। একের পর এক এ ধরনের খবরে রীতিমতো বিরক্তি প্রকাশ করেন তারা। এ বিষয়টি অবহিত করা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হককে।

এ বিষয়ে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আগে কি তদবির ছিল না? তবে গত কয়েক বছরে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা ধরনের কথা ওঠার কারণে এ বাহিনীর সাবেক প্রধান হিসেবে খুব বিব্রত বোধ করি। একটি ছেলে যখন টাকা দিয়ে নিয়োগ পাবে, তার প্রথম টার্গেটই হবে কীভাবে বিনিয়োগকৃত টাকাটা ওঠাবে। ৩০ থেকে ৩৫ বছরের চাকরিজীবনে সাধারণ মানুষ তার কাছ থেকে যন্ত্রণাই পাবে। তবে কয়েকটা জেলার এসপিরা যথেষ্ট স্বচ্ছতার সঙ্গেই তাদের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। তাদের কাছ থেকে জনগণ সহায়তাও পাচ্ছে।’

তিনি বলেন, পুলিশের উচ্চপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তাই সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে নিয়োগসহ বিভিন্ন মৌলিক সমস্যা নিয়ে কথা বলেন না। তবে তারা নিজেদের স্বার্থ নিয়ে কথা বলেন। এ কারণে এসব সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে।

প্রায় একই কথা বলেন আরেক সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ হাদিস উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক চাপ কোন সময় ছিল না! নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চাপ থাকলেই কি সংশ্লিষ্ট এসপিকে তা শুনতে হবে? নৈতিকতার শক্তি থাকলে তিনি তা অগ্রাহ্য করবেন এটাই নিয়ম। এতে করে সরকারের ইমেজই বাড়বে। ওই জেলায় না থাকলে সমস্যা কী। সর্বোচ্চ অন্য জেলায় বদলি হতে পারেন এই তো!’

নিজের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও ঢাকা জেলার এসপি ছিলাম। তৎকালীন এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর তদবির না শোনার কারণে আমাকে অন্যত্র বদলি হতে হয়েছিল। তবে আমি আমার তৎকালীন আইজিপি স্যারের কাছে কৃতজ্ঞ, তিনি ওই মন্ত্রীর কথা অনুযায়ী তত্ক্ষণাৎ আমাকে বদলি করেননি। করেছিলেন ছয় মাস পর।’

হাদিস উদ্দীন বলেন, নিয়োগের বিষয়টি মনিটরিংয়ের জন্য পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে উচ্চ একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করে দেওয়া উচিত। প্রয়োজনে তারাই পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জেলায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এতে করে সংশ্লিষ্ট জেলার এসপিরা কোনো চাপে থাকবেন না।

পুলিশ বাহিনীর কনস্টেবল নিয়োগ নিয়ে সব সময়ই নানা দুর্নীতি ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কিছু নেতার কাছে চাকরিপ্রার্থীরা ধরনা দিতে শুরু করেন। সরকারের উচ্চপর্যায়েও এ খবর চলে যায়। গত রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত শোকসভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘পুলিশ কনস্টেবলের চাকরির টাকার ভাগাভাগিতে অংশ নেওয়া নেতা আওয়ামী লীগে প্রয়োজন নেই।’

পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বর্তমান আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক আগামী মাসে স্বাভাবিক অবসরে যাচ্ছেন। এরপর নতুন আইজিপি দায়িত্ব নেবেন। নিয়োগের তারিখ পেছানোর ক্ষেত্রে এ বিষয়টিও কারণ হিসেবে থাকতে পারে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Mohajog